বাঙালি বাবু

বাঙালি বাবু এখানে আপনি আপনার পছন্দ মতো কাঠের আসবাপত্র পাবেন এবং অতি যত্নের সহিত আপনার কাঠ চেরাই করতে পারবেন🙏🙏

এখানে আপনি আপনার পছন্দ মতো কাঠের আসবাপত্র এবং কাঠ ছেরাই করতে পারবেন

24/01/2024

জয় শ্রী রাম 🙏🙏

02/07/2023

11/06/2023

My new phone Google pixel 6a Unboxing 🤘🤘📱📱📱

ক্লিওপেট্রাপর্ব- ০৪প্রায় দু'মাস হতে চলল মেয়েটার আগমনের। তবে এটাকে ঠিক আগমন বলা যায় কি না জানিনা। মাঝরাতে কোত্থেকে এসে যে...
01/06/2023

ক্লিওপেট্রা
পর্ব- ০৪

প্রায় দু'মাস হতে চলল মেয়েটার আগমনের। তবে এটাকে ঠিক আগমন বলা যায় কি না জানিনা। মাঝরাতে কোত্থেকে এসে যেন উদয় হয়। সকাল হতেই চলে যায়। ওর এ রহস্যের উদঘাটন কবে করতে পারব তা একমাত্র সৃষ্টিকর্তাই জানেন।

ক্লিওপেট্রার কিছু কিছু বিষয় অত্যন্ত রহস্যময়। যেগুলোর কোনো লজিক আমি আপাতত খুঁজে পাচ্ছি না। যেমনঃ বাড়ির সকলের মনের কথা ও শুনতে পারে। বুঝতে পারে কে কী ভাবছে। আবার এমন একটা স্থান যেখানে ও উপস্থিত নেই কিংবা ছিলনা। কিন্তু সে স্থানে কী ঘটেছে সেটা সে স্পষ্ট বলে দিতে পারে! যেন সবকিছু সে নিজের চোখে প্রত্যক্ষ করেছে।

অফিসে আমার সহকর্মী একটা মেয়ে আমাকে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। ওর নাম ফারিয়া। ক্লিওপেট্রার থেকে রেহাই পেতে আমি ফারিয়ার প্রস্তাবে রাজি হবার স্বীদ্ধান্ত নেই। কিন্তু ক্লিওপেট্রা আশ্চর্যজনকভাবে সেটা টের পেয়ে যায়। আমাকে হুমকি দেয় ফারিয়ার থেকে দূরে থাকতে।
আমি ক্লিওপেট্রার নিষেধ শুনিনি। ফারিয়ার সঙ্গে আরো বেশি করে মিশতে শুরু করি। রোজ দু'জনে একই সঙ্গে একই বাসে অফিসে যাই। ফিরিও একই সঙ্গে। অফিসের ক্যান্টিনে একসঙ্গে লাঞ্চ করি। এভাবে চলতে থাকলে হয়তো কোনো সমস্যার সৃষ্টি হতো না। কিন্তু ফারিয়া একদিন বিরাট ভুল করে বসে। একদিন অফিস ছুটির দিনে ও আমাকে ফোন করে বলে আমার সঙ্গে ওর খুব জরুরী দরকার। দেখা করতে। কথা ছিল মার্কেটের সামনে দেখা করবার। ফারিয়া এসে বলে আজ লাঞ্চে ও আমাকে ট্রিট দিতে চায়। আমি আগ্রহ দেখাই না। ফারিয়া জোরাজুরি শুরু করে। বাধ্য হয়ে রাজি হই। লাঞ্চ থেকে ফেরার সময় রিকশায় ফারিয়া হঠাৎ আমার গালে টুপ করে চুমু খেয়ে বসে। ব্যাস! এটাই ওর জন্য কাল হয়ে দাঁড়ায়।

পরদিন ফারিয়া অফিসের উদ্দেশ্যে বেরিয়েছিল। সিড়ি বেয়ে নামার সময় ওকে না কি কেউ একজন পেছন থেকে ধাক্কা দেয়! তৎক্ষনাৎ ও সিড়ির গায়ে গড়াতে গড়াতে নিচে পড়ে যায়। মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে ওর। হাসপাতালে ভর্তি করানো হয় ওকে। জ্ঞান ফেরার আগে একবার এবং পরে দু'বার ওকে দেখতে গিয়েছিলাম। ওই আমাকে তৃতীয়বারের সময় সব খুলে বলে। আমি বুঝে যাই এ কাজ কার হতে পারে।

সেদিন রাতে ক্লিওপেট্রা এলে ওকে জেরা করি ও কেন এমনটা করল। ও বলে, 'আমি তো এমনটা করতে চাইনি আহান! তুমিই আমাকে বাধ্য করেছ। তুমি যদি আমার কথা শুনতে...।'

আমি ক্লিওপেট্রাকে থামিয়ে দেই। 'চুপ! একদম চুপ! তোমার সঙ্গে আমি আর একটা কথাও বলতে চাইনা। তোমার মতো বর্বর, নিকৃষ্ট প্রাণীর সঙ্গে কথা বলা তো দূর তোমার মুখও আমি দর্শন করতে চাইনা। তুমি আমার জীবন থেকে চলে যাও! মুক্তি দাও আমাকে!'

এরপর এক সপ্তাহ রাগ করে ক্লিওপেট্রা আর আসেনি। সাতদিন পর আবারও কোত্থেকে এসে যেন উদয় হয়। আমি জিজ্ঞেস করি, ' নির্লজ্জের মতোন আবার ফিরে এলে কেন? তোমাকে না চিরতরে চলে যেতে বলেছি?'

ক্লিওপেট্রা উত্তর দেয়, 'কীভাবে যাবো বলো! তোমাকে যে আমার খুব দরকার!'

আমি রাগত স্বরে বলি, 'আমাকে কেন দরকার তোমার? কীসের জন্য? '

ও বলল, 'কাল রাতে আমি তোমাকে সব বলবো। সব বলতেই তো ফিরলাম। কিচ্ছু লুকাবো না। এরপরও যদি তোমার মনে হয় আমি ঘৃণ্য, পশুর চেয়েও নিকৃষ্ট তাহলে আমার আর কিছুই করার নেই। গলায় দড়ি দেবা ছাড়া।'

কিছুসময় থেমে ক্লিওপেট্রা আবার বলল, 'একটা জরুরী কথা তোমাকে আজকেই জানানো দরকার। নয়তো আরো দেরিতে বললে হয়তো তুমি খুব রাগ করবে।'

আমি জানতে চাইলাম, 'কী কথা?'

ও জোরে একটা নিশ্বাস নিয়ে নরম স্বরে বলল, 'আমি মিথি! তোমার মিউ!'

আমি জ্ঞান হারালাম। সকালে আর অফিসে যেতে পারলাম না। একটা ঘোরের মধ্যে রইলাম সারাদিন। মা এসে একটু পরপর জিজ্ঞেস করতে লাগল, 'আহান! বাবা আমার! তোর শরীর খারাপ লাগছে?'

