30/08/2026
ARTICLE NO. 90
কর্ম করলি যেমন তেমন, ধর্ম যে তোর রইল না
আমরা আজ অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী, প্রচণ্ড স্বপ্নদর্শী এবং জীবনে উপরে ওঠার তীব্র প্রতিযোগিতায় লিপ্ত। সবটাই তো মানুষের আকাঙ্ক্ষা হওয়া উচিত। মানুষ কর্ম করতে এসেছে, নিজের সৃষ্টি করতে এবং নিজের বৃহৎ ভূমিকা দিয়ে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে এসেছে। এটা সবাই ভাবে, সবাই চায়। এখানে কোনো দ্বিমত নেই।
কিন্তু সবচেয়ে দুঃখের বিষয় হলো, আমরা কর্মজীবনে এসে অলংকৃত হওয়ার চেয়ে কলঙ্কিত হয়ে বাঁচতে শুরু করেছি। মানুষকে বিপদে ফেলে, মানুষকে শোষণ করে ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট করতে গিয়ে কেউ কেউ বিবেকহীন, রক্তচোষা মানুষ ছাড়া আর কিছুই হয়ে উঠছেন না। আমাদের নৈতিকতাও যেন একেবারেই চলে গেছে, লেশমাত্রও নেই। মানুষের ঈমান কোথায়, জানি না; তা যেন বিলুপ্ত হয়েছে। আমরা আজ একেবারেই দিশাহীন, দিশেহারা। সাধারণ মানুষ ঘুষখোর ছাড়া আর কিছুই চোখে-মুখে দেখতে পায় না।
দেশ যদি এভাবেই প্রতিটি ক্ষেত্রে, প্রতিটি পর্যায়ে, প্রতিটি অর্গানাইজেশনে, যেখানে মানুষের আনাগোনা রয়েছে, সেখানে অনৈতিকতায় ভরে যায়, আমরা বাঁচব কীভাবে? দেশের এত অব্যবস্থা যদি হয়, তাহলে দেশই বা বাঁচবে কীভাবে? আমরা কি আফ্রিকান দেশগুলোর মতো কোনো কোনো ক্ষেত্রে জংলি রূপে রূপান্তরিত হব? আমাদের সৌভাগ্য, আমাদের কর্ম, ধর্ম এবং সত্যের পথ সবই বিলুপ্তির পথে। হায়! তাই মনে পড়ে যায় সুকান্তের কবিতার একটি পংক্তি:
“অবাক পৃথিবী! অবাক করলে তুমি,
জন্মেই দেখি ক্ষুব্ধ স্বদেশভূমি।”
মানুষ আজ কাজ করছে, সাফল্য চাইছে, অর্থ চাইছে, প্রতিষ্ঠা চাইছে। সেই কর্মের সঙ্গে নৈতিকতা, বিবেক ও দায়বদ্ধতার সম্পর্ক কতটা আছে, সেটাই মূল প্রশ্ন। আমরা কাজ করছি, পড়াশোনা করেছি, বিদ্বান হয়েছি, হয়তো বা কিছুটা শিক্ষিত হয়েছি। কিন্তু শিক্ষা ব্যর্থ হলো কোথায়? যদি আমরা নৈতিকতার মধ্যেই নিজেকে নিবেদন না করি, আমাদের নৈতিকতা যদি না থাকে এবং অনৈতিক কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিজেকে পরিচালিত করি, তাহলে অবধারিতভাবে একদিন আমরা শেষ হয়ে যাব। আমাদের ক্যারিয়ার ডেভেলপমেন্ট তো দূরের কথা, আমাদের সবকিছুই রসাতলে চলে যাবে।
আমি এগুলোর ওপরেই আজ আমার কিছু কথা আপনাদের সঙ্গে আলাপচারিতা করতে চাই।
আমরা ক্যারিয়ার গড়ব, এতে কোনো দ্বিমত নেই। ক্যারিয়ার গড়তে গেলে সবচেয়ে বড় বিষয় হচ্ছে নিজেকে একটি বড় স্বপ্নের মধ্যে রাখা। সেই স্বপ্ন হচ্ছে, আমি জীবনে অত্যন্ত নৈতিকতার সঙ্গে এবং কর্মদক্ষতার মাধ্যমে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করব।
নিজের অস্তিত্বকে বিসর্জন দিয়ে জাগতিক সুখের জন্য নিজেকে একটি গণ্ডির মধ্যে রেখে দিলে কাঙ্ক্ষিত জীবন সৃষ্টি হয় না। অলংকৃত জীবন সৃষ্টির পথ এটি নয়। অনৈতিকতা, বিবেকের অব্যবহার এবং দায়বদ্ধতা থেকে নিজেকে মুক্ত রেখে নিজের স্বপ্নের দিকে নিবেদিত হওয়া এবং অন্যকে বিতাড়িত করা কোনো কৃতিত্ব নয়; এটি সুখ বয়ে আনে না, বরং অপবাদ বয়ে আনে।
হ্যাঁ, হয়তো আপনার সাময়িক একটা লাভ আসতেই পারে। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে আপনি একদিন কলঙ্কিত মানুষ হিসেবে চিহ্নিত হবেন। একটি বিষয় মনে রাখবেন, কলঙ্কিত হওয়া খুবই সহজ। আর অলংকৃত হয়ে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা এবং পৃথিবী থেকে বিদায় নেওয়া, যেখানে মানুষের অশ্রুতে আপনাকে বিদায় দেওয়া হবে, সেটাই হচ্ছে জীবনের সবচেয়ে বড় সাফল্য।
আপনার জীবনে কী কী লাগতে পারে? দুবেলা ভাত, গায়ের কাপড়, রাতে ঘুমানোর একটু বাসস্থান। এর বাইরে তো আপনার কিছু চাওয়ার নেই। বরং সমাজ ও জাতিকে কিছু দিয়ে যাওয়াটাই হচ্ছে কর্মের মাধ্যমে ধর্মের একটি পরিচর্যা।
একটি বিষয় আমার মনে হয়, নৈতিক অবক্ষয় শুরু হয় ছোট ছোট আপস থেকে। ছোট ছোট কর্ম থেকেই নৈতিকতার অবক্ষয় সৃষ্টি হয়। কীভাবে?
