আমাদের মিছিল Official Page.

আমাদের মিছিল  Official Page. Contact information, map and directions, contact form, opening hours, services, ratings, photos, videos and announcements from আমাদের মিছিল Official Page., ৪৮/১-এ, পুরানা পল্টন, Dhaka.

ছাত্রশিবিরের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি





বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহীম

মানুষের পরিচয়

আমরা মানুষ,সৃষ্টির সেরা জীব। আশরাফুল মাকলুখাত, মহান আল্লাহ অসংখ্য ছোট-বড় সৃষ্টির মধ্যে একমাত্র মানুষকেই সর্বশ্রেষ্ঠ মর্যাদা দিয়ে সৃষ্টি করেছেন। সব সৃষ্টিকেই তিনি একটি নিয়মের অধীন করে দিয়েছেন। কিন্তু মানুষকে তিনি ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। মানুষ যা চায় তাই করতে পারে। এত বড় মর্যাদার সাথে তিনি মানুষকে করেছেন খলীফা বা প্রতি

নিধি। মানুষ সৃষ্টির আগে তিনি ফেরেশতাদের ডেকে বললেন,‘‘আমি পৃথিবীতে আমার খলীফা বা প্রতিনিধি প্রেরণ করব”। (সূরা বাকারা-৩০) খলীফার কাজ হচ্ছে মনিবের প্রদত্ত দায়িত্ব পালন করা এবং পরে যার প্রতিনিধি তাঁর কাছে হিসেব দেয়া।

জীবন বিধান ইসলাম

আল্লাহ মানুষকে দুনিয়ায় পাঠালেন। সাথে দিলেন তাঁর পক্ষ থেকে হেদায়াত। মানুষ যখনই তাঁর দেয়া হেদায়াত ভুলে পথভ্রষ্ট হয়েছে তখনই আল্লাহ তা’য়ালা পাঠিয়েছেন নবী বা রাসূল। সর্বশেষ নবী হযরত মুহাম্মদ (সাঃ)। তিনি খাতামুন্নাবিয়ীন, সাইয়্যেদুল মুরসালীন। তাঁর পর আর কোন নবী আসবেন না। তিনি মানুষের কাছে নিয়ে এসেছেন হেদায়াত গ্রন্থ আল-কুরআন। আল্লাহর মনোনীত একমাত্র জীবন ব্যবস্থা ইসলামকে তার মাধ্যমে পরিপূর্ণতা দান করা হয়েছে। আল্লাহ বলেন, ‘‘ আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম এবং আমার নিয়ামত তোমাদের প্রতি সম্পূর্ণ করলাম”। (সূরা মায়েদা-৩)

মুসলমানের পরিচয়

ইসলাম অর্থ আত্মসমর্পণ। তাই মানুষের মধ্যে যারা এ ইসলামকে কবুল করে বা আল্লাহর কাছে সম্পূর্ণরুপে নিজেদের আত্মসমর্পণ করে তাদের বলা হয় ‘মুসলিম’। কেবল মুসলমানের ঘরে জন্ম হলেই কেউ মুসলমান হয়না, বরং কাফের মুশরিকদের ঘরে জন্ম নিয়েও কেউ যদি ঈমান আনে এবং ইসলামের সব বিধি-বিধান মেনে চলে তবে সেও মুসলিম। মানুষের মধ্যে মুসলিমরা সর্বশ্রেষ্ঠ জাতি। কুরআনের ভাষায়, “তোমাদেরকে শ্রেষ্ঠ জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা সৎ কাজের আদেশ দাও আর অসৎ কাজ থেকে বিরত রাখ।“(সূরা- আলে ইমরান-১১০)

অন্য স্থানে বলা হয়েছে, “তোমাদেরকে মধ্যমপন্থি জাতি হিসেবে সৃষ্টি করা হয়েছে, যেন তোমরা মানুষের জন্য সত্যের সাক্ষ্য হতে পার।“ (সূরা-বাকারা-১৪৩)

কিন্তু

আজ মানুষ ভুলে গেছে তার পরিচয়। মুসলমান বিস্মৃত হয়েছে তার দায়িত্ব ও কর্তব্য সম্পর্কে। ফলে জলে-স্থলে সর্বত্র চলছে অনাচার, অবিচার ও অশান্তির প্রবল স্রোত। মানুষে মানুষে চলছে হানাহানি, কাটাকাটি, হিংসা-বিদ্বেষ, অসাম্য ও দূর্ভোগ। অসংখ্য বনী আদম অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান ও চিকিৎসার অভাবে ধুঁকে ধুঁকে মরছে। অথচ লক্ষ লক্ষ টন খাদ্য সমুদ্রে ফেলে নষ্ট করা হচ্ছে, পারমানবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতায় ব্যয় হচ্ছে কোটি কোটি ডলার। যাদের মুখে শোনা যায় শান্তির ললিত বাণী তারাই আবার অপরকে দেয় পারমাণবিক বোমার হুমকি। অসহায় মানুষ আল্লাহর কাছে ফরিয়াদ করছে মুক্তির জন্য। মুসলমানদের অবস্থাতো আরো করুণ; আফগানিস্তান, ফিলিস্তিন, কাশ্মীরসহ বিশ্বের অনেক স্থানে মুসলমানদের রক্ত নিয়ে হোলি খেলছে বেদ্বীনরা। ইরাকের মুসলমানদের উপর চলছে ইহুদীবাদের ক্রীড়নক মার্কিনীদের নেতৃত্বে বিশ্ব ইসলাম বিরোধী শক্তির ভয়াবহ নিষ্ঠুর নির্যাতন। এ ব্যাপারে মুসলমানদের কোন ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা নেই, নেই কোন কার্যকর পদক্ষেপ। তাই মুসলমানদের বিরুদ্ধে দিন দিন ষড়যন্ত্র তীব্র থেকে তীব্রতর হচ্ছে। অবশ্য ইসলামের বিজয়ের সম্ভাবনাও দিন দিন বাস্তবরূপ লাভ করছে।

একদিন...