আমি প্রতি উত্তরে 'না' বললেও মা থামলো না। প্রতি ঘন্টায় অন্তত পাঁঁচবার এসে এই এক কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগল।

ওই ঘটনার পর আমি মিথিকে কোলে নেওয়া সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিলাম। যতটা পারলাম ওর থেকে দূরে রইলাম। কিন্তু মিথি যেন হাল ছাড়বার পাত্রী নয়! ও সারাদিনই আমার আশেপাশে ঘুরঘুর করতে লাগল। পায়ে পায়ে হাঁটতে লাগল। যেখানেই পা রাখতে নেই সেখানেই গিয়ে দাঁড়ায়। বিরক্ত হয়ে মা'কে বললাম ওকে মায়ের ঘরে বন্দী করে রাখতে। আমার এহেন আচরণে মা প্রচন্ড অবাক হল। আমার এত আদরের পোষা প্রাণীকে হঠাৎ দূরে ঠেলে দিচ্ছি বলে।

সেদিন রাতেই আবার ক্লিওপেট্রা কিংবা মিথি যেটাই হোক মেয়েটা আমার ঘরে আসল। ঘুম ভাঙ্গতেই পাশে দেখতে পাই ওকে। আমাকে জাগতে দেখে ও শোয়া থেকে উঠে বসে। বলে, ' আহান তোমাকে আমার অনেক কিছু বলার আছে।'

আমি জবাব দেই না। ও আবার বলে, 'আমি জানি তুমি রাগ করে আছো। আচ্ছা ঠিকাছে আজ তোমাকে কোনো কথা বলতে হবে না। আজ শুধু আমি বলবো, তুমি শুনবে।'

কিছুক্ষণ থেমে দম নিয়ে ক্লিওপেট্রা আবার বলতে শুরু করে,

'আমার বাবা ছিলেন মিশরীয়। আর মা আমেরিকান। বাবা ব্যাবসার কাজে আমেরিকা গেলে মায়ের সঙ্গে তার সেখানে পরিচয় হয়। তাদের পরিচয় ধীরে ধীরে প্রণয়ে রূপ নিতে থাকে। একসময় তারা বিয়ে করার স্বীদ্ধান্ত নেন। কিন্তু বাবা মুসলিম হলেও মা ছিলেন খ্রিষ্টান। তাই বাবার পরিবার মা'কে মেনে নেন না। মা বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তার বাবা মারা যায়। আমার নানুর একমাত্র মেয়ে ছিল আমার মা। মেয়ের পছন্দে তিনি আর দ্বিমত করেননি। তাই মায়ের তরফ থেকে তেমন কোনো সমস্যা তৈরি হয়নি।
বাবার পরিবারের সৃষ্ট অনেক ঝড় ঝঞ্জাটের পর বাবা-মা পরিবারের অমতেই বিয়ে করেন। বিয়ের পর মা আর বাবা মিশরেই থাকতেন। পরিবার থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ায় বাবার আর্থিক অবস্থা খুব একটা ভালো ছিল না। তাই ব্যাংক থেকে মোটা টাকার লোন নিয়ে পার্টনারশিপে ব্যাবসা শুরু করেন। মোটামুটি চলছিল বাবার ব্যাবসা।
কিন্তু আমার বড় বোন জন্ম নেবার কিছুদিন পর হঠাৎই বাবার ব্যাবসায় ধ্বস নামে। আগে থেকেই বাবার ব্যাবসার অবস্থা খুবই জটিল ছিল। কিছুতেই উন্নতি করতে পারছিলেন না। তার মধ্যে আবার প্রতারণার শিকার হন। বাবার ব্যাবসার সহযোগীই বাবাকে ধোঁকা দেয়। ফলে সংসারে নুন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থার সৃষ্টি হয়। তার ওপর আবার ব্যাংকের মোটার টাকার ঋণ তখনও শোধ হয়নি। এমনও দিন গিয়েছে মা-বাবা শুধু মাত্র এক টুকরো রুটি খেয়ে দিন-রাত পার করে দিয়েছে। এমতাবস্থায় মা বাবাকে পরামর্শ দেয় আমেরিকায় চলে যাবার। আমেরিকায় মায়ের কিছু জায়গা- জমি আছে। সেগুলো বিক্রি করলে নিশ্চয়ই ঋণ পরিশোধ করতে পারবে।
আমেরিকায় চলে যাবার পর মায়ের জমি বিক্রি করে বাবা কিছু টাকা আয় করেন। সে টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করে পুনরায় ব্যাংক থেকে লোন তোলেন। ব্যাবসা শুরু করার কিছুদিন পর আমি জন্ম নেই। আমি জন্ম নেবার পর থেকেই না কি অদ্ভুতভাবে বাবার ব্যাবসা রমরমাভাবে চলতে আরম্ভ করে। আমাদের আর্থিক অবস্থায় স্বচ্ছলতা ফিরতে শুরু করে। সংসারেরও উন্নতি হয়। সেজন্য বাবা আমাকে তার ভাগ্যলক্ষ্মী ভাবতে শুরু করেন।
প্রাচীন মিশরের রানী ছিলেন ক্লিওপেট্রা। তিনি ছিলেন মিশরের সর্বশেষ ফারাও এবং নারী শাসক। গ্রিক মিথ অনুযায়ী তিনি ছিলেন অসম্ভব রকমের রূপবতী এবং একই সঙ্গে অশেষ গুনের অধিকারী। তার সৌন্দর্যে পাগল হত না এমন কোনো মানুষ ছিল না। তার গুন সবাইকে মুগ্ধ করে দিত। তার গভীর নীল চোখের দিকে তাকালে না কি চোখ ফেরানো দায় হয়ে পড়তো।
তার রূপের সঙ্গে আমার বাবা-মা আমার মিল খুঁজে পান। এমনকি কাকতালীয়ভাবে আমার চোখও গভীর নীল রঙের। আমার বাবার বিশ্বাস ছিল আমি বড় হয়ে তার মতোই গুনবতী এবং বিচক্ষণ হব। এছাড়া বাবা ভাবতেন আমিই একদিন তার গৌরবের কারণ হব। তাই তিনি রানী ক্লিওপেট্রার নামের সঙ্গে মিল রেখে আমার নাম রাখেন ক্লিওপেট্রা! বাবার গৌরব!

আফসোস! বাবার জীবদ্দশায় আমি বাবার গৌরবের কারণ হতে পারিনি। আমার যখন বারো বছর বয়স তখন বাবাকে খুন করা হয়। শুধুমাত্র বাবার সম্পত্তির লোভে। কারণ তখন আমরা পুরোপুরি স্বচ্ছল হয়ে পড়েছিলাম। ইতোমধ্যেই বাবার অঢেল সম্পত্তি হয়ে গিয়েছিল। বাবাকে কে বা কারা খুন করে আমরা জানতে পারিনি।
বাবা মারা যাওয়ার পর মা-ই তার ফেলে যাওয়া ব্যাবসা সামলাতে শুরু করেন। বিধবা, একাকী পেয়ে মা'র দিকে যারা চোখ তুলে তাকানোরও সাহস পেত না তারাই মা'কে খারাপ প্রস্তাব দিতে শুরু করে। মা বুদ্ধিমত্তার সাথে প্রতিটি পরিস্থিতিই নিয়ন্ত্রণ করেছে। কিন্তু একবার এক ক্ষমতাশালী প্রচুর বিত্তবান লোকের নজর পড়ে মায়ের ওপর। মা তাকে নাকচ করে দিলে মা'কে সে হুমকি দেয়। আমাদের ক্ষতি করবে। তাই মা শহর ছেড়ে গ্রামে পালানোর পরিকল্পনা করে। মায়ের পরিকল্পনার কথা একমাত্র মায়ের বেস্টফ্রেন্ড এলেক্সাই জানত। এলেক্সা মা'কে জানায় সে সবরকমের সাহায্য করবে মা'কে পালানোর জন্য।
টাকার কাছে আজীবনের বন্ধুত্বও বোধহয় অর্থহীন! অঢেল টাকার লোভে এলেক্সা ওই লোককে মায়ের পরিকল্পনার কথা জানিয়ে দেয়। ওই লোক এবং এলেক্সা মিলে নতুন ষড়যন্ত্র করে।

চলবে...