হয়তো আপনি ছোট্ট একটি মিথ্যা কথা বললেন, একটি অন্যায় সুবিধা অর্জন করলেন, কারও অধিকার নষ্ট করলেন, নিজের স্বার্থে সত্যকে আড়াল করলেন। এই অসৎ কর্মকাণ্ড আপনাকে আস্তে আস্তে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের দিকে ধাবিত করবে। নৈতিকতা আপনার কাছ থেকে ধীরে ধীরে দূরে সরে যাবে।
ছোট আপস একসময় মানুষের চরিত্রকে দুর্বল করে। এই ছোট ছোট অন্যায় আপস আপনার চরিত্রকে দুর্বল করে। এখন আপনার চরিত্রই যদি না থাকে, আপনার নৈতিকতাই যদি না থাকে, তাহলে জীবনে কী বা অর্জন করতে পারবেন?
বরং একটু দেখুন, মানুষ যদি আপনাকে ভালোবাসে, তাহলে সেটাই ভালো। কিন্তু মানুষ যদি আঙুল তুলে বলে, ‘ওই মানুষটা অসৎ, পিশাচ, শোষক’, তাহলে জীবনে আর রইল কী? কথাগুলো ভাবার বিষয়।
আপনি পৃথিবীতে এসেছেন কিছু দেবেন, আবার প্রতিদানও পাবেন, তারপর চলে যাবেন এক অজানা দেশে। তাহলে আপনার যাওয়ার বেলায় নিজেকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবেন এবং মানুষই বা আপনাকে কীভাবে বিশ্লেষণ করবে, সেটা অবশ্যই ভাবার বিষয়।
একটি বিষয় আমার সর্বদাই মনে হয়। আমরা মনে করি, কাপড় পরিধান করলেই লজ্জা নিবারণ করেছি। কিন্তু চরিত্রে যদি লজ্জা না থাকে, সেখানে আবরণটা কোথায়? লজ্জাবোধ হারিয়ে যখন অন্যায় আপনার চরিত্রের স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়, তখন আপনি যেকোনো অপকর্ম করতেই বদ্ধপরিকর হয়ে পড়েন। সেকারণে আপনি চরিত্রহীন। এবং আপনি নিজেও জানেন, আপনার চরিত্র নেই। তাহলে রাখারই বা কী দরকার?
