12/03/2015
… একটি ‘লিমিটে থাকা’ সাইন্সফিকশন স্ট্যাটাস
রাস্তায়, একটা স্কুল পড়ুয়া ছেলে এক্সিডেন্ট করেছে... তাকে ঘিরে আশেপাশে অনেকেই ভিড় করে আছে
কে কি করবে আলাপ করছে
আহত ছেলের বুকে, সেইফটি পিন দিয়ে একটা ব্যাজ লাগানো ছিলো... বার কোডের মতো হিজিবিজি একটা ব্যাজ... ইদানিং চেইন স্টোরগুলোতে প্রোডাক্টের গায়ে যেরকমটা থাকে
হুট করে ভিড়ের মাঝ থেকে একটা ছেলে এগিয়ে আসল... সে তার ফোন বের করে সেই ফোনের বার কোড রিডার দিয়ে সেই ব্যাজটা স্ক্যান করল
সাথে সাথে তার মোবাইলে ভেসে উঠলো;
Faisal Mahmood
Student of Dhanmondi Boys School
Blood group: O +ve
Emergency contact number: 0181927452 (my dad)
Address: 154, Nakhal para, Dhaka
মজা না?
মজা তো সবে শুরু...
এখন কম বেশী সবার হাতেই স্মার্ট ফোন আছে... আইফোন, এন্ড্রয়েড, ব্ল্যাকবেরি বা উইন্ডস অপারেটিং সিস্টেমের সকল মোবাইলেই এখন বার কোড রিডার (QR reader) ফ্রিতে ডাউনলোড করা যায়
হয়ে গেলো আপনার হাতে একটা স্ক্যানার
এখন আপনার কাস্টমাইজড ব্যাজ কোথায় পাবেন?
… আপনার যদি লাগে, স্ট্যাটাসে জাস্ট কমেন্ট করে দেন “আমার লাগবে”
আজ, একটা টিম বসে আছে আজকে আপনাদের কমেন্ট পড়ার জন্য... “আমার লাগবে” কমেন্ট দেখলেই তারা আপনাকে ইনবক্স করে আপনার ডিটেইলস নিয়ে নিবে
আপনার ডিটেইলস নিয়ে, কাস্টমাইজড ব্যাজ বানিয়ে, ১ সপ্তাহের মধ্যে সেটা আপনার হাতে পৌঁছে দিবে
অনেক তো বুকে চে গুয়েভারার ব্যাজ লাগালাম, সুপার হিরোদের ব্যাজ লাগালাম... এবার কাজের কিছু লাগাই
আমি আমার দুই মেয়ের জন্য ২ টা ব্যাজ অর্ডার দিয়েছি... স্কুলের ইউনিফর্মের উপর না লাগালেও, তাদের ব্যাগে, ঠিকই লাগিয়ে রাখব
আমার বন্ধুর নানা’র জন্যও একটা অর্ডার দিয়েছি ... বয়স হয়েছে তাই উনি মাঝে মাঝে রাস্তায় হাঁটতে বের হলে, ভুলে যান অনেক কিছুই...
মাত্র ২০০ টাকা দিয়ে, আজকের যুগে কাউকে গিফট করার মতো এরকম ওয়ান্ডারফুল জিনিস আর আছে নাকি, আমার জানা নেই
.. অনেক তো সাইন্সের গল্প বললাম, এখন একটা নন-ফিকশন গল্প বলি;
মেয়েটার নাম জিনিয়া... ক্লাস ওয়ান থেকে এখন পর্যন্ত সে কোনদিন ক্লাসে সেকেন্ড হয়নি
(সার্টিফিকেট চাইলে বলেন, আমি ইনবক্সে আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি)
জাহাঙ্গীরনগরে অনার্স শেষ করে মাস্টার্সে ভর্তি হলো... অনার্সেও সে ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট ... রেজাল্টের কারণে, খুব সম্ভবত সে সেখানের লেকচারার হতে যাচ্ছে
সব ঠিকই ছিলো... হুট করে সে বিছানায় পড়ে গেলো
একটু ফাস্ট ফরওয়ার্ড করি গল্পটা; ... তাকে হাসপাতালে নেয়া হলো... ডাক্তার আসলো... টেস্ট করা হলো... টেস্টের রেজাল্ট দেখে অবাক হওয়া হলো... আবার পুনরায় টেস্ট করা হলো... সেই একই রেজাল্ট আসলো
তার বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে
তার বাবা নেই...
হাসপাতালে, তার আম্মাকে জিনিয়ার পাশে বসিয়ে রেখে তার বন্ধুরা পাগলের মতো ছুটে বেড়াচ্ছে তার চিকিৎসার টাকা জোগাড় করার জন্য
একদিন এসে বলছে, ফিল্ম ফেস্টিবেল করব... একদিন বলছে কনসার্ট করব ... একদিন এসে বলছে ভাইয়া একটু পানি খাব
তারা কিছু একটা নিয়ে খুব শীঘ্রই মাঠে নামতে যাচ্ছে
তারা পারবে
কিন্তু টাকা তো লাগবে অনেক... প্রায় ৭০/৮০ লাখ টাকা
..
এখন, ‘উপরের নন-ফিকশন গল্প’ আর ‘তার উপরের সাইন্সের গল্প’ মিলিয়ে একটা সাইন্সফিকশন গল্প বলি;
২০০ টাকা দিয়ে এই ব্যাজটা কিনলে, সেখান থেকে ১০০ টাকা চলে যাবে জিনিয়ার একাউন্টে
তারমানে, যদি ২০ হাজার জন এই ব্যাজ অর্ডার দেয়, তাহলে এই স্ট্যাটাস থেকেই ২০ লাখ টাকা নিমিসেই চলে যাচ্ছে জিনিয়ার একাউন্টে
‘২০ হাজার জন’ বললাম কারণ আমার স্ট্যাটাসে অন এন এভারেজ ২০ হাজার লাইক থাকেই
সারাজীবন দেখে এসেছি সাইন্সফিকশান গল্প আকাশপাতাল ভাবে... কিন্তু আজ, খুব কি বেশী ভাবছি?
একটা দেড় ইঞ্চি ব্যাসার্ধের সিম্পল ব্যাজ, একদিন আপনার জীবন বাঁচাবে ... এমনকি একজনের জীবন বাঁচিয়েই সেটা আপনার বুকে এসে লাগছে
এভাবে কি ভাবছি?
একটা ভালো কাজে কিভাবে মানুষ এগিয়ে আসে আরেকটু বলি
.. হুট করে মনে হলো এতগুলো ব্যাজ কিভাবে ডেলিভারি দিবো? আইডিয়াটা নিয়ে (FFC: Fortuna Fried Chicken) এর মালিকের সাথে একটু আলাপ করলাম... তিনি বললেন, আমাদের ঢাকার ৫ কোণার ৫ টা আউটলেট আপনি ব্যবহার করতে পারেন ডেলিভারির জন্য
যে বনানীতে থাকে সে গুলশানের আউটলেটে এসে ডেলিভারি নিবে
যে মিরপুর থাকে, সে মিরপুরের আউটেলে এসে ডেলিভারি নিবে
এভাবে রামপুরা, উত্তরা, ধানমন্ডি জোনে ডেলিভারি করতে আমরা হেল্প করব
দেশে, এতো এগিয়ে আসার মানুষ থাকতে ... জিনিয়ার তো ভয় থাকার কথা না
.. জিনিয়া ফিরবেই
-Arif R Hossain