লেখা: ত্রয়ী আনআমতা

(আপনাদের ভালো লাগা মন্দ লাগা জানিয়ে যাবেন। আমার পড়াশোনা, বাড়ির কাজ, শরীর খারাপ সবকিছু পেরিয়ে আপনাদের ভালোবাসায় রোজ লিখতে বসি।🙃)

ক্লিওপেট্রা পর্ব- ০২ + ০৩খোলা জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকে ঘরটাকে হিমশীতল করে তুলেছে। গায়ে একটা সুতোও না থাকায় ঠান্ডায় মেয়েটা ...
31/05/2023

ক্লিওপেট্রা
পর্ব- ০২ + ০৩

খোলা জানালা দিয়ে বাতাস ঢুকে ঘরটাকে হিমশীতল করে তুলেছে। গায়ে একটা সুতোও না থাকায় ঠান্ডায় মেয়েটা বারবার কেঁপে কেঁপে উঠছে। হঠাৎই ওর জন্য কেমন মায়া অনুভব করলাম আমি। সাদা লেপটা ওর গায়ে আলতো করে জড়িয়ে দিলাম। ও ওপাশ ফিরে শুয়ে আছে। আমার ওর মুখটা ভীষণ দেখতে ইচ্ছে করল। আমি উঁকি মারলাম ওপাশটায়। এই প্রথম ওর চুল আমার নজর কাড়ল। কাঁধ অব্দি ঘন কালো চুল। কিছু চুল মুখে লেপ্টে আছে। আমি হাত দিয়ে সেগুলো ওর কানের পাশে গুঁজে দিলাম। ও মৃদু নড়ে উঠল। আর আমার টনক নড়ল। এসব আমি কী করছি! এত বড় মোক্ষম সুযোগটাকে আমি এসব করে নষ্ট করছি! আর এক মুহূর্তও সময় নষ্ট করলাম না।
ধীরে ধীরে বিছানা ছেড়ে নামলাম। নিঃশব্দে বেডরুমের দরজা খুলে বাইরে বেরিয়ে আবার দরজা লাগিয়ে দিলাম। যাতে মেয়েটা সুযোগ পেয়ে পালাতে না পারে। মা'কে, অহনা'কে ঘুম থেকে ডেকে তুললাম একটা জিনিস দেখাবো বলে। মা, অহনা তাদের ঘর থেকে বেরিয়ে এল। অহনা চিৎকার - চেঁচামেচি করতে লাগল। 'এই রাত দুটোর সময় তুই আমাদের কোন আক্কেলে ঘুম থেকে ডেকে তুললি ভাইয়া? '

আমি বললাম, 'আরে চুপ করে আয় তো। তোদের একটা ম্যাজিক দেখাব!'

মা ভ্রু কুঁচকে বলল, 'বুড়ো বয়সে ভীমরতি। এই আটাশ বছর বয়সে এসে উনি আমাদের পাঁচ বছরের বাচ্চাদের মতো ম্যাজিক দেখাবেন।'

আমি কারো কথাই কানে তুললাম না। কিছুক্ষণ পরে কী হতে যাচ্ছে ভেবে উত্তেজনায় আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে। আমার ভাবনায় ছেদ ঘটিয়ে মা বলল, 'কী হল? খুলছিস না কেন দরজা?'

আমি দরজা খুললাম। ডিম লাইটের আবছা আলোয় দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ভেতরের কিছু স্পষ্ট দেখা গেল না। আমি সুইচ চেপে আলো জ্বালালাম। মেয়েটা লেপ গায়ে বাকা হয়ে শুয়ে আছে। ওকে দেখে বিস্ময়ে মা'র আর অহনার মুখ হা হয়ে গেল। মনে মনে ওরা কী ভাবছে কে জানে!
হঠাৎই মা 'আল্লাহ গো' বলে জোরে চিৎকার দিল। আচমকা অজ্ঞান হয়ে গেল। আমি দৌড়ে মায়ের কাছে গেলাম। অহনা মা'কে নিজের কোলে শুইয়ে দিয়ে ডাকতে লাগল। 'মা! মা! চোখ খুলো।'

আমি মায়ের হাত ধরে বললাম, 'কী হল মা! মা গো তোমার কী হল!'
অহনা এক ঝটকায় আমার কাছ থেকে মায়ের হাত সরিয়ে নিল। আমার দিকে ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে বলল, 'তুই ছুবি না আমার মাকে! খবরদার! তোর মতোন নোংরা ছেলে যেন আমার মাকে না ছোয়!'

আমি ওর কথার পাত্তা না দিয়ে দৌড়ে পানি আনতে চলে গেলাম। ফিরে আসতেই অহনা ছো মেরে আমার হাত থেকে পানির বোতল নিয়ে নিল। মায়ের মুখে পানির ছিটা দিতেই পা পিটপিট করে চোখ খুলল। হাতের ইশারায় আমাকে কাছে যেতে বলল। আমি মায়ের কাছে গেলাম। মা অহনাকে ধরে উঠে বসল। বসেই ঠাস করে আমার গালে চড় মেরে দিল। লজ্জায় আমার ইচ্ছে করল মাটির নিচে ঢুকে যেতে। এই বয়সে এসেও মায়ের হাতে মার খাচ্ছি।

মা হাঁপাতে হাঁপাতে বলতে লাগল, 'কোন কুলাঙ্গারকে পেটে ধরেছি আমি! এতদিন ভাবতাম আটাশ হয়ে গেল ছেলের বাচ্চামি এখনো যায়নি! আর আমাদের চোখে ধূলো দিয়ে তলে তলে এত কিছু! ছি ছি ছি। পাশের ফ্ল্যাটের ভাবি যদি একবার জানতে পারে পুরো ঢাকা শহর ছড়িয়ে যাবে এ খবর। হায় আল্লাহ! এগুলো দেখার জন্য তুমি আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছো!'

আমি মাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, 'মা তুমি এসব কী বলছ? আমার কথাটা তো শুনবে একটাবার!'

অহনা চেঁচিয়ে বলল, 'কী শুনবে মা? তুই শোনার মতো আর কী বাকি রেখেছিস? রাত-বিরেতে একটা পরনারী তোর বিছানায়...ছিহ!'

আমি অনুরোধের স্বরে বললাম, 'আমার কথাটা তোরা বিশ্বাস কর প্লিজ! ওই মেয়েকে আমি চিনি না!'

মা তাচ্ছিল্যের ভঙ্গিতে হাসল। 'দেখ ছেলে কী বলছে! ওর বেডরুমে শুয়ে। আর ও না কি চেনেই না!'

আমি হাত জোড় করে বললাম, 'মা প্লিজ আমাকে বিশ্বাস কর! ওই মেয়ে গত তিনদিন যাবৎ রোজ মাঝরাতে কোত্থেকে যেন উদয় হয়। আর আমি ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি আমার পাশে শুয়ে। তাইতো তোমাদের ঘটনাটা জানানোর উদ্দেশ্যে নিয়ে আসলাম!'