সব মানুষকেই মরতে হবে। ফিরে যেতে হবে মহান স্রষ্টার কাছে। কিয়ামাতের প্রবল প্রলয়ে সমস্ত কিছু ধ্বংসের পর মানুষের ভাল-মন্দের বিচারের সময় এসে যাবে। সেদিন যাদের ভাল কাজের পরিমাণ বেশী হবে তারাই মুক্তি পাবে, পুরস্কার হিসেবে পাবে চির শান্তির জান্নাত। আর যাদের মন্দ কাজের পাল্লা ভারী হবে তারা পাবে অবর্ণনীয় আযাবে ভরপুর চির দুঃখের জাহান্নাম। যে যেখানেই যাবে সেখানেই থাকবে চিরদিন, অনন্তকাল। সেদিন অবশ্যই সকলকে দুনিয়ার বর্তমান অবস্থায় তার ভূমিকা ও কাজ সম্পর্কে জবাবদিহি করতে হবে।

তাই

আল্লাহ নিজেই সেদিনের মুক্তির ব্যবস্থা করে রেখেছেন। তাঁর কালামের ভাষায়, ‘‘তোমরা আল্লাহর রাস্তায় জান ও মাল দিয়ে লড়াই কর। এটিই হবে তোমাদের জন্য কল্যাণকর, যদি তোমরা বুঝ। তোমাদের গুনাহ ক্ষমা করা হবে, আর তোমাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হবে; যার তলদেশে আছে ঝর্ণাধারা।“ (সূরা আস্ সফ-১১-১২)

সুতরাং

আজকের এই অবস্থায় আমাদের উচিৎ ইসলাম সম্পর্কে জানা, কুরআন-হাদীস পড়া এবং মানুষের মুক্তির জন্য আল্লাহর পথে প্রাণান্ত প্রচেষ্টা চালানো, সৎ কাজের আদেশ দেয়া ও অসৎ কাজ হতে বিরত রাখা। কিন্তু এ কাজটি একা একা করা যায়না। এজন্য প্রয়োজন সংঘবদ্ধ প্রচেষ্টা। হযরত উমর রাঃ তাই বলেছেন, ‘‘দল ছাড়া ইসলাম হয় না।“ আমাদের দেশের অবস্থা বড়ই নাজুক। পৃথিবীর অন্যতম একটি দরিদ্র জনপদ এই দেশ। শতকরা ৪৯ জন মানুষ দারিদ্র সীমার নিচে বাস করছে। মানুষের জীবনে নেই সুখ, নেই শান্তি, নেই কোন আদর্শের ছবি। শিশু কিশোররাও বেড়ে উঠছে অনৈতিকতার মধ্য দিয়ে। এ অবস্থা চলতে দিলে জাতির ভবিষ্যত গাঢ় অন্ধকারময়। এর হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য প্রয়োজন একদল সচেতন লোকের। তাই এখানেও আল্লাহর পথে তরুণদের ডাকার জন্য, দেশের ভবিষ্যত নাগরিকদের আদর্শ ও চরিত্রবানরূপে গড়ে তোলার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে তরুণ ও মেধাবী ছাত্রদের সংগঠণ- বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির।

শিবিরের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যঃ

আল্লাহ প্রদত্ত ও রাসূল সাঃ প্রদর্শিত বিধান অনুযায়ী মানুষের সার্বিক জীবনের পূণর্বিন্যাস সাধন করে আল্লাহর সন্তোষ অর্জন।

কর্মসূচীঃ

উল্লেখিত লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য ইসলামী ছাত্রশিবির প্রণয়ন করেছে বিজ্ঞানসম্মত পাঁচ দফা কর্মসূচী:

এক. দাওয়াত : তরুণ ছাত্রসমাজের কাছে ইসলামের আহবান পৌঁছিয়ে তাদের মাঝে ইসলামী জ্ঞানার্জন এবং বাস্তব জীবনে ইসলামের পূর্ণ অনুশীলনের দায়িত্বানুভূতি জাগ্রত করা।

দুই. সংগঠন : যেসব ছাত্র ইসলামী জীবন বিধান প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে অংশ নিতে প্রস্তুত, তাদেরকে সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ করা।

তিন. প্রশিক্ষণঃ এই সংগঠনের অধীনে সংঘবদ্ধ ছাত্রদেরকে ইসলামী জ্ঞান প্রদান এবং আদর্শ চরিত্রবানরূপে গড়ে তুলে জাহেলিয়াতের সমস্ত চ্যালেঞ্জের মোকাবিলায় ইসলামের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করার যোগ্যতাসম্পন্ন কর্মী হিসেবে গড়ার কার্যকরী ব্যবস্থা করা।

চার. ইসলামী শিক্ষা আন্দোলন ও ছাত্র সমস্যা: আদর্শ নাগরিক তৈরির উদ্দেশ্যে ইসলামী মূল্যবোধের ভিত্তিতে শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন সাধনের দাবিতে সংগ্রাম এবং ছাত্রসমাজের প্রকৃত সমস্যা সমাধানের সংগ্রামে নেতৃত্ব প্রদান।

পাঁচ. ইসলামী সমাজ বিনির্মাণ : অর্থনৈতিক শোষণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন এবং সাংস্কৃতিক গোলামী হতে মানবতার মুক্তির জন্য ইসলামী সমাজ বিনির্মাণে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানো।

দেশের প্রতিটি জনপদ জুড়ে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির কাজ করে যাচ্ছে তার বিশাল কর্মী বাহিনী নিয়ে। শিবির একজন তরুণকে একই সাথে একজন ভাল ছাত্র ও একজন ভাল মুসলমান হিসেবে গড়ে তুলতে চেষ্টা করছে। ব্যক্তিগত রিপোর্টে পাঠ্য বই পড়ার ও ক্লাসে উপস্থিতির হিসেব রাখার ব্যবস্থা করে শিবির তার কর্মীদের ভাল ছাত্র হতে আগ্রহী করে তোলে।

ইসলাম যেমন সকল মানুষের কল্যাণের জন্য তেমনি ইসলামী ছাত্রশিবিরও মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান সবার কাছে ইসলামকে সুন্দরভাবে তুলে ধরার কর্মসূচী নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে। তাই এই সুন্দর কর্মসূচী ও চরিত্রবান কর্মীদের প্রতি দিন দিন জনসমর্থন বাড়ছে। আসুন, আপনিও শিবিরের পতাকাতলে সমবেত হয়ে নিজেকে গড়ে তুলুন সুন্দর ও যোগ্যতম ব্যক্তি হিসেবে। শরিক হোন ইহকাল ও পরকালের মুক্তিকামী মানুষের এই কাফেলায়।

বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরকে জানতে হলে পড়ুন
ইসলামী ছাত্রশিবিরের সংবিধান
ইসলামী ছাত্রশিবিরের কর্মপদ্ধতি
আমরা কি চাই, কেন চাই, কিভাবে চাই
এসো আলোর পথে
মুক্তির পয়গাম

13/10/2014
13/10/2014
"পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শিবিরের শুভেচ্ছা" "পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শিবিরের শুভেচ্ছা"
05/10/2014

"পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শিবিরের শুভেচ্ছা"

"পবিত্র ঈদুল আয্হা উপলক্ষ্যে দেশবাসীকে শিবিরের শুভেচ্ছা"

আদালতে আল্লামা সাঈদীর মর্মস্পর্শী ভাষণঃ(আপিল শুনানীর শেষ দিনে)========================================================="...
17/09/2014

আদালতে আল্লামা সাঈদীর মর্মস্পর্শী ভাষণঃ
(আপিল শুনানীর শেষ দিনে)
=========================================================
" আমি দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী, ৫৬ হাজার বর্গমাইলের এই বাংলাদেশের
প্রতিটি জেলা - উপজেলার সকল জনগণের কাছে অতি পরিচিত দেলাওয়ার
হোসাইন সাঈদী । এই মামলায় আমার নাম বিকৃতি করে তদন্ত কর্মকর্তা কখনো দেলোয়ার শিকদার, বর্তমানে সাঈদী, কখনো দেলু ওরফে দেইল্লা ও দেউল্লা বলে আখ্যায়িত করেছে । আমার বিরুদ্ধে চুরি, ডাকাতি, জেনা ব্যাভিচারের অভিযোগ
এনেছে এসপি হান্নান। স্থানীয় এম্পির সাথে বসে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা সাক্ষী সাবুদ
তৈরি করেছে । রোজ কিয়ামতের ভয় আছে, পরকালে বিশ্বাস আছে এমন কোন
মুসলমান কোন মানুষের বিরুদ্ধে এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ আনতে পারে না ।
আমার বিরুদ্ধে যে ২০টি অভিযোগ আনা হয়েছে তার একটির এক বর্ণও যদি সত্য
হয় তাহলে আমি যেন ঈমান নিয়ে মরতে না পারি । রোজ কিয়ামতের দিন যেন রাসুল (সাঃ) এর শাফায়েত আমি না পাই । আর যদি আমার বিরুদ্ধে আনীত
অভিযোগ মিথ্যা হয় এবং যারা এ মিথ্যা অভিযোগ এনেছে তারা যদি তাওবা না করে তাওবা যদি তাদের নসীবে না হয়, তাহলে গত চারটি বছর আমি ও আমার
পরিবার এবং আমার ভক্ত অনুরক্তবৃন্দ যে কস্ট এবং যন্ত্রণা ভোগ করেছে, আমার
চোখের যে পানি ঝরেছে, আমার সন্তানদের চোখের যে পানি ঝরেছে তার প্রতিটি ফোটা যেন অভিশাপের বহ্নিশিখা হয়ে আমার আমাদের থেকে শত গুন যন্ত্রণা ভোগের আগে, কস্টভোগের আগে আল্লাহ যেন তাদের মৃত্যু না দেন ।
মিথ্যাবাদিদের ওপর আল্লাহর অভিশাপ অযুত ধারায় বর্ষিত হোক । আর জাহান্নাম যেন হয় তাদের স্থায়ী ঠিকানা । আমার প্রতি যদি জুলুম করা হয় তাহলে এ
বিচারের দুইটি পর্ব হবে । আজ এখানে একটি পর্ব শেষ হবে । আর রোজ কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর দরবারে আরেকটি বিচার বসবে । সেদিন রাজাধিরাজ সকল সম্রাটের সম্রাট, সকল বিচারকের বিচারপতি, আসমান ও জমিনের মালিক মহান আল্লাহ তায়ালা হবেন বিচারপতি। যদি রাজনৈতিক প্রতিহিংসা পরায়ন হয়ে আমার প্রতি জুলুম করা হয় তাহলে আমার প্রতি যারা মিথ্যাচারের আশ্রয় নিয়েছেন, আজ এখানে যারা আছেন তারা হবেন আসামি আর
আমি হবো বাদী । আপনাদের তিনজনের প্রতি আমি আশা রেখে বলছি, আল্লাহ
তায়ালা আপনাদের ন্যায় বিচারের তাওফিক দান করুন ।

সাঈদীর ইমতিহান, ইনসানিয়াত ও রিজ্জা প্রসঙ্গ!গোলাম মাওলা রনি সাবেক সংসদ সদস্যআমি যখন তাকে প্রথম দেখি তখনো তার নামের সাথে আ...
16/09/2014