আগে যে কাজ করতে মানুষ সংকোচ বোধ করত, আজ অনেক ক্ষেত্রে সেটিই স্বাভাবিক আচরণ হিসেবে দেখা যাচ্ছে। সামাজিক লজ্জা, আত্মসম্মান এবং মানুষের চৈতন্যের গুরুত্ববোধ হারিয়ে গেলে আপনি একজন অত্যন্ত অসম্মানজনক ব্যক্তি, একজন অমানুষ হিসেবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকেন। কিছুদিন আনন্দে পৃথিবীতে বেঁচে যাচ্ছেন, অর্জন করেছেন। কিন্তু প্রতিটি অর্জন আপনার জীবনের গর্ব থেকে আলাদা হয়ে কলঙ্কের রূপ নেয়।
যে মানুষের লজ্জা নেই, সে মানুষের বিবেক নেই। যে মানুষের বিবেক নেই, সে মানুষের সত্য নেই। আর যে মানুষের সত্য নেই, তার মানুষের মতো উপস্থিতিও নেই। জীবনটা অত্যন্ত অপচয়জনিত হয়ে যায়। আর যদি আপনার সেই আবরণ সত্যিই না থাকে, তাহলে উলঙ্গ মানুষ হিসেবে পৃথিবীতে বেঁচে থাকা ন্যক্কারজনক।
আমরা এখন কয়জন মানুষ হিসেবে নিজেকে প্রতীয়মান করতে পারি? করতে পারি না, অবশ্যই। কারণ একজন মানুষ অন্য মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে না। শিক্ষার প্রতিও আমাদের অনীহা রয়েছে। আমাদের শিক্ষকদের সবচেয়ে বড় কাজ হলো সন্তানদের শিক্ষা দেওয়া, তাদের বোঝানো এবং জানানো, তারা যেন মানুষকে মানুষ হিসেবে বিবেচনা করে।
শিক্ষার মর্যাদা যদি না থাকে, তাহলে তা মানবজাতির জন্য কষ্টকর। আমাদের কয়জন শিক্ষক এই ব্যাপারে সচেতন? বা এই শিক্ষাটি সন্তানদের মধ্যে অনুপ্রেরণা দিচ্ছে? আমার মনে হয়, ধরতে গেলে নেই। আমাদের শিক্ষকদের শুধু একটি কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে, কোর্স পড়াতে হবে। কোর্স পড়ানো হচ্ছে, পড়িয়ে দিই; শিক্ষা দেওয়ার প্রয়োজন নেই।
আমার তো মনে হয়, শিক্ষকদের পড়ানোও তো একটি চাকরি। কিন্তু আমি মানুষ হিসেবে মানুষকে শিখিয়েছি। মানুষ হিসেবে মানুষকে বোঝা, তাকে শিক্ষার মধ্যে রাখা, সেই শিক্ষাটাই কি নয়? জীবনে ইনস্টিটিউশন, স্কুল, কলেজ, ইউনিভার্সিটি সবকিছু এক কথা নয়। সবকিছুই ইউনিভার্সিটি বা কলেজ থেকে হবে না। বড় বিদ্যালয় হলো বাড়ি।
আমাদের দেশে এখন অর্থ, পদ, ক্ষমতা কিংবা পরিচয়ের ভিত্তিতে মানুষের মূল্য নির্ধারণ করা হচ্ছে। এর মধ্যেই শোষণ তৈরি হচ্ছে। আমার এক বন্ধু বলেছিলেন, “বন্ধু, তুমি যতই বুড়ো হও না কেন, আর যতই তুমি জিনিয়াস হও না কেন, তোমার যদি অর্থ না থাকে, ওই জিনিয়াস তোমার কোনো কাজে আসবে না। তোমাকে কিন্তু সম্মান দেবে না, বন্ধু।”
তার মানে অর্থটাই হচ্ছে মাপকাঠি। পদ না থাকলে আপনি কে? আদর্শও এখন আর কোনো আদর্শ নয়। সেটার মূল্য অনেক আগেই ক্ষীণ হয়ে গেছে।
প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা আছে। এই বোধ পরিবার ও সমাজের একটি বস্তুনিষ্ঠ বাস্তবতা। আমাদের এই মর্যাদাটাকে আমরা একেবারেই হারিয়ে ফেলেছি। কর্মক্ষেত্রে এসে আমরা অনেক সময় মানুষকে একজন মানুষ হিসেবে দেখার পরিবর্তে শুধু একজন কর্মজীবী বা প্রফেশনাল হিসেবে দেখতে শুরু করি। ফলে মানুষের প্রতি মানবিক দৃষ্টিভঙ্গি ও সহমর্মিতার প্রবণতা দিন দিন কমে যাচ্ছে।
আমরা যেন এক অনিয়ন্ত্রিত সময়ের মধ্যে বিচরণ করছি। আমাদের অনেকের মনে যেন একটি ধারণা কাজ করে, আমার অর্থ আছে, আমার ক্ষমতা আছে, আমার পরিচয় আছে; আর কী লাগবে?