আমার কথা শেষ না হতেই অহনা মা'কে বলতে লাগল, 'মা তুমি ওর কথায় কান দিও না তো। ধরা পড়ে গেছে তো তাই ভুলভাল বকছে।'

মা অহনাকে নিয়ে চলে যাবার জন্য পা বাড়াল। যাবার আগে আমাকে বলে গেল, 'কাল সকালেই তোদের আমি বিয়ে দেবো। তারপর দুটোকে এক কাপড়ে ঢাকা শহর ছাড়া করব।'

আমি হাজার চেষ্টা করেও মা'কে সত্যিটা বোঝাতে পারলাম না।

মা চলে যেতেই আমি মেঝেতে ধপ করে বসে পড়লাম। কী হল এটা আমার সাথে! মেয়েটাকে ফাসাতে গিয়ে সে ফাঁদে আমি নিজেই ফেসে গেলাম। আমি তো কোনো দোষ করিনি! তাহলে ওর স্থানে আমার কেন এগুলো শুনতে হচ্ছে!
বসা থেকেই আমার চোখ গেল বিছানার ওপর। কী সুন্দর আরামে ঘুমোচ্ছে দেখো! ওর ঘুমের যদি আমি বারোটা না বাজাই! তবে আমার নামও আহান না।
বসা থেকে উঠে ভেতর থেকে ছিটকিনি লাগালাম দরজায়। তারপর ওয়াশরুমে চলে গেলাম। এক বালতি ঠান্ডা পানি নিয়ে বেরোলাম। উদ্দেশ্য মেয়েটার গায়ে ঢালা। তাহলেই আমার পরাণ জুড়োবে। ওর মোক্ষম শাস্তিই এটা। এই শীতে ওর গায়ে ঠান্ডা পানি ঢাললে ওর কেমন অনুভূতি হবে ভেবেই আমার পৈশাচিক আনন্দ হচ্ছে।

পানি নিয়ে বিছানার কাছে পৌঁছাতেই দেখি মেয়েটা উধাও! আশ্চর্য! এই মাত্রই শুয়ে ছিল এখানটায়। কোথায় চলে গেল। দরজাও ভেতর থেকে লাগানো। এই মেয়ে কি জাদু জানে! ঘরে কোথাও লুকিয়ে আছে ভেবে সারাঘর খুঁজে তন্নতন্ন করলাম। কোথাওই নেই।
ওহহো! খাটের নিচটায় চেক করতে ভুলে গেছি। খাটের তলায় উঁকি মারতেই দেখলাম মিথি দলা পাকিয়ে বসে আছে। হাত দিয়ে টেনে ওকে বের করে আনলাম। কিন্তু ও আমার কাছে এল না। উল্টো হাতে কামড়ে দিল। আর আমার থেকে দূরে দাঁড়িয়ে রুক্ষ স্বরে মিউ মিউ করতে লাগল। আমি বুঝতে পারলাম না হঠাৎ ও এমন ব্যবহার কেমন করছে! ও তো এমন স্বভাবের মার্জার নয়! ওর মতো নম্র, মিশুক বিড়াল আমি আর দুটো দেখিনি। আজ ওর কী হল!
আচ্ছা ও কী কিছু দেখেছে! ওই মেয়েটার ব্যাপারে! যার কারণে ভয়ে কিংবা রাগে এমন রূঢ় আচরণ করছে!
আমি নিচু হয়ে বসে মিথিকে কাছে ডাকলাম। ও এল না। হেঁটে ঠান্ডা পানির বালতির কাছে চলে গেল। বালতির দিকে মুখ করে বসে আবারও রুক্ষ স্বরে মিউ মিউ করতে লাগল। আমার মাথায় কিছুই খেলছে না।

সকালে এলার্মের শব্দে ঘুম ভাঙ্গল। রোজ এলার্ম বাজার আগেই মা আমাকে ঘুম থেকে তুলতে আসে। আজ আসেনি। বোধহয় কালকের বিষয়টা নিয়েই রেগে আছে। হাত মুখ ধুতে গিয়ে খেয়াল করলাম হাত আচড়ে ভর্তি। মিথির কাজ এটা। কাল যখন বালতির কাছে বসে মিউ মিউ করছিল। তখন ওকে জোর করে কোলে তুলতে গিয়েছিলাম। তবুও কোলে আসেনি। উল্টো রেগে হাত আঁচড়ে রক্ত বের করে দিয়েছে। বাহ! বাড়ির প্রত্যেকটা সদস্যই আমার ওপর রেগে। কোনো দোষ না করেও সবার রাগ সহ্য করতে হচ্ছে আমার।

আমি না খেয়েই অফিসে চলে গেলাম। মা একবার পেছন ফিরে ডাকলও না।

অফিসে বসে কাজ করছি। হঠাৎ বস নিজে এসে বলল, আমার ছুটি। বাসায় চলে যেতে। একরাশ কৌতুহল নিয়ে বাসায় ফিরলাম। ঘরে ঢুকতেই মা 'ওই মেয়েটা কই?' বলে চেঁচামেচি শুরু করল। আমি বললাম, 'আমি কীভাবে জানব মা? ওই মেয়েকি আমাকে বলে যাওয়া আসা করে?'

মা আরো রেগে গেল। বলল কেমন মেয়ের সাথে সম্পর্ক রেখেছি যে আমার কথা শোনে না!
হায়রে! মা'কে আমি আর কীভাবে বোঝাবো!

আমি মাকে জিজ্ঞাসা করলাম। 'মা তুমি ওই মেয়েকে দিয়ে কী করবে?'

মা ঠান্ডা কন্ঠে বলল, 'তোদের বিয়ে দেবো।'

আমি একপ্রকার চিৎকার করে বললাম, 'অসম্ভব! ওই মেয়েকে আমি কেন বিয়ে করতে যাব?'

মা কঠোর গলায় বলল, 'নিজের শোবার ঘরে নিয়ে শুয়ে থাকার সময় মনে ছিলনা?'

লজ্জায় আমার চোখে পানি চলে এল। মা প্রচন্ড রেগে গেলে বিশ্রী ভাবে কথা শোনায়। তারই নমুনা এটা। বুঝলাম এখন আর মায়ের সঙ্গে তর্ক করে লাভ নেই। চুপচাপ এখান থেকে কেটে পড়াটাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
আমি নিজের ঘরে চলে এলাম। দরজা আটকে টাইটা ঢিলে করতে করতে বিছানায় গা এলিয়ে দিলাম।

সকাল থেকে কিছুই খাইনি। রাতেও মা খেতে ডাকল না। আমিও রাগ করে না খেয়েই রইলাম।

রাত বারোটা বেজে ত্রিশ মিনিট। সেই কখন শুয়েছি। এখনো ঘুম আসছে না। পেটে খিদে থাকায় বোধহয়। আমার রুমের দরজা খোলা। ইচ্ছে করেই খুলে রেখেছি। মনে মনে ঠিক করে রেখেছি যেভাবেই হোক আজ ওই মেয়ের পরিচয় জানবোই! কে সে! কোথায় থাকে! কেন রোজ মাঝরাতে আমার ঘরে আসে! আমার কাছে কী চায়!

রাত দুটো বেজে পনেরো মিনিট। আমি বিছানায় কপালে হাত দিয়ে চোখ বন্ধ করে শুয়ে আছি। হঠাৎ ঘরে কারো উপস্থিতি টের পেলাম। পা টিপে টিপে হেঁটে কেউ বিছানার কাছে এগিয়ে আসছে। আগন্তক আমার পাশে শুয়ে আমাকে জড়িয়ে ধরল। আমি চোখ না খুলেই বুঝে গেলাম আগন্তুক আসলে কে!
আমি ধীরে ধীরে চোখ খুলে আমার পাশে তাকালাম। আমি যেটা ভাবছিলাম সেটাই। সেই মেয়েটা! আমি জলদি ওর ওপর থেকে দৃষ্টি সরিয়ে নিলাম। আজও নগ্ন হয়ে আছে মেয়েটা। অসভ্য মেয়ে কোথাকার! ওর কি কোনো জামাকাপড় নেই না কি? আদিমকাল থেকে উঠে এসেছে?
আমি লেপ দিয়ে ওর শরীর ঢেকে ওর হাতদুটো চেপে ধরলাম। মেয়েটা আৎকে উঠে বলল, 'কী হল! কী হল আহান!'