সাঈদীর ইমতিহান, ইনসানিয়াত ও রিজ্জা প্রসঙ্গ!
গোলাম মাওলা রনি সাবেক সংসদ সদস্য

আমি যখন তাকে প্রথম দেখি তখনো তার নামের সাথে আল্লামা উপাধি সংযুক্ত হয়নি। সেটা ছিল ১৯৭৬ সালের কথা। আমি কেবল তার সুরেলা কণ্ঠ ও দাড়ি-টুপির আকৃতির কথা মনে রাখতে পেরেছিলাম। এরপর তাকে দ্বিতীয়বার দেখি ১৯৯৪ সালে চট্টগ্রামের প্যারেড ময়দানে। ব্যবসা উপলক্ষে আমি তখন চট্টগ্রামে ছিলাম বেশ কয়েক দিনের জন্য। সারা দিন প্রচণ্ড কাজ। কিন্তু সন্ধ্যে হলেই অখণ্ড অবসর। ওই শহরে আমার পরিচিত জন ছিল একেবারেই হাতেগোনা। দুই-এক দিন পর বিকেলে গেলাম পতেঙ্গা সৈকতেÑ তা-ও আর ভালো লাগছিল না। হোটেলে বসে থাকতে থাকতে যখন একেবারেই অধৈর্য্য হয়ে উঠলাম তখন দেখলাম অনেকগুলো লোক দলবেঁধে পাজামা-পাঞ্জাবি ও টুপি পরে মাহফিলে যাচ্ছে। আমিও তাদের সঙ্গী হলাম কোনো কিছু জিজ্ঞাসা না করেই। প্রায় ঘণ্টাখানেক হাঁটার পর মাহফিলস্থলে পৌঁছলাম এবং ওয়ায়েজিনের কণ্ঠ শুনে বুঝলাম মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী বক্তব্য দিচ্ছেন। আমি ওয়াজ শুনছিলাম এবং হেঁটে হেঁটে প্যারেড ময়দানের চার পাশে ঘুরে ঘুরে লোকজনের সংখ্যা নিরূপণের চেষ্টা করছিলাম। কত হবেÑ কেউ বলে পাঁচ লাখ, কেউ বলে দশ লাখÑ কেউ কেউ আরো বেশি। এত বিশাল জনসমাবেশ আমি ইতঃপূর্বে যেমন দেখিনি তেমনি আজ অবধিও দেখিনি কেবল তাবলিগ জামাতের মহাসমাবেশ ছাড়া।
ওই দিনের পর থেকে আমি জনাব সাঈদীর একজন ভক্ত হয়ে গেলাম। চট্টগ্রামের মাহফিলে আমার দ্বিতীয়বার যাওয়ার সুযোগ হয়নি কিন্তু মতিঝিল সরকারি উচ্চবিদ্যালয়ের বিশাল মাঠের বার্ষিক মাহফিল নিয়মিত শুনেছি। কিন্তু আমার সুযোগ হয়নি তার সামনে দাঁড়িয়ে বা কাছে বসে দু’দণ্ড কথা বলার কিংবা একান্ত কাছ থেকে দেখবার। শেষমেশ সেই সুযোগটি এলো ২০০৪ সালে। আমার এক বন্ধু ফোন করে জানালেন যে সাঈদী সাহেব রাতে তার বাসায় দাওয়াত খাবেন। তিনি আর কাউকেই দাওয়াত দেননি কেবল আমাকে ছাড়া। আমি আগ্রহভরে সে রাতে বন্ধুর নিমন্ত্রণ গ্রহণ করেছিলাম। সাঈদী সাহেব এলেন এবং আমরা পরিচিত হলাম। তিনি যখন জানলেন যে আমি বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের একজন সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রার্থী তখন ভারী উৎসাহ, উদ্দীপনা ও আগ্রহ নিয়ে আমার মুখের দিকে তাকালেন এবং মুচকি হেসে বললেনÑ আওয়ামী লীগে এত ভদ্রলোক আছেন তা আপনাকে এবং ফারুখ খানকে না দেখলে বোঝা যাবে না। আমি মূলত তার ওয়াজ মাহফিল নিয়েই কিছু কথা বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু আবেগের আতিশয্যে পারিনি। কেবল জিজ্ঞাসা করেছিলামÑ শেখ হাসিনা সম্পর্কে আপনার মূল্যায়ন কী? তিনি বলেছিলেন, আমরা তাকে শ্রদ্ধা করি বঙ্গবন্ধু কন্যা হিসেবে। তিনি যদি জানতেনÑ তার প্রতিদ্বন্দ্বীরা তাকে কিভাবে শ্রদ্ধা করে কেন করে এবং কখন করে তাহলে তার রাজনৈতিক দর্শন আরো মর্যাদা পেত।
এরপর আর আমার সাথে সাঈদী সাহেবের দেখাও হয়নি এবং কথাও হয়নি। উনি অবশ্য তার বাসায় বেড়াতে যাওয়ার দাওয়াত দিয়েছিলেন। সেটাও হয়ে ওঠেনি ব্যস্ততার কারণে। কিন্তু প্রতি মুহূর্তেই আমি তার সাথে ছিলাম এবং এখনো আছিÑ হয়তো আল্লাহ চাইলে ভবিষ্যতেও থাকব। তার সাথে থাকার মূল ভিত্তিটি হলো ওয়ায়েজিন হিসেবে তার বক্তব্য, সুরেলা আওয়াজ, ুরধার যুক্তি। বর্ণাঢ্য উপস্থাপনা, সাবলীল ও সহজবোধ্য ভাষার প্রয়োগ এবং প্রচণ্ড মোহময়তার সুতীব্র চৌম্বক শক্তিতে লাখ লাখ মানুষকে মাহফিলের মধ্যে ঘণ্টার পর ঘণ্টা ধরে আকৃষ্ট করে রাখার প্রবল ক্ষমতা। প্রথম জীবনে আমি দাদাকে নিয়ে তার মাহফিলে গিয়েছি। তারপর আব্বাকে নিয়েÑ সবশেষে গিয়েছি নিজের পুত্রসন্তানকে নিয়ে। যখন প্রথম গিয়েছিলাম তখন ছিলাম প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র। যখন সর্বশেষ গিয়েছিলাম তখন যৌবন পেরিয়ে প্রৌঢ়ত্বে ঢোকার ভয় মনের মধ্যে প্রবেশ করেছিলÑ এবং তখন আমার কথা আর বক্তব্য শোনার জন্যও হাজার হাজার মানুষের সমাগম হতো। কিন্তু আশ্চর্য ব্যাপার হলোÑ আমার প্রথম দর্শন ও শেষ দর্শনের মধ্যকার প্রায় ৩০টি বছরের ব্যবধানে একবারও জনাব সাঈদীর বক্তব্য পুরোনো, অ-আকর্ষণীয়, বিরক্তিকর কিংবা একঘেয়ে বলে মনে হয়নি। যুগ যেমন টেপ রেকর্ডার থেকে সিডি-ভিসিডি ও ডিভিডিতে রূপান্তরিত হয়ে ওয়েববেইজড হয়ে গেছে, তেমনি সাঈদী সাহেবও জমিনের মালিক আল্লাহর বাণী এবং তাঁর হাবিবের বাণীকে আধুনিক মানুষের মনের উপযোগী করে উপস্থাপন করেছেন। ফলে গত প্রায় ৪০টি বছর ধরে বাংলা ভাষাভাষী তাবৎ দুনিয়ার মুসলমান নরনারীর কাছে তিনি রূপান্তরিত হয়েছেন জীবন্ত কিংবদন্তি রূপে। মানুষের বুভুু আধ্যাত্মিকতার জগতে তিনি এক মুকুটহীন বাদশা এবং মনোজগতের আলোকিত স্বপ্নপুরুষ।