কিন্তু একটি কথা আমাদের সবার মনে রাখা দরকার। পদ, ক্ষমতা, অর্থ কিংবা পরিচয় জীবনের শেষ প্রান্তে এসে এগুলোর কোনোটিই আমাদের সঙ্গে থাকবে না। একদিন এই পৃথিবী থেকে চলে যেতে হবে। তখন মানুষ হিসেবে আমাদের পরিচয়টাই সামনে থাকবে। মানুষ তখন আমাদের সম্পর্কে বলবে, তিনি কেমন মানুষ ছিলেন। তাঁর অর্থ কত ছিল, কত ক্ষমতা ছিল, কত বড় পদে ছিলেন, এসবের চেয়ে বড় হয়ে উঠবে তাঁর মানবিকতা, তাঁর আচরণ এবং মানুষের প্রতি তাঁর সম্মান।
জীবদ্দশায় আমরা কত কিছু অর্জন করি, কত মানুষের ওপর প্রভাব বিস্তার করি। অথচ শেষ পর্যন্ত প্রশ্ন থেকে যায়, মানুষ হিসেবে আমরা মানুষের কতটা সম্মান অর্জন করতে পেরেছি? আমাদের চলে যাওয়ার পর মানুষ কি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধার সঙ্গে আমাদের স্মরণ করবে? এই প্রশ্নটি উপলব্ধি করার মতো একটি বিষয়।
আমরা ইতিহাস ও সমাজের দিকে তাকালে একটি বিষয় বারবার দেখতে পাই। ক্ষমতা ও অর্থ যখন মানুষের বিবেককে গ্রাস করতে শুরু করে, তখন সেখান থেকেই শোষণের জন্ম হয়। একজন শাসক যখন তাঁর বিবেক হারিয়ে ফেলেন, তখন তিনি ধীরে ধীরে বিবেকহীন হয়ে পড়েন। ক্ষমতাকে মানুষের সেবার মাধ্যম হিসেবে দেখার পরিবর্তে তিনি ক্ষমতাকে নিজের স্বার্থ রক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করেন।
অসহায় ও দরিদ্র মানুষের দুর্বলতাকে কাজে লাগানো, তাদের ন্যায্য অধিকার আটকে রাখা, মানুষের মৌলিক প্রয়োজনকে ব্যবসার সুযোগ হিসেবে দেখা, এসবের পেছনে কাজ করে সেই বিবেকের অনুপস্থিতি। তখন মানুষ আর মানুষকে মানুষ হিসেবে দেখে না। দেখে তার ক্ষমতা, তার অর্থ, তার প্রয়োজন এবং তার দুর্বলতাকে।
তাই আমার প্রশ্ন হলো, আমাদের বিবেক আছে কেন?
বিবেক আছে আমাদের থামিয়ে দেওয়ার জন্য। অন্যায় করার আগে প্রশ্ন করার জন্য। ক্ষমতা হাতে পেলে নিজেকে মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য যে, ক্ষমতার ওপরে মানুষ। অর্থের ওপরে মানুষ। পদমর্যাদার ওপরে মানুষ।
জীবনের শেষ মুহূর্তে আমাদের সঙ্গে কোনো পদ থাকবে না, কোনো ক্ষমতা থাকবে না, কোনো অর্থ থাকবে না। থাকবে আমাদের কর্মের স্মৃতি এবং মানুষ হিসেবে আমরা কেমন ছিলাম তার মূল্যায়ন। তাই জীবনের সবচেয়ে বড় অর্জন হতে পারে এমন একটি পরিচয়, যেখানে মানুষ আমাদের মনে রাখবে একজন ভালো মানুষ হিসেবে।
বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে এখন বিবেকটা কতটুকু আছে? আছে যতটা শোষণ করা যায়। তবে গুটিকয়েক একজন, দুইজন বা একজনকে দিয়ে পুরো সমাজকে সাধারণীকরণ করা যাবে না। আর ওই যে কয়জনের বিবেক আছে, তারা আবার সেই দুর্দশার মধ্যেই পড়ছেন। আপনারা যারা শোষণ করছেন, তাদের চেয়ে অন্যরা অনেক বেশি কান্নায় দিন কাটাচ্ছেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত এই শোষণের রাজনীতি, শোষণের কর্মকাণ্ড, শোষণের কার্যক্রম এবং শোষণের ব্যবস্থাপনা থাকবে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সমাজ এবং আমাদের অর্গানাইজেশন ভালো মানুষ সৃষ্টি করতে পারবে না, ভালো ট্যালেন্ট সৃষ্টি করতে পারবে না। সেখানে প্রতিযোগিতামূলক বিশ্বে টিকে থাকাও কঠিন হবে।
একটি কথা আমি আপনাদের পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে বলছি। আমরা অনেক সময় বলি, আমাদের অর্গানাইজেশন ভালো করছে। কিন্তু ভালো করবে কীভাবে? আপনার ইন্টারনাল ম্যানেজমেন্ট কতটা ভালো, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। আপনার মানুষগুলো ভালো কর্মকাণ্ডের মধ্যে নিজেদের নিয়োজিত রেখেছে কি না, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। নাকি তারা নোংরা কর্মকাণ্ডের মধ্যে প্রতিনিয়ত নিয়োজিত আছে, সেটিও মালিকদের খেয়াল রাখতে হবে। খেয়াল রাখতে হবে অর্গানাইজেশনের CEO ও কর্ণধারকে। তাঁকে নিশ্চিত করতে হবে, তাঁর অর্গানাইজেশন পুরোপুরি শোষণের আওতামুক্ত।