আমি আরো জোরে ওর হাত চেপে ধরলাম। 'তুমি কে?'

মেয়েটা আমার বুকের বাম পাশে ওর হাত রাখল। মৃদুস্বরে বলল, 'আমি তোমার ক্লিওপেট্রা! '

চলবে...

লেখা: ত্রয়ী আনআমতা

(পরের পর্ব লিখবো? আপনাদের রেসপন্স আশা করছি।)

ক্লিওপেট্রা
পর্ব- ০৩

ক্লিওপেট্রা!
নামটা শুনে বুকটা ধ্বক করে উঠল কেন যেন। ক্লিওপেট্রা! মেয়েটার নাম কি তবে ক্লিওপেট্রা?
আর কিছু ভাবার সুযোগ পেলাম না। দু চোখে আঁধার নেমে এল।

রোজ সকালে ঠিক আটটায় আমার ঘুম ভাঙ্গে। হয় মায়ের ডাকে। নয়তো এলার্মের শব্দে। হঠাৎ ব্যাতিক্রম হলো কেন জানিনা। আজ ভোর হতেই জেগে গেলাম। উঠে দেখি বরাবরের মতো মেয়েটা উধাও।
গতকাল সারাদিন পেটে কিছু পরেনি। খিদেয় পেট চোঁ-চোঁ করছে। তাই আর দেরি করলাম না। রাগ বিসর্জন দিয়ে জলদি ব্রাশ করে খেতে চলে গেলাম। রান্নাঘরে ঢুকে দেখি মা রুটি বেলছে। আমাকে দেখেও না দেখার ভান করল। মায়ের রাগটা এখনো পড়েনি। টেবিলে গিয়ে বসতেই অহনা প্লেটে করে রুটি - ভাজি নিয়ে এল। আমার সামনে এগিয়ে দিয়ে বলল, 'মা তোকে খেয়ে বিদেয় হতে বলেছে।'

আমি বললাম, 'এত সকালে কই যাব? আজ তো শুক্রবার। অফিসও নেই!'

অহনা ঝাড়ি দিয়ে বলল, 'সেটা আমরা কীভাবে বলবো!'

আমি খেয়ে আমার শোবার ঘরে চলে এলাম। ওয়ালেটটা পকেটে ভরে শার্টটা বদলে ঘর থেকে বেরোলাম। খাবার ঘরের সামনে দিয়ে যাবার সময় শুনলাম মা আর অহনা খেতে খেতে আমার ব্যাপারে কিছু একটা বলছে। কান পাততেই শুনতে পেলাম মা বলছে, 'আহান এমন একটা কান্ড ঘটালো আমি এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। আমার ছেলেটা তো অমন নয়! আমার মনে হচ্ছে মেয়েটাই ডাইনী। ওই ডাইনীই আমার সহজসরল ছেলেটাকে ফুসলিয়ে...! '

অহনা মায়ের কথা পুরো শেষ করতে দিল না। 'আচ্ছা মা তোমার ছেলে কি কঁচি খোকা যে ওকে ফুসলিয়ে যেকোনো মেয়ে ওর বেডরুমে ঢুকে পড়বে?'

'যেকোনো মেয়ে বলছিস কেন? বল ওই ডাইনীটা। ওই ডাইনীটা নিশ্চয়ই ওমন ধরনের মেয়ে। তাই আমার ছেলেকে বোকা পেয়ে!'

'চুপ করো তো, মা! তোমার কথা আমার অসহ্য লাগছে। তোমার ছেলে যে কত দুধে ধোঁয়া তুলশী পাতা তা তো সেদিনই টের পেলাম।'

মা অহনার হাত ধরে বলল, 'আচ্ছা তুইই বল। তোর ভাইটা কি অমন?'

অহনা কিছু বলল না। চুপ করে রইল।

আমি আর সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে পারলাম না। বাইরে বেরিয়ে এলাম।

দু'ঘন্টা যাবৎ এখানে সেখানে ঘুরছি। কিছুই ভালো লাগছে না। আচমকা মনে পরল অহনার লিপস্টিক খুব পছন্দ। ও যদি আমাদের ফ্ল্যাট থেকে পাশের ফ্ল্যাটের আন্টিদের বাসায়ও যায় তবুও লিপস্টিক দেবেই। লিপস্টিক আর অহনা একে অপরের বেস্টফ্রেন্ড।
তাই ঘুরতে ঘুরতে মার্কেটে ঢুকে পড়লাম। একটা কসমেটিকসের দোকানে গিয়ে তাদের সাজেস্ট করা ব্রান্ডের এক ডজন লিপস্টিক কিনে ফেললাম। ওরা বেশ সুন্দর করে প্যাকেজিং করে দিল। আমি বললাম প্যাকেটের উপরে বড় করে 'টু মাই এডোরেবল সিস্টার' লিখে দিতে। ওরা তাই করল। আমার বোন খুশিতে নিশ্চয়ই হার্ট অ্যাটাক করবে এতগুলো লিপস্টিক পেয়ে।
মার্কেট থেকে বেরোনোর সময় শাড়ির দোকানে চোখ পরল আমার। মায়ের জন্যও একটা ঘিয়ে রঙের শাড়ি নিয়ে নিলাম। ঘিয়ে মায়ের পছন্দের রঙ।

কেন জানিনা হঠাৎ আমার ওই মেয়েটার কথা মনে পরল। আচ্ছা মেয়েটা কি এতটাই গরীব যে শরীরে কখনো কাপড় থাকে না! আমার ইচ্ছে করল মেয়েটার জন্য কতগুলো শাড়ি কিনে নিয়ে যেতে। দোকানিকে একটা শাড়ি দিতে বলতেই বলল, 'কোন কালার নিবেন ভাইজান?'

'যেকোনো একটা দিয়ে দিন তাহলেই হল।'

'যার লাইগা নিবেন তার বয়স কেমন?'

'একুশ-বাইশ হবে বোধহয়! '

'গায়ের রঙ কি ভাইজান?'

'সাদা ফর্সা। এত কিছু জিজ্ঞেস করতে হবে না। যেকোনো একটা শাড়ি দিয়ে দিন।'

দোকানি আমার কথার কোনো পাত্তাই দিল না। একটা লাল শাড়ি হাতে ধরিয়ে দিয়ে বলল, 'দেখেন তো এই শাড়িটা কেমন? তারে মানাইবো? '

আমি বললাম, 'হ্যাঁ। এবার প্লিজ দয়া করে প্যাকেট করে দিন। আমি চলে যাই।'

বিকেলে মা নিজে থেকেই আমার সঙ্গে কথা বলল। আমি বই পড়ছিলাম। মা এসে বলল, 'কাল সময় করে একবার ওই মেয়েকে এ বাড়িতে নিয়ে আসিস তো।'

আমি দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বললাম, 'আমি তাকে কোথায় পাবো মা?'