আমার ক্ষেত্রে কিন্তু জনাব সাঈদীর বিষয়টি এরূপ হওয়ার কথা ছিল না। কারণ শৈশব থেকেই আমি ধর্মকর্ম করার একজন রক্ষণশীল মানুষ হিসেবে বেড়ে উঠছিলাম। কলেজজীবনে এসে সরাসরি ছাত্রলীগের রাজনীতির একজন কট্টরপন্থী কর্মী হিসেবে ইসলামপন্থী দলগুলো সম্পর্কে ভালো ধারণা পোষণ করতাম না। এরপর আমি দেখা পাই আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতিদের। এদের দু’জন ইমামÑ খাজা আবু তাহের ও মাওলানা আব্দুল জলিলের পেছনে প্রায় দেড় যুগ ধরে জুমার নামাজ পড়েছি। এখানে উল্লেখ্য যে আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাত গত নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে এবং তারা জামাত-শিবিরকে খুবই ঘৃণা করে, মনে হয় অমুসলিমদের চাইতেও বেশি। এমন একটি পরিবেশে থেকে সাঈদীর গুণমুগ্ধ ভক্ত হওয়া খুবই জটিল ও কঠিন একটি বিষয়। প্রথমে মনে হতোÑ আমি বোধ হয় একা। পরে দেখলাম আওয়ামী লীগ করেন এমন লোক তো বটেই অনেক হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টানরাও সাঈদী সাহেবের জন্য পাগল। অনেক হিন্দুর বাড়ি-গাড়িতে আমি জনাব সাঈদীর ওয়াজের ক্যাসেট কিংবা সিডি দেখেছি।
এই মুহূর্তে জনাব সাঈদী কারারুদ্ধ। তিনি যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক সাজাপ্রাপ্ত। আপিল আদালত হয়তো খুব তাড়াতাড়ি এবং যেকোনো সময় রায় দিয়ে দিতে পারে। কী রায় হয়েছে কিংবা কী রায় হবে তা নিয়ে আমার মাথাব্যথা নেই। তবে মনোবেদনা তো অবশ্যই আছে। মনে প্রশ্ন জাগেÑ এমনটি কেন হলো। যে মানুষটি ৪০টি বছর ধরে সারা দুনিয়ার আনাচে কানাচে বাঙালিদের আস্তানায় গিয়ে কুরআন শুনিয়ে এলেন। তার কণ্ঠের মোহময় জাদুতে আকৃষ্ট হয়ে মানুষজন সুপথ পেল কিংবা যার যৌক্তিক আহ্বানে লাখ লাখ মানুষ দ্বীনের পথে পাবন্দ হলো তিনি আজ কেনই বা এত বড় মুছিবতে পড়লেন! আমরা তেমন কিছু জানি নাÑ আল্লাহ পাকই ভালো জানেন। তবে সাঈদী-বিরোধীরা যেসব কুৎসা রটনা করছে তা এ দেশের সাধারণ মানুষ বিশ্বাস করে না। সাধারণ মানুষের তো কোনো ক্ষমতাই নেই। তারা কেবল অন্তর থেকে কাউকে ঘৃণা করতে পারেন এবং আল্লাহর দরবারে ঘৃণিত ব্যক্তির জন্য শান্তি কামনা করতে পারেন। অন্য দিকে ভালোবাসার মানুষটির জন্য দোয়া করতে পারেন। সেই দিক বিবেচনায়Ñ জনাব সাঈদী এ দেশের লাখো-কোটি মানুষের মনের আকুতি মিশ্রিত দোয়া যে পাচ্ছেন তা আমি বলতে পারি নির্দ্বিধায়।
এবার আমি বলছিÑ ভিন্ন মতের, ভিন্ন ধারায় থেকেও কেন সাঈদীর অনুরক্ত হলাম। কারণ একটাইÑ আমার আত্মার খোরাক মেলে তার ওয়াজের মাধ্যমে। আজো আমি সময় পেলে ইউটিউবে গিয়ে যেমন কারি আবদুল বাসিত, শেখ মোহাম্মদ জিবরিল, শেখ মোহাম্মদ খলিল আল হুসাইরি, আবদুর রহমান সুদাইস, শেখ সুরিইয়াম, কারি সাদাকাত, মো: রিফাত, আল আফাসী প্রমুখের সুললিত কণ্ঠের কুরআন তেলাওয়াত শুনিÑ তেমনি জনাব দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজও শুনি। অবাক করার বিষয় হলোÑ সাঈদী সাহেবের ওয়াজের একেকটি ভিডিও ১৪-১৫ লাখ লোক পর্যন্ত দেখেছে। কোনো বাঙালি শিল্পী, কিংবা বক্তা কিংবা ওয়ায়েজিনের ভিডিও এত মানুষ আজ অবধি দেখেনি। আমি এসব ভিডিও বা অডিও কিপ শুনি এবং আত্মার প্রশান্তি অনুভব করি। আমি লক্ষ করেছি আমাদের দেশের বেশির ভাগ সাঈদীবিরোধী লোকজন না বুঝে এবং না জেনেই সাঈদীর সমালোচনা করেন। আবার উল্টোটাও আছেÑ কোনো রকম ভালোমন্দ বিচার-বিবেচনা না করেই অন্ধভাবে সাঈদী সাহেবকে সমর্থন করেন। আমার ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভিন্ন রকম। আমি ব্যক্তি সাঈদী সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না বা জানার প্রয়োজনও মনে করিনি। কিন্তু পবিত্র আল কুরআনের তাফসিরকারক অর্থাৎ মুফাসসিরে কুরআন হজরত মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদী সম্পর্কে বেশ ভালোভাবে জানি। তার বক্তব্যের কোন জায়গায় কতটুকু সীমাবদ্ধতা রয়েছে এবং কোথায় কোথায় অনন্যসাধারণ চমৎকারিত্ব রয়েছে তা যেমন লক্ষ করেছি তেমনি আরবি উচ্চারণের ভালো-মন্দের দিকেও খেয়াল করেছি। আরবি ব্যাকরণ কিংবা হাদিসের ব্যাখ্যা অথবা তাসাউফের আলোচনায় কেউ কেউ জনাব সাঈদীর পাণ্ডিত্য নিয়ে প্রশ্ন তুলতে পারেন কিন্তু সামগ্রিকভাবে ইসলামের খেদমতে তার ধারে কাছে দাঁড়াতে পারেন এমন আলেম বাংলাদেশে একজনও নেই।
