31/12/2013
থার্টিফাস্ট নাইট ও নিউ ইয়ার উৎসব উদযাপন প্রসঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ ফাতওয়া
-----------------------------------------------------------------------
* সুওয়াল : থার্টিফাস্ট নাইট পালন সম্পর্কে ইসলামের হুকুম কী? ইংরেজী নববর্ষের শুরুলগ্নে নিউ ইয়ার উৎসব উদযাপন করা যাবে কি?
* জাওয়াব : ইসলামের নির্দেশ হলো, মুসলমানগণ কোন ব্যাপারে ইয়াহুদী-খৃষ্টানদের অনুকরণ করতে পারবেন না। এ সম্পর্কে হযরত আবু উমামা বাহেলী (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেন--
مَنْ تَشَبَّهَ بِقَوْمٍ فَهُوَ مِنْهُمْ ، وَمَنْ أَحَبَّ قَوْمًا حُشِرَ مَعَهُمْ
“যে ব্যক্তি কোন সম্প্রদায়ের কৃষ্টি-কালচারের অনুকরণ করবে, সে তাদের অন্তর্ভুক্ত গণ্য হবে এবং যে ব্যক্তি যে সম্প্রদায়কে মহব্বত করবে, তাদের সাথে তার হাশর হবে।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ৩৫১৪)
অপর হাদীসে হযরত আবদুল্লাহ ইব্ন উমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, রাসূলুল্লাহ (সা.) বলেন--
خَالِفُوا الْمُشْرِكِينَ أَحْفُوا الشَّوَارِبَ وَأَوْفُوا اللِّحَى
“তোমরা মুশরিকদের বিরোধিতা কর। মোচ ছোট কর এবং দাঁড়ি লম্বা কর।”(সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ৩৮৭)
সুতরাং মুসলমানগণ উৎসব পালনের দিকে দিয়েও অমুসলিমদের অনুকরণ করতে পারবে না। এ সম্পর্কে হযরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন--
قَدِمَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ الْمَدِينَةَ وَلَهُمْ يَوْمَانِ يَلْعَبُونَ فِيهِمَا فَقَالَ مَا هَذَانِ الْيَوْمَانِ؟ قَالُوا كُنَّا نَلْعَبُ فِيهِمَا فِي الْجَاهِلِيَّةِ فَقَالَ رَسُولُ اللَّهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ إِنَّ اللَّهَ قَدْ أَبْدَلَكُمْ بِهِمَا خَيْرًا مِنْهُمَا يَوْمَ الْأَضْحَى وَيَوْمَ الْفِطْرِ
“রাসূলুল্লাহ (সা.)মদীনায় আগমন করলেন, তখন সেই অধিবাসীদের দু’টি পর্ব ছিল, সে সময় তারা আমোদ-উৎসব করত। তা দেখে রাসূলুল্লাহ (সা.) বললেন : এ দু’টি দিন কী? তারা বললেন : আমরা এদিন দু’টিতে জাহিলী যুগে আমোদ-উৎসব করতাম। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেন : নিশ্চয় আল্লাহ তা‘আলা এ দু’টির পরিবর্তে তোমাদেরকে তার চেয়ে উত্তম দিয়েছেন ঈদুল আজহা ও ঈদুল ফিতর।” (সুনানে আবু দাউদ, হাদীস নং ১১৩৪/ মুসনাদে আহমাদ, হাদীস নং ১৩২১০/ মুস্তাদরাকে হাকেম, হাদীস নং ১১২৪)