মা বিরক্তিতে ভ্রু কুঁচকালো। 'সেটা তো আমার দেখার বিষয় না। আমি আনতে বলেছি তুই আনবি।'

বলে মা এক মুহূর্তও দেরি করল না। চলে গেল।

রাতে ডিনারের সময় খাবার টেবিলে বসেই কথাটা তুললাম। 'মা তোমার জন্য একটা শাড়ি কিনেছি। তোমার ঘরে রেখে এসেছি। পছন্দ হয়েছে কি না আমাকে জানিও।'
মা কিছু বলল না। অহনাকে বললাম, 'তোর প্যাকেটটা পেয়েছিস? তোর ঘরের ড্রেসিং টেবিলের ওপর রাখা।'

অহনা মুখ বাঁকাল। 'ঢং! অতগুলো লিপ্সটিক কে আনতে বলেছে তোকে?'

অহনা মুখে এসব বললেও ও যে ভেতরে ভেতরে খুব খুশি হয়েছে সেটা আমি খুব ভালো করেই জানি।

রাত বারোটা বেজে দশ মিনিট। আজও ঘুম আসছে না আমার। যেদিন থেকে ওই মেয়েটার আগমন ঘটেছে ঠিক সেদিন থেকেই ঘুমের বারোটা বেজে গেছে। বিছানায় শুয়ে এপাশ ওপাশ করছি। অকস্মাৎ কেউ একজন এসে আমাকে পেছন থেকে জড়িয়ে ধরল। চমকালাম না। কারণ আমি জানি কে হতে পারে।

আমি তাকে ছাড়িয়ে উঠে বসলাম। বললাম, 'কাল পুরো কথা শেষ না করে কোথায় চলে গিয়েছিলে?'

মেয়েটা বলল, 'আমি কোথাও যাইনি আহান। তুমিই ঘুমিয়ে পড়েছিলে!'

আমি বললাম, 'পরিষ্কার করে বলো তো তুমি কে?'

'আমি ক্লিওপেট্রা। তোমার ক্লিওপেট্রা। '

আজও আমি আমার পুরো কথা শেষ করতে পারলাম না। তমিস্রায় তলিয়ে গেলাম। ঘুমিয়ে যাওয়ার আগ মূহুর্তে শুনতে পেলাম মেয়েটা বলছে, 'তোমার বুকের বাম পাশটায় হাত রাখলেই তুমি এমন অজ্ঞান হয়ে যাও কেন বলো তো! '

পরেরদিন অফিস থেকে ফিরতেই মা আবার রাগারাগি শুরু করে দিল। 'তোকে না কালকে বললাম মেয়েটাকে নিয়ে আসতে?'

আমি সোফায় গা এলিয়ে দিতে দিতে বললাম, 'মা তোমাকে আর কতবার বলবো আমি ওই মেয়েকে চিনিনা! মাঝরাতে আসে। আবার সকাল হতে না হতেই উধাও হয়ে যায়।'

'কেন ওই মেয়ে কি ভূত না কি পরী যে তোকে দেখা দিয়েই উধাও হয়ে যায়?'

'সেটা তো ওই মেয়েই বলতে পারবে মা।'

মা টিভি দেখছিল। হঠাৎই রিমোটটা আছড়ে ভেঙে চলে গেল।
রেগে গেলে ভাঙ্গচূড় করা মায়ের অভ্যেস। আমি আর অহনা ছোটো বেলা থেকেই এতে অভ্যস্ত। তাই তেমন প্রতিক্রিয়া ঘটল না আমার মনে।

সন্ধ্যেবেলা মা ব্যাগ গুছিয়ে অহনাকে নিয়ে নানার বাড়ি চলে গেল। মা'র না কি আমার মুখ দর্শন করতেও ঘৃণা লাগে এখন। তাই কিছুদিনের জন্য বাড়ি ছেড়ে চলে যাচ্ছে। যাবার আগে মিথিকেও সঙ্গে করে নিয়ে গেল। আমি কত করে বললাম অন্তত ওকে রেখে যেতে। মা শুনলো না।

আজ সারারাত আমার বিন্দুমাত্রও ঘুম হল না। আশ্চর্যজনকভাবে মেয়েটাও এলো না আজ। আমি ভীষণ রকম অবাক হলাম।

এক সপ্তাহ যাবৎ আমি ছাড়া আর কেউই বাসায় নেই। মেয়েটাও আসেনি এ'কদিন।

প্রায় দু'সপ্তাহের পর মা, অহনা, মিথি ফিরে এল। মিথি ফিরে এসেই দৌড়ে আমার কোলে চলে এল। আমাকে মিস করেছে নিশ্চয়ই! আমারও ওর কথা রোজ অনেকবার করে মনে পড়েছে।
মা, অহনা নানার বাড়ি বেড়িয়ে আসাতে একটা উপকারই হলো। ওরা একদম স্বাভাবিক আচরণ করছে। যেন আমাদের মাঝে কোনো ঝঞ্জাটই হয়নি।

আমাকে অবাক করে দিয়ে আজ রাতে আবার মেয়েটা এল। মাঝরাতে ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি আমার পাশে শুয়ে। আমি ওকে জাগাই। মেয়েটা বিরক্ত হয় না। হাসিমুখে বলে, 'কিছু বলবে আহান?'

আমি উত্তর দেই, 'হ্যাঁ। এতদিন আসোনি ঠিক আছে। আজ আবার এসেছো কেন?'

মেয়েটা মৃদু হাসে। 'তুমি কী রাগ করেছো আমি এতদিন আসিনি বলে?'

'মোটেও না। আমি কেন রাগ করতে যাব!'

তারপর আবার বললাম, 'তুমি কোথায় থাকো? তোমার পরিচয় কী?'

'আমি ক্লিওপেট্রা আহান। তোমার ক্লিওপেট্রা। তুমি কি এখনো আমাকে চিনতে পারছো না!'

আমি মাথা নাড়লাম। ' না। আমি তোমাকে চিনতে পারছি না।'

মেয়েটি বোধহয় আশাহত হল। ডিম লাইটের আবছা আলোয় স্পষ্ট দেখতে পেলাম তার নিরাশ মুখখানা।

মেয়েটি উঠে বসতে বসতে বলল, 'তুমি আমার জন্য যে জিনিসটা এনেছো সেটা দিলে না? '

আমি চমকে উঠলাম। মেয়েটা কি করে জানল আমি ওর জন্যে শাড়ি এনেছি!

ও আবার বলল, ' এত অবাক হচ্ছো কেন? আমি সব জানি।'

আমি প্রশ্ন করলাম, 'আর কী জানো তুমি?'

'তোমার অফিসের একটা মেয়ে তোমাকে পছন্দ করে। সে গতকালকে তোমাকে বিয়ের প্রস্তাবও দিয়েছে। তুমি আমার হাত থেকে বাঁচতে তাকে বিয়ে করে নিতে চাইছো। কারণ তোমার মা তোমাকে আমার সঙ্গে বিয়ে দিতে চান।'

আমি বিস্ময়ের সপ্তম চূড়ায় পৌঁছে গেলাম। মেয়েটা এগুলো কীভাবে জানলো! আমি তো কথাগুলো এখনো কাউকেই বলিনি! এমনকি আমার মাকেও না!

মেয়েটা আমার গালে ওর হাত রাখল। 'আহান! তুমি যদি মেয়েটার ভালো চাও তবে ওর থেকে দূরত্ব বজায় রাখো। এতেই তোমার মঙ্গল।'

আমি শিউরে উঠলাম। ও কি আমাকে হুমকি দিচ্ছে?

চলবে...