সাঈদীর পাশে কোনো আলেম দাঁড়াতে পারবেন নাÑ এত বড় কথা আমি কিভাবে বললাম? এ ব্যাপারে বিস্তারিত বললেই সম্মানীত পাঠক বিষয়টি স্পষ্ট বুঝতে পারবেন এবং সাথে সাথে এ-ও বুঝতে পারবেনÑ কেন আমার মতো লাখ লাখ মানুষ ভিন্ন ধারার রাজনীতির ধারকবাহক হওয়ার পরও জনাব সাঈদীকে পছন্দ করেন। পাক ভারত উপমহাদেশের ইসলাম ধর্মের আনুষ্ঠানিকতা, ধ্যানধারণা তাবৎ দুনিয়া থেকে আলাদা। বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তানের মুসলমানগণের একটি বিরাট অংশ বিভিন্ন পীর, দরবেশ, আওলিয়া কিংবা মাজারকেন্দ্রিক ঐক্য গড়ে তুলে ধর্মকর্ম পালন করে থাকে। এসব পীর-ফকির-দরবেশ-দরগা ও মাজারে ফিবছর ভক্তবৃন্দ জমায়েত হয়ে নিজ নিজ রীতি অনুযায়ী নামাজ, কালাম, জিকির, ফিকির, নাচ-গান ও খানাপিনা করে থাকেন। কেউ এই জমায়েতকে বলেনÑ ইসালে সওয়াব, কেউ বলেন ওরশ মোবারক আবার কেউ কেউ বলেন তাবলিগ বা বিশ্ব জাকের সমাবেশ। এসব অনুষ্ঠান দুই-তিন দিন ধরে হয়। অনুষ্ঠানের আশেপাশে বিরাট মেলাও বসে যায়। ধর্মকর্মের পাশাপাশি মানুষ দুনিয়াদারির কর্মকাণ্ডও করে থাকেন। পীরেরা কিংবা দরগার খাদেমরা সবসময় ভক্তকুলের কাছ থেকে নজরানা গ্রহণ করেন, যা তাদের সারা বছরের জীবন-জীবিকার একমাত্র সংস্থান বলে গণ্য হয়। আমার গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের সদরপুরে ছোট-বড় ১০-১২ জন দরবারভিত্তিক পীর-মোর্শেদ দেখে আসছি। তাদের মধ্যে আকার আকৃতি ও ভক্তকুলের সংখ্যাধিক্যে আটরশি ও চন্দ্রপাড়ার পীর সাহেবদের নামডাক দেশে থাকলেও স্থানীয় হিসেবে আমাদের অভিজ্ঞতা অত ভালো না।
বড় হয়ে যখন পৃথিবীর অন্যান্য মুসিলম দেশে গেলাম তখন বাংলাদেশের মতো এরূপ কাণ্ডকারখানা কোথাও দেখলাম না। যা হোকÑ বহু পীরের কাছে গেলাম। মনে অনেক প্রশ্ন। অনেক কিছু জানতে চাই। কিন্তু পীরেরা কথা বলেন না। তাদের সামনে হাঁটুগেড়ে বসিÑ হাতজোড় করে থাকি এবং নজরানা দেই। পীরসাহেবরা জোরে জোরে ফুঁ দিয়ে দেন। পীর বাবার ফুঁ মাথায় নিয়ে বাইরে আসি কিন্তু অন্তর ঠাণ্ডা হয় না। বরং নজরানার টাকাগুলোর জন্য একধরনের মায়া মায়া ভাবের জন্য মনটাই খারাপ হয়ে যেত। এরপর আমি যেতাম বিভিন্ন ওয়াজ মাহফিলে। বক্তা কান্নার ভান করে বিকট গলায় ভয়ঙ্কর আওয়াজ তুলে এমন সব মারিফাতি কিচ্ছাকাহিনী শুরু করত, যা শুনলে রুচিবান লোকের বমি বমি চলে আসত। চিন্তাশীল মানুষ হলে ইসলাম সম্পর্কেই বিশ্বাস হারিয়ে ফেলত। এ ঘটনার পর আমি ওই সব পীর-ফকিরের দরবার এবং গলাবাজ ওয়ায়েজিনদের মাহফিলে যাওয়া বন্ধ করে দেই। কুরআন-হাদিস পড়ার পাশাপাশি বিখ্যাত অলি আল্লাহগণের লিখিত বই পড়ার পর ধর্মকর্মে এক ধরনের প্রশান্তি অনুভব করতে থাকি। অন্যান্য ধর্মের সাথে ইসলামের তুলনা এবং আমাদের ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব বোঝার জন্য আরো কিছু বইপত্র পড়ে নিজের জ্ঞান ও বিশ্বাসকে ঝালাই করে নিলাম। কিন্তু সমস্যা হলোÑ ধর্মমতে সব কিছু করতে পারছিলাম না।
আমি প্রাণপণে চাইতাম বাবা-মাকে শ্রদ্ধা ও আমার জীবনের সব ভালো জিনিসগুলো দিয়ে তাদেরকে সেবা করে আল্লাহ পাকের নৈকট্য হাসিল করার জন্য। আমি এ-ও চাইতাম যে আমার বহু কষ্টের উপার্জনের একটি অংশ ভাই, বোন ও দরিদ্র আত্মীয়স্বজনের মধ্যে বিলি করে দেই। গোপনে অসহায় লোকজনকে দানখয়রাত করি এবং জমিনে মাথা নিচু করে বিনয়সহকারে চলাফেলা করি। কিন্তু কিসের জন্য জানি নাÑ কৃপণতা আমাকে ভর করে বসল। বিনয়ের পরিবর্তে নিজের অর্থ, বিত্ত, জ্ঞান-গরিমা, চেহারা-সুরত ও বংশমর্যাদার জন্য রীতিমতো গর্ব বা অহঙ্কার করা শুরু করলাম। ফলে আমার আপনজনের অনেকের সাথেই আমার দূরত্ব সৃষ্টি হয়ে গেল। ঠিক এই সময়ে অর্থাৎ ১৯৯৪ সালে আমি সাঈদী সাহেবের মাহফিলে গেলাম। তিনি সে দিন সুরা ফাতিহার তাফসির করছিলেন। তিনি বলছিলেনÑ রাহমান বা রহমান নামের মাহাত্ম্য সম্পর্কে। প্রথমে পুরো সূরাটি তেলাওয়াত করলেন। তারপর বর্ণনা করলেন সূরাটির গুরুত্ব। এরপর চলে গেলেন শাব্দিক অর্থের ব্যাখ্যায়। আলহামদু লিল্লাহ, রাব্বুল, আলামিনÑ এই তিনটি শব্দের মধ্যে রব শব্দের মর্মবাণী এবং মর্মার্থ শুনে আমি পাগল হওয়ার উপক্রম হলাম। এরপর তিনি যখন আর রহমান শব্দ নিয়ে তাফসির শুরু করলেন তখন সাঈদী সাহেবের গলার আওয়াজ ছাড়া আমি আর কিছু শুনতে কিংবা দেখতে পাচ্ছিলাম না। চোখ বন্ধ করে আমার মালিকের বিশালত্ব তার রব নামের ব্যাপকতা এবং রহমান নামের সার্থকতার আলোকে নিজের জীবনের সীমাহীন ব্যর্থতা আর অপূর্ণতার সন্ধান করছিলাম। মনের কালিমা দূর হয়ে সত্য ও শান্তির সুবাতাস কিসের যেন এক সুবাস দিয়ে আমায় মোহিত করে তুলেছিল। আমার চোখের পানির অবারিত ঝর্ণাধারা আমায় ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছিল আমার মালিকের দিকে। আমি সে দিকে অগ্রসর হচ্ছিলাম এবং মনে মনে প্রতিজ্ঞা করছিলামÑ বাকিটা জীবন কল্যাণ, ন্যায়নিষ্ঠতা আর আল্লাহর প্রেমে মত্ত হয়ে কাটিয়ে দেবো। মাহফিল শেষে আমি হোটেলে ফিরে এলাম এবং কয়েক দিন পর ঢাকায়। একটি ক্যাসেটের দোকানে গিয়ে কিনলামÑ পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য, মেরাজের গুরুত্ব, স্বামী-স্ত্রীর মহব্বত, হুজুর সা:-এর জীবনী, সময়ের গুরুত্ব ইত্যাদি বিষয়ে জনাব দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর ওয়াজের ক্যাসেট।
