18/05/2023
প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যেগুলি সবচাইতে পুরোনো
১৯৪০ এর দশকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালীন সামরিক সংকেত বা কোড এর পাঠোদ্ধার করার জন্য ব্রিটিশ কোডব্রেকাররা তৈরি করেন ‘কলোসাস’ নামের এক সেট কম্পিউটার। সেটাকে কম্পিউটিং এর ইতিহাসের শুরুর দিকের মাইলফলক হিসেবে বিবেচনা করা যায়।
তবে আমরা কম্পিউটিং এর সূচনা পর্যন্ত পৌঁছাতে ১৮০০ শতকের মাঝামাঝি পর্যন্ত যেতে পারি, যখন চার্লস ব্যাবেজ ডিফারেন্স ইঞ্জিন তৈরি করেন। যদিও ব্যাবেজ তার মেশিনটি দেখে যেতে পারেননি। তবে প্রথম কম্পিউটারের উদাহরণ হিসেবে তার উদ্ভাবিত ডিফারেন্স ইঞ্জিনকেই ধরা হয়।
তাহলে প্রযুক্তি কোম্পানি প্রতিষ্ঠার সময় কবে থেকে ধরা হবে?
আইবিএম এর প্রতিষ্ঠা হয় ১৯১১ সালে। শুরুর দিকে আইবিএম ট্যাবুলেশন মেশিন নিয়ে কাজ করত। তখন এর নাম ছিল ‘কম্পিউটিং-ট্যাবুলেটিং-রেকর্ডিং কোম্পানি’ (সিআরটি)। বর্তমান সময়ের টেক জায়ান্ট হয়ে ওঠার আগে এটাই ছিল তাদের পরিচয়।
তবে বিশ্বের প্রথম পাবলিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি ছিল ‘ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি’, যা প্রতিষ্ঠিত হয় ১৮৪৬ সালে। বর্তমানে কোম্পানিটি যুক্তরাজ্যে ‘BT’ নামে পরিচিত।
এবার দেখা যাক ১৯ শতকে যাত্রা শুরু করা কোন কোন প্রযুক্তি কোম্পানি এখনো টিকে আছে।
# ১৮৪৬ - BT
১৮৪৬ সালে যুক্তরাজ্যে প্রতিষ্ঠিত এই ইলেকট্রিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি ছিল বিশ্বের প্রথম পাবলিক টেলিগ্রাফ কোম্পানি। প্রতিষ্ঠার এক দশক পরে কোম্পানিটি ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কোম্পানির সাথে একত্রিত হয়ে তৈরি করে ‘ইলেকট্রিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল টেলিগ্রাফ কোম্পানি’।
পরবর্তীতে এই কোম্পানিটি একীভূত হয় যুক্তরাজ্যের ডাক বিভাগের অধীনে থাকা একাধিক টেলিগ্রাফ কোম্পানির সাথে। সবশেষে ১৯৭০ এর দশকে কোম্পানিটি ‘ব্রিটিশ টেলিকম’ বা বিটি নাম গ্রহণ করে এবং এখনও এই নামেই তারা পরিচিত।
বর্তমানে ব্রডব্যান্ড, মোবাইল এবং টিভি সার্ভিস, বিভিন্ন ধরনের তথ্যপ্রযুক্তি সেবা এবং নেটওয়ার্কিং সংক্রান্ত পণ্য বিক্রি করে বিটি।
# ১৮৪৭ - Siemens
জার্মানির শিল্প প্রস্ততকারক কোম্পানি সিমেন্স তাদের যাত্রা শুরু করে বার্লিনে বৈদ্যুতিক টেলিগ্রাফ তৈরির মাধ্যমে। সে সময় তাদের নাম ছিল ‘টেলিগ্রাফেন বাউআনস্টাল্ট ফন সিমেন্স উন্ড হালস্ক’ (Telegraphen-Bauanstalt von Siemens & Halsk)।
পৃথিবীর সবচেয়ে পুরোনো কিছু টেলিগ্রাফ লাইন তৈরি ছাড়াও তারা বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রিক গাড়ি বাজারে ছাড়ে, ডায়নামো যন্ত্রের পেটেন্ট করে এবং পরবর্তীতে তারা রেডিও এবং টিভি’র মত নতুন বাজারে প্রবেশ করে।
বর্তমানে এই কোম্পানিতে ৩ লাখেরও বেশি কর্মী কাজ করে। আন্তর্জাতিক বাজার থেকে কোম্পানিটি আয় করে ৮৩ বিলিয়ন ইউরোর বেশি। বর্তমানে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বা অটোমেশনের জন্যে দরকারি সব ধরনের পণ্য ও সফটওয়্যার সেবা দিয়ে থাকে।