লেখা: ত্রয়ী আনআমতা

(আপনাদের রেসপন্স আশা করছি। আশানুরূপ সাড়া পেলে পরের পর্ব আরো জলদি লিখে ফেলব।)

একটি নতুন গল্প মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি বিছানায় আমার পাশে শুয়ে এক নগ্ন নারীমূর্তি! আমার গা ঘেঁষে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। ...
31/05/2023

একটি নতুন গল্প

মাঝরাতে হঠাৎ ঘুম ভাঙ্গতেই দেখি বিছানায় আমার পাশে শুয়ে এক নগ্ন নারীমূর্তি! আমার গা ঘেঁষে শুয়ে ঘুমিয়ে আছে। মেয়েটির গায়ে একটা সুতো পর্যন্ত নেই। সবুজ ডিম লাইটের আবছা আলোয় দেখতে পেলাম তাকে। শরীরটা যতটা না কামনাদায়ক, তার চাইতে কয়েকগুণ বেশি মায়াবী তার মুখটা। কিছু একটা আছে ওই মুখটায়। যার কারণে কিছুতেই চোখ ফেরাতে পারছি না।
এখন শীতকাল। বছরের বারো মাস চব্বিশ ঘণ্টাই শোবার ঘরের জানালা খুলে রাখার অভ্যাস আমার। জানালাটা বিছানা বরাবর। হু হু করে বাতাস আসছে সেদিক থেকে। লেপ মুড়ি দিয়ে শুয়ে থাকার পরেও গায়ে হিম ধরে গেল আমার।
এমন ঠান্ডায় মেয়েটা কি করে নগ্ন দেহে শুয়ে আছে!
আসল ভাবনা বাদ দিয়ে কখন ইতি-উতি ভাবতে শুরু করেছি খেয়ালই করিনি। খেয়াল করতেই গা থেকে লেপ ফেলে দিয়ে একপ্রকার লাফিয়ে বিছানার অপরপ্রান্তে চলে এলাম। সাথে সাথেই মেয়েটা জেগে গেল। আমার ফেলে দেয়া লেপ টেনে সে নিজের গায়ে লেপ্টে নিল। তারপর আমার দিকে সরে আসতে আসতে বলল, 'কী হয়েছে আহান? দূরে চিলে গেলে কেন?'
কথাটা বলেই সে একদম আমার কাছে চলে এল। তারপর আমার হাতটা তার মাথায় রেখে আহ্লাদী স্বরে বলল, 'আদর করে দাও!'
আমি ঘোরগ্রস্তের মতো তার মাথায় হাত বুলাতে লাগলাম। সে গভীর ঘুমে তলিয়ে গেল।
এরপর আমার আর কিছু মনে নেই। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছি!
সকালে যখন ঘুম ভাঙ্গলো দেখলাম বিছানায় আমি একা শুয়ে। মেয়েটা নেই! সারা ঘর, সারা বাড়ি জুড়ে তাকে খুঁজতে লাগলাম। কিন্তু কোথাও খুঁজে পেলাম না তাকে। কোত্থাও নেই সে! তাহলে কি আমি স্বপ্ন দেখেছি? আমার ভ্রম ছিল মেয়েটা?
নাহ! এটা কি করে হতে পারে! স্বপ্ন কখনো এত রঙ্গিন এত জীবন্ত হয়!
মা টেবিলে খাবার সাজাচ্ছিল। আমাকে এ ঘর ছেড়ে ও ঘরে ছোটাছুটি করতে দেখে বলল, 'মিথিকে খুঁজছিস? ও তো আমার ঘরে।'

মিথি আমার পোষা বিড়াল। ছ'মাস আগে ওকে আমি রাস্তায় কুড়িয়ে পাই। নর্দমার পাশে শুয়ে ছিল। ওমন ময়লার স্তূপের মধ্যে সাদা ধবধবে বিড়ালটা নজর কেড়েছিল আমার। তাই ওকে কাছে ডাকি। ডাকতেই দৌড়ে চলে আসে। কেন যেন হঠাৎ অচেনা প্রাণীটির জন্যে আমার মায়া লেগে যায়। কোলে করে বাসায় নিয়ে আসি। বাসায় আনার এক সপ্তাহের মধ্যেই ও বাড়ির সকলের মন জয় করে নেয়। অবশ্য বাড়িতে আমরা তিনজন মাত্র মানুষ৷ মা, আমি আর আমার ছোটো বোন অহনা।
হঠাৎই ঘড়ির দিকে চোখ পরল আমার। সর্বনাশ! সাড়ে আটটা বাজে! নয়টায় অফিস আমার। যেতে সময় লাগে চল্লিশ মিনিট। ফ্রেশ হব কখন! খাব কখন! আর যাব কখন! আর জ্যাম থাকলে তো কথাই নেই। এই ঢাকার রাস্তায় জ্যাম থাকবে না তা কি হয় কখনো?
একপ্রকার দৌড়ে বাথরুমে চলে গেলাম। হাত-মুখ ধুয়ে বেরিয়ে শার্ট-প্যান্ট পরে টাইটা বাঁধতে বাঁধতে ড্রয়িংরুমে চলে এলাম। মা খেতে ডাকল। আমি মায়ের ডাক অগ্রাহ্য করে দরজা খুলে বেরোতে নিতেই মা পেছন থেকে আমার শার্ট টেনে ধরলো। বলল, 'না খেয়ে কোথায় যাচ্ছিস? অল্প কিছু মুখে দিয়ে যা।'

আমি মায়ের হাত ধরে বললাম, 'মা প্লিজ! আজকের মতো ছাড় দাও! অফিসে দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার।'

মা আমার কথার কোনোরকম পাত্তা না দিয়ে জোর করে টেবিলে নিয়ে বসাল। স্যান্ডউইচের বাটিটা আমার দিকে এগিয়ে দিল। আমি এক পিস স্যান্ডউইচ হাতে নিয়ে 'মা আসি' বলে বেরিয়ে এলাম। গন্তব্য বাস-স্টেশন।

সারাদিন অফিসে কাজের চাপে গত রাতের ঘটনাটা বেমালুম ভুলে গেলাম। অফিস থেকে ফিরতে ফিরতে সন্ধ্যা হয়ে গেল। দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে একবার কলিংবেল চাপতেই মা দরজা খুলে দিল। ঘরে ঢুকতেই দেখি মিহি সোফায় শুয়ে। আমার দিকে চোখ পরতেই দৌড়ে আমার কাছে চলে এল। আমার পায়ের কাছে দাঁড়িয়ে মিউ মিউ করতে লাগলো। যার মানে হচ্ছে 'আমাকে কোলে নাও।'
ওকে কোলে তুলে নিলাম। মা চেঁচিয়ে উঠল। 'যা ফ্রেশ হয়ে খেতে বস। পরে আহ্লাদীকে কোলে নিয়ে বসে থাকিস।'
মায়ের কথায় আমি মিথিকে নামিয়ে দিতে চাইলাম। কিন্তু মিথি নামতে চাইল না। উলটে আমাকে খামচে ধরে রইল। আমি পুনরায় ওকে কোলে তুলে নিলাম। ও নিশ্চিন্তমনে আমার কোলে শুয়ে মৃদু মিউ ধ্বনি তুলল। আমার বুকে মাথা ঘষতে লাগল। যার মানে 'সকালে আমাকে আদর না করে কোথায় চলে গিয়েছিলে? এখন আদর করে দাও।'
আমি ওর দিকে তাকিয়ে 'স্যরি' বললাম। ও প্রতুত্যরে বলল, 'মিউ!'
মা ঠিকই বলে। আহ্লাদী একটা!