প্রতিদিন ফজরের নামাজ অন্তে আমি ক্যাসেটগুলো শুনতাম এবং আমার স্ত্রী ও সন্তানকে শোনাতাম। আমার শিশুসন্তানটি তখন মাত্র স্কুলে যাওয়া শুরু করেছে। ছেলে আমার ক্ষণে ক্ষণে জায়নামাজ নিয়ে বসে পড়ত এবং নিজের ছোটখাটো চাহিদার কথা আল্লাহর কাছে বলত। আর প্রার্থনা করতÑ হে আল্লাহ তুমি আমাকে এবং আমার বাবাকে ওলি আল্লাহ বানিয়ে দাও। দূরে দাঁড়িয়ে আমি ছেলের মুনাজাত শুনতাম এবং চোখের পানিতে বুক ভাসাতাম। এর কিছু দিন পর আব্বা এলেন আমার বাসায় বেড়াতে। আমি আব্বাকে শোনানোর জন্য সাঈদী সাহেবের পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব ও কর্তব্য সংক্রান্ত ক্যাসেটটি ছেড়ে দিলাম। বাপবেটা একসাথে টেপ রেকর্ডারের সামনে দাঁড়িয়ে শুনলাম। দু’জনই কাঁদছিলাম হয়তো আমার আব্বা স্মরণ করেছিলেন তার পিতা-মাতাকে আর আমি স্মরণ করছিলাম আমার জনক-জননীকে। আমি আব্বার দিকে অশ্রুভেজা চোখে তাকালাম মনে হলোÑ আহা! এই তো আমার জন্মদাতা! কত কষ্ট করে আমাকে লালন করেছেন। বড় করেছেন! আমি অবশ্যই পিতা-মাতার অবাধ্য হবো না। আমার মনের ইচ্ছা হলো আব্বাকে সেবা করার জন্য। ইচ্ছে হলো তাকে ভালোমন্দ কিছু খাওয়াই।
বাজারে গেলাম। আব্বার পছন্দের তরিতরকারি মাছ গোশত কিনলাম। স্ত্রীকে বললাম রান্না করো। আস্ত একটি মুরগি রোস্ট করো। আমার আব্বা সেটা খাবেন আর আমি বসে বসে দেখব। আরেক দিন মনে হলো আস্ত একটি ইলিশ মাছ কোপ্তা বানিয়ে আব্বার প্লেটে দেই। আমার স্ত্রীর সহযোগিতায় যখন কাজগুলো করলাম তখন আমার সাথে আব্বার কেমন যেন একটি রূহানি বা আত্মিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়ে গেল। আর তখন থেকেই মনে হতে থাকলÑ আমার ধনসম্পদ, শিক্ষা-দীক্ষা সব কিছুর মালিকই আমার পিতা। আমি এর পর থেকে কেবল আব্বার হুকুমের গোলাম হয়ে বেঁচে থাকার মধ্যেই সার্থকতা খুঁজে পেলাম। এর কয়েক বছর পর আব্বা হঠাৎ স্ট্রোক করে প্যারালাইজড হয়ে গেলেন এবং মৃত্যুর আগ পর্যন্ত ওই রকমই ছিলেন। প্রায় ১২ বছর প্যারালাইজড পিতাকে সেবা করতে গিয়ে এক মুহূর্তের জন্যও বিরক্ত হইনি। অফিসে আসার সময় সালাম করে আসতাম। আবার বাসায় ফিরে আব্বার মুখ না দেখে অন্য কারো দিকে তাকাতাম না। অসুস্থ আব্বা প্রায়ই বলতেন আমার ছেলে আমার হাজার তারার এক চাঁদ। আজো আব্বার কথা মনে হলে নিজের অজান্তে যেমন চোখের পানি চলে আসে তেমনি মনের মধ্যে বাজতে থাকে সাঈদী সাহেবের ওয়াজের মর্মবাণীগুলো।
মহান আল্লাহ পাক সব কিছু দেখেন এবং সব কিছু জানেন বলেই তার উপাধী সামিউন এবং বাছিরুন। নিশ্চয়ই তিনি বেখবর ননÑ ২০১৪ সালের বাংলাদেশ সম্পর্কে। সাঈদী-ভক্তরা হয়তো কোনো কিছুই জানেন না দুনিয়ার আদালত সম্পর্কে। কিন্তু আমার মতো লাখো-কোটি মানুষ যারা সাঈদী সাহেবের ওয়াজের মাধ্যমে আত্মার খোরাক পেয়ে জীবনধারা বদলাতে পেরেছেন এবং বিশ্বজাহানের রবের কাছে আত্মসমর্পণ করতে শিখেছেন তারা হয়তো ধরে নিয়েছেন বর্তমান পরিস্থিতিতে সাঈদী সাহেবের হয়তো ইমতেহান অর্থাৎ আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা হচ্ছে। কিন্তু ইমতেহানের সময় মানুষের জন্য বড় কর্তব্য হলোÑ আল্লাহ পাকের ফায়সালার প্রতি খউফ ও রিজ্জাসহকারে সন্তুষ্ট থাকা।
আমি আজকের লেখার প্রান্তসীমায় চলে এসেছি। সাঈদী সাহেব সম্পর্কে বলতে গেলে শুধু এইটুকু বলেই শুরু করা যায়Ñ তিনি মহান আল্লাহ পাকের অপূর্ব সৃষ্টি। ইসলামের ১৪ শ’ বছরের ইতিহাসে আমি এমন কোনো মুফাসসির কিংবা মুহাদ্দিসের নাম শুনিনি যার বক্তব্য শোনার জন্য লাখ লাখ মানুষ একটি মাহফিলে হাজির হয়ে অসাধারণ নীরবতা নিয়ে কয়েক ঘণ্টা ধরে কুরআন ও হাদিসের মর্মবাণী শুনেছেন। একবিংশ শতাব্দীর অস্থির সমাজে কোনো একক ভাষাভাষী জাতিগোষ্ঠীর এমন কোনো ধর্মীয় নেতা নেই যার বক্তব্য জনাব সাঈদী সাহেবের চেয়ে বেশিসংখ্যক মানুষ শোনে এবং অনুসরণ করে। পবিত্র কুরআনকে যারা আল্লাহর গ্রন্থ বলে মানেন ও বিশ্বাস করেনÑ তারা জনাব সাঈদীর গত চল্লিশ বছরের কুরআনি খেদমতকে কিভাবে মূল্যায়ন করবেন! আমার মনে হয় কুরআনের মালিকই উত্তম ফায়সালাকারী। কিন্তু রবের ফায়সালা তো নতুন এবং অদ্ভুত নয়Ñ তার সব সিদ্ধান্তই পূর্বঘোষিত। আমরা যারা আল্লাহকে রেখে অন্যকে মান্য করি বা উসিলা করি তাদের সম্পর্কে কুরআন বলেছেÑ ‘ইয়াবতাগুনা রব্বিহিমুল উসিলা’Ñ অর্থাৎ তোমরা যাদেরকে উসিলা হিসেবে মান্য করো- তারাই তো বিশ্ব রবের উসিলা করে থাকে। আজ যারা জমিনের বুকে উদ্ধত আচরণ ও অহঙ্কার করে বেড়ায় এবং জমিনের অবিচার ও অনাচার করে বেড়ায় তাদের সম্পর্কে আল্লাহ পাকের সতর্কবাণী, যিনি দরাজ গলায় বাংলার আনাচে কানাচে পৌঁছে দিয়েছেন, সেই ব্যক্তিটি যদি মজলুম হয়ে পড়েন তবে তার মালিক তাকে কিভাবে সান্ত্বনা দেবেন সে কথাও কুরআনে বলা আছে বহু জায়গায় বহুবার। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমাদেরÑ আমরা জেনেও না-জানার ভান করি কিংবা দেখেও না-দেখার ভান করি। ফলে সবশেষে আল্লাহর পক্ষ থেকে যখন ফায়সালা এসে পড়ে তখন না পালাবার কোনো পথ খুঁজে পাইÑ না ভাগবার কোনো রাস্তার সন্ধান লাভ করতে পারি!