আল্লামা ইবনে তাইমিয়াহ (র.) বলেন : “এ হাদীস প্রমাণ করে যে, মুসলমানদের জন্য কাফেরদের উৎসব পালন করা হারাম। কারণ, রাসূলুল্লাহ (সা.) আনসারদের জাহিলী যুগের দু’টি উৎসব বহাল না রেখে রহিত করে দিয়েছেন। তাদের রীতি অনুযায়ী সেই দুইদিন তাদের আমোদ-উৎসবের অনুমতি দেননি। বরং তা রদ করে বলেছেন—“নিশ্চয় আল্লাহ তোমাদের জন্য এ দু’টি বদল করে দিয়েছেন।” এর দাবী হচ্ছে--পূর্বের আমল ত্যাগ করা। কারণ, বদল করার পর উভয় বিষয়কে জমা করা যায় না। কেননা, বদল শব্দের অর্থ হলো, একটি ত্যাগ করে অপরটি গ্রহণ করা।”। (ফাইজুল কাদির, ৪র্থ খণ্ড, ৫১১ পৃষ্ঠা)
তাই এ বিষয়ে সতর্ক করে হযরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত হয়েছে, তিনি বলেন--
مَنْ تَنَافَى أَرْضَ الأَعَاجِمِ فَصَنَعَ نَيْرُوزَهُمْ وَمَهْرِجَانِهِمْ حُشِرَ مَعَهُمْ
“যে ব্যক্তি বিধর্মীদের দেশে বিচরণ করে, অতঃপর তাদের নওরোজ ও মেহেরজান উৎযাপন করে, কিয়ামতের দিন তাদের সাথে তার হাশর হবে।”(সুনানে বাইহাকী, ২য় খণ্ড, ৩২৫ পৃষ্ঠা)
তাই ইয়াহুদী ও খৃষ্টানদের অনুকরণে থার্টিফাস্ট নাইট ও নিউইয়ার উদযাপন করা জায়িয হবে না। বিশেষত থার্টিফাস্ট নাইটের নামে নারী-পুরুষরা একত্রিক হয়ে উদ্ভট মাতামাতিতে বিভিন্নরকম বেপর্দাপনা, অশ্লীলতা ও নষ্টামীর জন্ম দেয়—যা সম্পূর্ণ কবীরা গুনাহ ও হারাম কাজ। মহান আল্লাহ পবিত্র কুরআনে ইরশাদ করেন—
وَيَنْهَىٰ عَنِ الْفَحْشَاءِ وَالْمُنكَرِ وَالْبَغْيِ
“আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করছেন অশ্লীলতা, মন্দ কাজ ও অবাধ্যতা থেকে।” (সূরাহ নাহল, আয়াত নং ৯০)
সুতরাং এ ধরনের সকল প্রকার গর্হিত বিষয় থেকে দূরে থাকার মাধ্যমে আমাদের ঈমান ও আমলকে হিফাজত করা কর্তব্য। আর এ ব্যাপারে বর্তমানে অধিক সতর্কতা অবলম্বন করা অপরিহায়। কেননা, কিয়ামতপূর্ব এ যুগ হচ্ছে ফিতনার যুগ। এ যুগের ফিতনা সম্পর্কে সতর্ক করে হযরত আবু হুরাইরা (রা.) হতে বর্ণিত হয়েছে, নবী কারীম (সা.) ইরশাদ করেন--
بَادِرُوا بِالأَعْمَالِ فِتَنًا كَقِطَعِ اللَّيْلِ الْمُظْلِمِ يُصْبِحُ الرَّجُلُ مُؤْمِنًا وَيُمْسِي كَافِرًا أَوْ يُمْسِي مُؤْمِنًا وَيُصْبِحُ كَافِرًا يَبِيعُ دِينَهُ بِعَرَضٍ مِنَ الدُّنْيَا
“তোমরা অন্ধকার রাতের ঘনঘটার ন্যায় ফেতনার পূর্বে দ্রুত আমল কর [যখন] কোন ব্যক্তি ভোর করবে মুমিন অবস্থায়, অতঃপর সন্ধ্যা করবে কাফির অবস্থায়; অথবা সন্ধ্যা করবে মুমিন অবস্থায়, আর ভোর করবে কাফির অবস্থায়। মানুষ তার দ্বীনকে বিকিয়ে দিবে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে।” (সহীহ মুসলিম, হাদীস নং ১৭৩)
আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে হিফাজত করুন এবং দ্বীনের সহীহ পথে পরিচালিত করুন। আর যাবতীয় ফিতনা-ফাসাদ থেকে আমাদেরকে হিফাজত করুন। আমীন।
..........................................
# # আপনার প্রিয়জনদের কাছে পৌঁছে দিন ইসলামের শাশ্বত বাণী। হৃদয় থেকে হৃদয় উদ্ভাসিত হোক ঈমানের আলোকচ্ছটায়।