আমরা আজ যদি সততার কথা বলি, সততা একজন মানুষের জীবনের একটি ব্যবস্থা হয়ে যায়। আমাদের সততা যদি সঠিকভাবে না থাকে, তাহলে মানুষ তার কর্মজীবনে ক্যারিয়ার করতে পারবে না। কর্মক্ষেত্রে অনেকে মুখে সততার কথা বলেন, অন্তরে তা ধারণ করেন না।
আমরা যদি সততাকে দেখি, তাহলে এটি একজন মানুষের নৈতিকতার অন্যতম প্রধান চিহ্ন। সততা মানে সত্য বলা। একই সঙ্গে নিজের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করা, অন্যের অধিকারকে সম্মান করা এবং সুযোগ পেলে অন্যায় সুবিধা গ্রহণ না করা। এই কথাগুলোই হচ্ছে সততার মূল স্তম্ভ।
সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করতে হবে। আপনার যে রেসপন্সিবিলিটি রয়েছে, সেই রেসপন্সিবিলিটিটা আপনি সঠিকভাবে পালন করবেন। অন্যের অধিকার হরণ করবেন না। সবাইকে সম্মান করবেন। সুযোগ পেলে অন্যায় সুবিধা নেবেন না।
আমি একজন সাধারণ মানুষ। কিন্তু অনেক বড় বড় অর্গানাইজেশনে আমি নেতৃত্ব দিয়েছি। অফুরন্ত সুযোগ ছিল। কিন্তু ঈমানকে আমি বিসর্জন দিইনি। আমি জানি, আমি একদিন পৃথিবী থেকে চলে যাব। কিন্তু কোনোদিন আমার কলঙ্ক নিয়ে অন্যরা কথা বলতে পারবে না। আমার কোনো কলঙ্কের কথা যেন বলতে না হয়। আমার অলংকার তো আমার বিবেক, আমার সত্যনিষ্ঠা এবং জীবন গড়ার প্রচেষ্টা।
এই কথাগুলোই আমি আপনাদের সবাইকে বলছি। আপনি বিবেক নিয়ে কাজ করুন। প্রতিদিন নিয়মিতভাবে কাজ করুন। তাহলে সুস্থ থাকতে পারবেন। অন্যথায় শান্তি পাবেন না। সেই কারণে সততার মানুষ, আমি মনে করি, সবচেয়ে বেশি শক্তিশালী।
এই নৈতিক শিক্ষা হতে হবে প্রথমে পরিবার থেকে। ইংরেজিতে একটি কথা আছে, “Charity starts at home.” আপনার নৈতিকতার শিক্ষা পুরোপুরি আপনার পরিবার থেকেই শুরু হবে। শিক্ষা দিতে হবে মা-বাবাকে। কিন্তু শিশুরা উপদেশের চেয়ে বড়দের আচরণে বেশি শেখে।
আমরা একটি কথা সবসময় বলে থাকি, “The next generation will take care of the country.” কিন্তু সেই next generation যদি অসিদ্ধ, দুর্বোধ্য ও দিশাহীন কর্মপ্রাণ মানুষ হয়ে ওঠে, তাহলে দেশের ভবিষ্যৎ কী হবে? সেই কারণে শিক্ষকদের সর্বদাই খেয়াল রাখতে হবে। শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে চরিত্র গঠনকে একটি বড় স্তম্ভ হিসেবে রাখতে হবে। আমাদের শিক্ষকদের এ বিষয়ে সচেতন করতে হবে। তাদের মধ্যে সেমিনার করতে হবে। তাদের বোঝাতে হবে। এগুলোই যদি আমরা করতে পারি, তাহলে দেখা যাবে, ছেলেবেলা থেকে যারা বড় হচ্ছে, তারা কর্মজীবনে যাবে এবং কর্মক্ষেত্রে নৈতিক দায়িত্ব পালন করতে পারবে। কারণ এই নৈতিক ভিত্তিই আমাদের সমাজকে সুসংহত করবে।
এখন যোগ্যতা আছে এমন একজন নেতা যখন নিজে নিয়ম মানেন, ন্যায়বিচার করেন এবং মানুষের প্রাপ্য সম্মান দেন, তখন অধস্তনরা সেই সংস্কৃতি অনুসরণ করে। কারণ একটি জিনিস মনে রাখতে হবে, “Juniors always follow the seniors.” আপনি যত ভালো কাজ করবেন, আপনার জুনিয়ররা সেই ভালো কাজ করতে শিখবে। আপনি খারাপ কাজ করলে আপনার জুনিয়ররাও তা শিখে নেবে।