আসসালামু আলাইকুমঈদ মুবারক!!!ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুকঅনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি.............
28/07/2014

আসসালামু আলাইকুম
ঈদ মুবারক!!!
ঈদ সবার জীবনে বয়ে আনুক
অনাবিল সুখ ও সমৃদ্ধি.............

28/07/2014
ঈদের নামাজ শেষে  ফিলিস্তিনীর অবস্থা ;নামাজ শেষে সকলে হয়তো মায়ের হাতের সেমাই খাওয়ার জন্য বাড়ী ফিরবেন       , মা হয়তো কপাল...
28/07/2014

ঈদের নামাজ শেষে ফিলিস্তিনীর অবস্থা ;

নামাজ শেষে সকলে হয়তো মায়ের হাতের সেমাই খাওয়ার জন্য বাড়ী ফিরবেন , মা হয়তো কপালে চুমু খেয়ে জড়িয়ে ধরবে , বাবা হয়তো আলিঙ্গন করে সালামী দিবেন,আর বন্ধুরা প্যান করেছে অনেক জায়গায় ঘুরবে কিন্তু একজন ফিলিস্তিনী কী করবে !

গাজায় এবারের ঈদ  !লাল জামার জন্য চোট্ট মেয়েটির আবদার নেই !ভাইয়ের কাছে আদরের বোনের কোন চাওয়া নেই !মায়ের কাছে যুবক ছেলের ক...
27/07/2014

গাজায় এবারের ঈদ !

লাল জামার জন্য চোট্ট মেয়েটির আবদার নেই !
ভাইয়ের কাছে আদরের বোনের কোন চাওয়া নেই !
মায়ের কাছে যুবক ছেলের কোন বায়না নেই !
ফরিয়াদ শুধু একটাই "হে খোদা সকল কিছুর বিনিময়ে এই জমিনে কালেমার পতাকাকে উড্ডীন কর ; শএুর মোকাবেলায় আমাদেরকে দৃঢ় এস্তেকামাত কর ":

Address

৪৮/১-এ, পুরানা পল্টন
Dhaka

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when আমাদের মিছিল Official Page. posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Contact The Business

Send a message to আমাদের মিছিল Official Page.:

Share