রাত এগারোটা। বিছানায় এসে শুয়েছি আধ ঘন্টা হলো। ঘুম আসছে না। কেন জানিনা আজ একা শুতে মন সায় দিচ্ছে না। তাই ভাবলাম মিথিকে নিয়ে আসি। ও নিশ্চয়ই মায়ের ঘরে। ওর ঘুমোনোর স্থানের কোনো ঠিক-ঠিকানা নেই। কখনো আমার সঙ্গে, কখনো মায়ের সঙ্গে তো কখনো অহনার সঙ্গে ঘুমোয়।

মিথিকে নিয়ে এসে শুতেই আমার ঘুমে চোখ ভার হয়ে এল। ঘুমিয়ে পরলাম তখুনি।

গতকালকের মতোই ঠিক মাঝরাতে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। আমার মনে হল বুকের কাছটায় কেউ জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। মিথিই হবে। রাতে তো মায়ের কাছ থেকে আমিই ওকে নিয়ে এসেছিলাম। আমার গায়ের ওপর থেকে আলতো করে লেপ সরিয়ে নিতেই আমি শিউরে উঠলাম। মিথি নয়! গতকাল রাতের সেই মেয়েটি! আমার বুকের ওপর মাথা রেখে জড়োসড়ো হয়ে শুয়ে আছে। সেদিনের মতোই নগ্ন দেহে!
আমি এক ধাক্কায় আমার বুকের ওপর থেকে ওর মাথাটা সরিয়ে দিলাম। শরীর ঢাকার জন্য লেপ ছুড়ে মারলাম ওর ওপর।
মেয়েটি আমার আচরণে কোনো ভ্রুক্ষেপ করল না। গলা পর্যন্ত লেপ টেনে নিয়ে শুয়ে পরল। কিন্তু ঘুমোলো না। ফ্যালফ্যাল করে তাকিয়ে রইল আমার দিকে।
আমি হন্তদন্ত হয়ে বিছানা ছেড়ে নামলাম। সুইচ চেপে আলো জ্বালালাম। অকস্মাৎ কড়া আলো চোখে পরতেই মেয়েটি চোখ বন্ধ করে ফেলল। পরক্ষণেই আবার খুলে ফেলল। আমার দিকে তাকিয়ে সেই আদুরে স্বরে বলল, 'ঘুমোবো আহান। আলো নেভাও!'

ওর কথা আমার কান পর্যন্ত পৌছালেও মস্তিষ্ক পর্যন্ত পৌছাতে পারল না। কারণ আমার মস্তিষ্ক জুড়ে ছিল অন্যকিছু। আমি একদৃষ্টিতে চেয়ে রইলাম মেয়েটির মুখায়বে। এত রূপ, এত সৌন্দর্য, এত মায়া কারো চেহারায় থাকতে পারে! আমি ক্রমশ মোহগ্রস্ত হয়ে পরতে লাগলাম। এ মেয়ে কিছুতেই সাধারণ নারী হতে পারে না! কিছুতেই নাহ!!

তারপরের দিন সকাল বেলা মায়ের ডাকাডাকিতে ঘুম ভাঙ্গলো। ঘুম ভাঙ্গতেই দেখলাম আমি মেঝেতে শুয়ে আছি। মা বারবার জিজ্ঞাসা করতে লাগল এই ঠান্ডায় আমি মেঝেতে কেন? মাথা-টাথা ঘুরে পড়ে গিয়েছিলাম না কি!
মায়ের মাথা থেকে দুঃশ্চিন্তা দূর করার জন্য মিথ্যে বললাম। 'রাতে এত ঘুম পেয়েছিল না মা। মেঝেতে বসে মোবাইলে গেমস খেলছিলাম। কখন যেন ঘুমিয়ে পড়েছি। '

মা রেগে গেল। বলল, ' তুই কি বাচ্চা ছেলে আহান?তোর কি কোনো কান্ড জ্ঞান নেই? এই ঠান্ডার মধ্যে তুই মেঝেতে বসে গেমস খেলবি কেন? ঘরে কি বসার জিনিসের অভাব পরেছে?'

'উফফ মা। ভুল হয়ে গেছে। চেঁচামেচি করো না তো!'

মা আমাকে সাবধান করার ভঙ্গিতে বলল, 'আর কখনো যেন মেঝেতে শুতে, বসতে না দেখি!'
তারপর আবার বলল, ' আটটা বেজে গেছে। যা জলদি হাত-মুখ ধুয়ে খেতে আয়। নাহয় পরে দেখব দেরি হয়ে যাচ্ছে বলে না খেয়েই বেরিয়ে পড়েছিস।'

মা চলে যাবার পর আমি গতকাল রাতের ঘটনাটা স্মরণ করতে লাগলাম। গতরাতের ঘটনাটাও কি স্বপ্ন ছিল? একই স্বপ্ন দু'দিন দেখা। এটা কি সম্ভব!
যদি স্বপ্নই হয় তাহলে আমি মেঝেতে এলাম কি করে! নাহ! গতরাতে এবং তার আগের রাতে যা ঘটেছিল সব বাস্তবই ছিল। স্বপ্ন স্মৃতিতে এত স্পষ্ট হয়ে কিছুতেই থাকতে পারে না। স্বীদ্ধান্ত নিলাম। আজকের রাতে কি ঘটবে সেটা আমি ডিসাইড করব। ওই মেয়েটা নয়। মনে মনে ওকে হাতেনাতে ধরার সমস্ত পরিকল্পনা করে ফেললাম। তাতে যদি আমার ইজ্জতের ফালুদা হয় তো হোক।

আজকে অফিসের কাজ ঠিকমতোন করতে পারলাম না। সেজন্য দু'বার বসের ঝাড়িও খেলাম। তবুও কোনো কাজেই মন বসছে না। একটা চাপা উত্তেজনা কাজ করছে মনের ভেতর। আচ্ছা আমি কি আমার পরিকল্পনায় সফল হবো? মন বলল, হবি। মস্তিষ্ক বলল, আজ তোর ইজ্জতের ফালুদা না আইসক্রিম হবে।
দেখি কোনটা সঠিক হয়। মন না কি মস্তিষ্ক!

অবশেষে রাত এল। শোবার আগে মা'কে, অহনাকে বলে এলাম দরজা খুলে ঘুমাতে। মোবাইলে ঠিক রাত দুটো বাজে এলার্ম সেট করে নিলাম। তারপর ঘুমিয়ে পরলাম।

রাত দুটোয় এলার্মের শব্দে আমার ঘুম ভেঙ্গে গেল। বিছানার অপর পাশে তাকাতেই আমার মুখে হাসির রেখা ফুটল। এইতো! মেয়েটা আজো আমার পাশে শুয়ে। আমার ঘুম হারাম করে নিজে কেমন নিশ্চিন্ত মনে ঘুমুচ্ছে দেখো! দাড়াও রহস্যময়ী। আজ তোমার রহস্য উদঘাটন করবোই!

চলবে...

ক্লিওপেট্রা
পর্ব- ০১
লেখা: ত্রয়ী আনআমতা

(পরের পর্ব দেবো কি না তা সম্পূর্ণ পাঠকের উপর নির্ভর করছে। পাঠকের রেসপন্স পেলেই তবে গল্পটা কন্টিনিউ করব।)

24/05/2023

সইতে পারি নারে দয়াল রে.... 🙏🙏❤️

23/05/2023

আমি তোমাকে আমার😍
সামর্থ্য অনুযায়ী খুশি রাখতে চাই❤️

Address

Cooch Behar

Telephone

+16295939986

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when বাঙালি বাবু posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to বাঙালি বাবু:

Share

Category