শিশুদের আপনি যতই উপদেশ দিন, তারা শুধু আপনার কথা শুনে মানুষ হবে না। তারা তার চেয়েও বেশি শিখবে আপনার আচরণ দেখে। আপনি কী করছেন, কীভাবে কথা বলছেন, অন্যের সঙ্গে কীভাবে ব্যবহার করছেন, সুযোগ পেলে কী সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, প্রতিদিন আপনার জীবনযাপন কেমন, শিশুরা সেগুলো গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করে।
পিতা যদি সিগারেট খান, ছোট শিশুকে দেখবেন সন্ধ্যায় একটি কাঠি হাতে নিয়ে সেটি মুখে দেওয়ার চেষ্টা করছে। বাবা যদি পত্রিকা পড়েন, এক-দেড় বছরের শিশুও পত্রিকা হাতে নিয়ে পড়ার ভান করবে। বাবা-মা যদি বই পড়েন, শিশুও বই হাতে নেওয়ার আগ্রহ দেখাবে। কারণ শিশুর শেখার প্রথম মাধ্যম তার পরিবার।
বাবা কীভাবে কথা বলেন, মায়ের সঙ্গে কীভাবে আচরণ করেন, পরিবারের অন্য সদস্যদের কীভাবে সম্মান করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে কেমন ব্যবহার করেন, ভুল করলে কীভাবে তা স্বীকার করেন, এসব থেকেই শিশু তার চরিত্রের ভিত্তি তৈরি করে। বাবা-মা যদি মানুষের সঙ্গে সুন্দরভাবে কথা বলেন, শিশু সুন্দরভাবে কথা বলতে শেখে। পরিবারে যদি সম্মান ও ভালো ব্যবহারের চর্চা থাকে, শিশুর মধ্যেও সেই আচরণ গড়ে ওঠে।
তাই পরিবার শুধু একটি বসবাসের জায়গা নয়। পরিবার হচ্ছে একজন মানুষের প্রথম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। শিশুর চরিত্রের অনেক বড় অংশ তৈরি হয় এই পরিবারেই।
এখানে আরেকটি বিষয় আমাদের গভীরভাবে ভাবতে হবে। পরিবারে যখন অর্থনৈতিক চাপ বাড়ে, যখন জীবনযাত্রার মান নিয়ে অতিরিক্ত প্রতিযোগিতা তৈরি হয়, তখন অনেক সময় মানুষের নৈতিকতার ওপরও চাপ পড়ে। স্বামী-স্ত্রী দুজনই যখন কর্মজীবনে প্রবেশ করেন, তখন সংসারের চাহিদা, সামাজিক প্রতিযোগিতা এবং ভোগের আকাঙ্ক্ষা অনেক সময় এমন পরিস্থিতি তৈরি করে, যেখানে মানুষ নিজের সামর্থ্যের বাইরে জীবনযাপন করতে চায়।
দুইটি ফ্রিজ আছে, আমাদেরও দুইটি ফ্রিজ লাগবে। অন্যের গাড়ি আছে, আমাদেরও গাড়ি চাই। অন্যের সন্তান কোথায় পড়ছে, আমাদের সন্তানকেও সেখানে পড়াতে হবে। এই প্রতিযোগিতা যখন প্রয়োজনের সীমা অতিক্রম করে সামাজিক মর্যাদার প্রতিযোগিতায় পরিণত হয়, তখন পরিবারের ওপর অতিরিক্ত অর্থনৈতিক চাপ তৈরি হয়। সেই চাপ কখনো কখনো একজন মানুষকে অসততার দিকে ঠেলে দিতে পারে।
তাই পরিবারকে শুধু অর্থনৈতিক নিরাপত্তার জায়গা হিসেবে দেখলে হবে না। পরিবারকে এমন একটি জায়গা হতে হবে, যেখানে স্বামী-স্ত্রী একে অপরের কর্মজীবন, সততা এবং মানসিক শান্তিকে সম্মান করবেন। একজন মানুষ যেন তার ক্যারিয়ার গড়তে গিয়ে নিজের নৈতিকতা বিসর্জন দিতে বাধ্য না হয়, সেই পরিবেশ পরিবার থেকেই তৈরি করতে হবে।
একটি দেশ তখনই এগিয়ে যায়, যখন তার পরিবারগুলো সুস্থ মূল্যবোধের ভিত্তিতে গড়ে ওঠে। আমাদের সমাজে চরিত্রের যে ঘাটতি আমরা দেখতে পাচ্ছি, তার একটি বড় অংশের সমাধান শুরু হতে পারে পরিবার থেকে।
এর সঙ্গে শিক্ষা ব্যবস্থারও একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। আমাদের শিক্ষাব্যবস্থায় চরিত্র গঠনের গুরুত্ব আরও বাড়াতে হবে। একজন শিক্ষক শুধু পাঠ্যবই পড়াবেন না; তিনি শিক্ষার্থীদের বারবার মনে করিয়ে দেবেন, জীবনে কতটা জ্ঞান অর্জন করা গুরুত্বপূর্ণ, তার পাশাপাশি সেই জ্ঞান কীভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ।
শিক্ষা যদি শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা, সার্টিফিকেট অর্জন এবং চাকরির প্রস্তুতির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে শিক্ষার প্রকৃত উদ্দেশ্য পূরণ হয় না। একজন শিক্ষার্থীকে সত্যবাদিতা শিখতে হবে। তাকে দায়িত্ববোধ শিখতে হবে। অন্যের প্রতি সহমর্মিতা, ন্যায়বোধ এবং সামাজিক দায়িত্ব তার শিক্ষার অংশ হতে হবে।
