08/11/2016
গতকাল সুপ্রীম কোর্টের আপীলেড ডিভিশনে প্রধান বিচারপতির আদালতে ডেসটিনির বিরুদ্ধে দুদকের দায়েরকৃত মামলায় ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিন আদেশ স্থগিতের ওপর শুনানী অনুষ্ঠিত হয়। শুনানীতে উভয় পক্ষের আইনজীবীরা অংশগ্রহণ করেন। শুনানীতে আদালত দুদকের আইনজীবী এ্যাড. খোরশেদ আলমের কাছে “দুই মামলায় একই পরিমাণ অংকের টাকা মানি লন্ডারিং হল কীভাবে”? বিষয়ের ব্যাখ্যা চান। কিন্তু দুদকের আইনজীবী বিষয়টি আদালতকে বোঝাতে ব্যর্থ হন।
অপরপক্ষে আদালত আসামীপক্ষের আইনজীবীর কাছে জানতে চান, ডেসটিনি’র ৪৫ লক্ষ বিনিয়োগকারীর ৩ হাজার কোটি টাকা ফেরত দিতে পারবেন কি-না? যদি পারেন, তাহলে তা সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা আকারে আদালতে পেশ করুন। আদালত প্রস্তাবনায় সন্তুষ্ট হলে আসামীদের জামিন প্রদান, জব্দকৃত সম্পত্তি ফেরত, ব্যবসা করার সুযোগ এবং ব্যাংক হিসাব খুলে দেয়া হবে। জবাবে আসামীপক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন কিউসি আদালতকে জানান, ডেসটিনি কর্তৃপক্ষ সকল বিনিয়োগকারীর অর্থ ফেরত দিতে চান। সে লক্ষে পরবর্তী শুনানীর দিন টাকা পরিশোধের প্রস্তাবনা আদালতে পেশ করা হবে। উভয়পক্ষের শুনানী শেষে আদালত আগামী ১০ নভেম্বর বৃহস্পতিবার পরবর্তী শুনানীর দিন ধার্য করেন।
জানা গেছে, গত ২০ জুলাই ২০১৬ বিচারপতি মো: রুহুল কুদ্দুছ এবং বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী এর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ শর্ত সাপেক্ষে ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেনের জামিন মঞ্জুর করেন। কিন্তু দুদুকের আইনজীবী খুরশেদ আলম খান ২৪/০৭/২০১৬ইং তারিখে জামিন স্থগিত চেয়ে চেম্বার জজ আদালতে আবেদন করলে চেম্বার বিচারপতি মির্জা হোসেন হায়দার এর আদালত বিষয়টি শুনানীর জন্য আপীল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চ প্রধান বিচারপতির আদালতে পাঠিয়ে দেন। প্রধান বিচারপতিসহ পাঁচজন বিচারপতির সমন্বয়ে গঠিত আপীলেড ডিভিশন গত ৩১ জুলাই ২০১৬ জামিন স্থগিত করে অধিকতর শুনানীর জন্য ১১/০৮/২০১৬ইং তারিখ ধার্য্য করেন। কিন্তু আসামী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিষ্টার আজমালুল হোসেন কিউসি রাষ্ট্রীয় কাজে দেশের বাইরে থাকার কারণে দুই দফা তারিখ পেছানোর আবেদন করা হয়। গত ৩১ অক্টোবর শুনানী দিন ধার্য হলেও শুনানী হয়নি।
মামলার বিবরণে জানা যায়, গত ২০১২ সালের ৩১ জুলাই তারিখে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ডেসটিনি গ্রুপের ব্যবস্থা পরিচালক, চেয়ারম্যানসহ ১২ জনের বিরুদ্ধে কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিংয়ের দু’টি মামলা দায়ের করেন।
উল্লেখ্য, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এর কলাবাগান থানায় মানি লন্ডারিং এর দুটি মামলায় ডেসটিনির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোহাম্মদ রফিকুল আমীন ও চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হোসেন গত ২০১২ সালের ১১ অক্টোবর থেকে কারাগারে আছেন।
#সংগৃহীত