04/06/2026
"যে মানুষটি মানুষের উৎপত্তি বদলে দিয়েছিলেন, তিনি বদলে দিয়েছিলেন আপনার বসার ধরনও!"
চার্লস ডারউইন তাঁর ল্যাবরেটরিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে নানা রকমের জীবজন্তু, গাছপালা এবং জীবাশ্ম (fossils) নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতেন। ডারউইনের ল্যাবটি ছিল বেশ বড়। এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে রাখা স্যাম্পল বা বই আনার জন্য তাঁকে বারবার সাধারণ কাঠের চেয়ার থেকে উঠতে হতো, হেঁটে গিয়ে জিনিসটা নিয়ে আবার চেয়ারে এসে বসতে হতো। এতে তাঁর অনেক সময় নষ্ট হতো এবং কাজের মনোযোগ ভেঙে যেত।
ডারউইন ভাবলেন, "আমি নিজে না হেঁটে যদি আমার চেয়ারটাই হেঁটে চলে বেড়াত, তবে কেমন হতো?" তিনি তাঁর ল্যাবের একটি ভারী কাঠের আরামদায়ক চেয়ার (Armchair) নিলেন। এরপর তাঁর খাটের পায়া থেকে চারটি লোহার চাকা (Casters) খুলে নিয়ে চেয়ারের পায়ের নিচে স্ক্রু দিয়ে আটকে দিলেন!
তৈরি হয়ে গেল পৃথিবীর প্রথম "হুইলড অফিস চেয়ার" (Wheeled Office Chair)। ডারউইন এখন চেয়ারে বসেই এক টেবিল থেকে অন্য টেবিলে গড়গড় করে চলে যেতে পারতেন।
ডারউইনের এই চাকাওয়ালা চেয়ারের আইডিয়া দেখে আমেরিকার একজন উদ্ভাবক থমাস ই. ওয়ারেন (Thomas E. Warren) ১৮৪৯ সালে প্রথম বাণিজ্যিকভাবে অফিস চেয়ার ডিজাইন করেন।
তিনি চেয়ারের নিচে চাকার পাশাপাশি একটি স্প্রিং বা "সেন্ট্রাল পিভট" (Central Pivot) যোগ করেন। এর ফলে চেয়ারটি শুধু চাকার সাহায্যে সামনে-পিছেই যেত না, বরং নিজের জায়গায় গোল হয়ে ঘুরতেও (Swivel) পারত ।