আমাদের সন্তান যেন শুধু পরীক্ষায় ভালো নম্বর পাওয়ার জন্য বড় না হয়। সে যেন ভালো মানুষ হওয়ার জন্যও বড় হয়। কারণ জ্ঞান একজন মানুষকে দক্ষ করতে পারে, কিন্তু চরিত্র তাকে মর্যাদা দেয়। শিক্ষা একজন মানুষকে জীবিকা অর্জনের পথ দেখাতে পারে, আর নৈতিকতা তাকে সেই পথে সঠিকভাবে চলার শক্তি দেয়।
পরিবার যদি মূল্যবোধ শেখায়, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি চরিত্র গঠনে গুরুত্ব দেয় এবং কর্মক্ষেত্র যদি সততা ও ন্যায়ের পরিবেশ তৈরি করে, তখন একজন মানুষ তার জ্ঞান, দক্ষতা ও বিবেককে একসঙ্গে নিয়ে এগিয়ে যেতে পারে। সেই মানুষই একটি সুস্থ পরিবার, একটি মানবিক প্রতিষ্ঠান এবং একটি শক্তিশালী সমাজ গড়তে পারে।
নেতৃত্ব, নৈতিকতা ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আমাদের দায়িত্ব
নেতৃত্বের চরিত্র একটি প্রতিষ্ঠানের নৈতিক পরিবেশকে দৃশ্যমান করে তোলে। একজন ভালো ও প্রাণবন্ত নেতা শুধু নিজের কাজের মাধ্যমে নেতৃত্ব দেন না; তাঁর আচরণ, সিদ্ধান্ত এবং মূল্যবোধের মধ্য দিয়ে পুরো কর্মপরিবেশকে প্রভাবিত করেন। আমাদের আজ এমন নেতৃত্ব দরকার, যারা নিজেদের প্রতিটি কাজকে নৈতিকতার মানদণ্ডে বিচার করবেন এবং একটি মানবিক, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশ তৈরি করবেন।
যারা আজ নেতৃত্বের অবস্থানে আছেন, তাদের সব ক্ষেত্রে মনে রাখতে হবে, নেতৃত্ব একটি বিশেষ অধিকার নয়; এটি একটি নৈতিক দায়িত্ব। ক্ষমতা যত বড় হয়, মানুষের প্রতি দায়িত্বও তত বড় হয়। তাই নেতৃত্বে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তিকে নিজের আচরণ ও সিদ্ধান্তের ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে।
আমি এসব কথা বারবার বলি। কখনো কখনো নিজের কাছেই প্রশ্ন জাগে, আমরা কি সত্যিই এই কথাগুলো শুনছি? কারণ দেশের বর্তমান পরিস্থিতি আমরা সবাই দেখছি। কী ঘটছে, কোথায় অন্যায় হচ্ছে, মানুষ কীভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এসব আমাদের কারও অজানা নয়। একটি দেশ এমন পরিবেশের মধ্যে দীর্ঘদিন এগিয়ে যেতে পারে না।
অন্যায় দেখে নীরব থাকা অন্যায়কে আরও শক্তিশালী করে। আমাদের সমাজে যখন কোনো অন্যায় ঘটে, তখন অনেক সময় আমরা প্রতিবাদ করার পরিবর্তে দূর থেকে সেই ঘটনার ছবি বা ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করি। একজন মানুষ বিপদে পড়ে সাহায্যের জন্য তাকিয়ে থাকে, আর আমরা তাকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেওয়ার পরিবর্তে মোবাইল ফোন বের করি। এই আচরণ আমাদের সামাজিক মানসিকতা সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তৈরি করে।
আমাদের মানসিকতার মধ্যে মানবিকতা ও সামাজিক দায়বদ্ধতা আরও শক্তিশালী করতে হবে। অনেক ভালো মানুষও অন্যায়ের প্রতিবাদ করতে ভয় পান। কারণ প্রতিবাদ করতে গিয়ে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে আশঙ্কা তৈরি হয়। এই ভয়কে আমরা উপেক্ষা করতে পারি না। নাগরিকের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তাহলে প্রশ্ন আসে, আইন কোথায়? আইন প্রয়োগকারী প্রতিষ্ঠানগুলো কী করছে? অন্যায়কারীরা যদি প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়ায়, মানুষ যদি তাদের বিরুদ্ধে কথা বলতে ভয় পায়, তাহলে সমাজে অপরাধীরা আরও সাহস পাবে। কিশোর গ্যাং, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি কিংবা যেকোনো ধরনের অপরাধ যখন কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা যায় না, তখন অপরাধীদের মধ্যে দায়মুক্তির সংস্কৃতি তৈরি হয়।
তাই অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে হবে। সেই প্রতিবাদ হতে হবে যুক্তিসঙ্গত, শান্তিপূর্ণ এবং আইনসম্মত। ব্যক্তিগত প্রতিশোধ বা সহিংসতার মাধ্যমে সমাজে ন্যায় প্রতিষ্ঠা করা যায় না। নাগরিকদের একত্রিত হতে হবে, কথা বলতে হবে এবং আইন ও ন্যায়বিচারের প্রতি আস্থা রেখে অন্যায়ের বিরুদ্ধে সামাজিক অবস্থান তৈরি করতে হবে।
একটি সমাজ কখনো কয়েকজন অন্যায়কারীর কাছে বন্দী হয়ে থাকতে পারে না। যারা অন্যায় করে, তাদের সামাজিক ও আইনগত জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে। সমাজ যদি অন্যায়কে মেনে নেয়, তাহলে অন্যায় ধীরে ধীরে স্বাভাবিক আচরণে পরিণত হয়। আর যখন মানুষ অন্যায়কে স্বাভাবিক বলে মেনে নিতে শুরু করে, তখন নৈতিকতার ভিত্তিটাই দুর্বল হয়ে যায়।
তাই আইন, নৈতিকতা এবং সামাজিক দায়বদ্ধতাকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। আইন অপরাধকে নিয়ন্ত্রণ করবে, নৈতিকতা মানুষকে অন্যায় থেকে বিরত রাখবে এবং সামাজিক সচেতনতা মানুষকে অন্যায়ের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস দেবে।
ইতিহাসে আমরা এমন ঘটনাও দেখেছি, যেখানে অত্যন্ত ক্ষমতাবান ব্যক্তিও অন্যায়ের জন্য শাস্তি পেয়েছেন। পদমর্যাদা কাউকে আইনের ঊর্ধ্বে রাখতে পারে না। একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন তার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য হয় এবং ন্যায়বিচারের সামনে কোনো ব্যক্তি তার ক্ষমতা দিয়ে নিজেকে রক্ষা করতে পারে না।
আমাদের দেশও এমন একটি রাষ্ট্র হওয়া উচিত, যেখানে অন্যায়ের বিরুদ্ধে মানুষের কণ্ঠস্বর থাকবে। আমাদের প্রতিবাদের ধ্বনি হতে হবে ন্যায়ের পক্ষে, সত্যের পক্ষে এবং মানুষের মর্যাদার পক্ষে।
এই দেশ অগণিত মানুষের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সৃষ্টি হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধে অসংখ্য মানুষ নিজেদের জীবন দিয়েছেন একটি স্বাধীন, মর্যাদাপূর্ণ ও ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশের স্বপ্ন নিয়ে। সেই দেশের মানুষ অন্যায়, দুর্নীতি ও শোষণের কাছে অসহায় হয়ে থাকবে, এমন বাংলাদেশ আমরা চাই না।
আমাদের প্রত্যেকের নিজের জায়গা থেকে অন্যায়কে প্রত্যাখ্যান করতে হবে। কর্মক্ষেত্রে সততা বজায় রাখতে হবে। প্রতিষ্ঠানে ন্যায়সংগত পরিবেশ তৈরি করতে হবে। সমাজে দুর্বল মানুষের পাশে দাঁড়াতে হবে। অন্যায় দেখলে আইনসম্মত উপায়ে প্রতিবাদ করতে হবে।
তাহলেই একজন মানুষ তার পরিবারে নৈতিকতার চর্চা করবে, কর্মস্থলে দায়িত্বশীল হবে এবং সমাজে একজন সচেতন নাগরিক হিসেবে ভূমিকা রাখবে। ধীরে ধীরে একটি সুসংগঠিত, ভারসাম্যপূর্ণ ও মানবিক সমাজ গড়ে উঠবে।
আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে মানুষ ভালো থাকবে, মানুষ মানুষকে সম্মান করবে এবং দেশকে ভালোবাসবে। যেখানে অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া হবে না। যেখানে নৈতিকতা শুধু বক্তৃতার বিষয় হবে না, মানুষের প্রতিদিনের জীবনের অংশ হয়ে উঠবে।
এই বাংলাদেশই আমাদের প্রত্যাশা। এই বাংলাদেশই আমাদের দায়িত্ব।
আল্লাহ হাফেজ।
-Md. Akbar Hassan
MBA(IBA), MPA(DU)
CEO & Managing Director of BRIDDHI
Tel: +880 1713-457021, +8801819-218044
Email: [email protected]
Website: www.briddhi.org, YouTube: BRIDDHI NETWORK