# ১৮৫১ - Corning
কর্নিংকে হয়ত অন্যান্য কোম্পানির মত ঠিক প্রযুক্তি কোম্পানি বলা যাবে না। এটি প্রতিষ্ঠা পায় ১৮৫১ সালে আমেরিকার ম্যাসাচুসেটস রাজ্যের সমারভিলে। তখন এর নাম ছিল ‘বে স্টেট গ্লাস কো.’ (Bay State Glass Co)।
এই কোম্পানিই বাজারে গরিলা গ্লাস নিয়ে আসে। বর্তমানে যেই সুরক্ষা গ্লাস আইফোনে ব্যবহৃত হয়।
# ১৮৬৫ - Nokia
বিশ্বজুড়ে টেলিকম অবকাঠামো খাতের অন্যতম সেবা দানকারী প্রতিষ্ঠান নকিয়া এক সময় বিশ্বের মোবাইল ফোনের বাজারে একচেটিয়া আধিপত্য ধরে রেখেছিল।
দক্ষিণ ফিনল্যান্ডে এই কোম্পানিটি তাদের কাজ শুরু করে মণ্ড বা পাল্প তৈরির কারখানা হিসেবে। সেই অবস্থা থেকে নকিয়া নিজেদের ব্যবসা প্রসার করে বিদ্যুৎ সরবরাহ ও রাবার উৎপাদনে। এরপর তারা রেডিও যন্ত্র নিয়ে কাজ করা শুরু করে।
# ১৮৬৯ - Cable & Wireless
‘কেবল অ্যান্ড ওয়্যারলেস’ (সিএন্ডডব্লিউ) ছিল বিটি এর শুরুর দিকের প্রতিদ্বন্দ্বী। কোম্পানিটির ইতিহাস শুরু হয় ১৮৬০ এর দশকের শেষ দিকে। এর সাথে জড়িত ছিল স্যার জন পেন্ডার এর প্রতিষ্ঠিত ‘ফ্যালমাথ, মাল্টা অ্যান্ড জিব্রালটার টেলিগ্রাফ কোম্পানি’ এবং ‘ব্রিটিশ ইন্ডিয়ান সাবমেরিন টেলিগ্রাফ কোম্পানি’।
বিটি এর মত তাদেরকেও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ডাক বিভাগের সাথে যুক্ত করে দেয়া হয়। তবে ১৯৮০ এর দশকের প্রথম দিকে মার্গারেট থ্যাচারের বেসরকারীকরণ বা ‘প্রাইভেটাইজেশন’ নীতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে কোম্পানিটি পুনরায় আত্মপ্রকাশ করে।
২০১২ সালে ভোডাফোন বিশ্বজুড়ে ‘সিঅ্যান্ডডব্লিউ’ এর ব্যবসা কিনে নেয়। কিন্ত ‘লিবার্টি গ্লোবাল’ নামের এক প্রতিষ্ঠানের অঙ্গসংস্থা হিসেবে ‘কেবলস অ্যান্ড ওয়্যারলেস কমিউনিকেশন’ নামটি এখনো টিকে আছে এবং তারা ছোট পরিসরে ব্যবসা করে যাচ্ছে।
# ১৮৭৫ - Toshiba
কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠা লাভের সময় এর নাম ছিল ‘তানাকা সেইসাকুশো’ (Tanaka Seisakusho)। পরবর্তীতে নতুন নাম দেয়া হয় ‘শিবাউরা সেইসাকুশো’ (Shibaura Seisakusho)। সবশেষে যখন ‘টোকিও ডেনকি’ বা ‘টোকিও ইলেকট্রিক’ কোম্পানির সাথে একীভূত হয়, তখন এর নতুন নাম দেয়া হয় তোশিবা।
কোম্পানিটি শুরুতে টেলিগ্রাফ এবং যোগাযোগের জন্য প্রয়োজনীয় অন্যান্য যন্ত্রপাতি তৈরি করত। বিশ শতকের পুরোটা সময় জুড়েই তারা কম্পিউটার, মোবাইল ফোন, টিভি ও ভিডিও, সেমিকন্ডাক্টর, পরমাণু শক্তি, স্বাস্থ্যসেবা এবং আরো বিভিন্ন প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করেছে।
# ১৮৭৯ - GE
‘থমসন-হিউস্টন ইলেকট্রিক কোম্পানি’ এবং থমাস এডিসনের ব্যবসায়িক সাম্রাজ্যে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা বিভিন্ন অংশ একসাথে মিলে জন্ম হয় ‘জেনারেল ইলেকট্রিক কোম্পানি’ যা GE (জিই) নামে বেশি পরিচিত।
কোম্পানিটি ১৯ শতকের শেষ দিকে যেমন বিশাল ছিল, এখনো তার সেই অবস্থান ধরে রাখতে পেরেছে। মার্কিন শেয়ারবাজারের অংশ হিসেবে ‘ডাও জোন্স’ (Dow Jones) নামের শেয়ার বাজার সূচকে সর্বপ্রথম যে ১২টি কোম্পানি তালিকাভুক্ত হয়, তার মধ্যে কেবল জিই এখন পর্যন্ত টিকে আছে।
এ সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি তাদের ব্যবসা জ্বালানী, বিমান এবং মহাকাশ, যোগাযোগ, তেল, স্বাস্থ্যসেবা, আর্থিক সেবাসহ বিভিন্ন দিকে বড় করেছে।
১৯৬০ এর দশকে জিই কম্পিউটার জগতের অন্যতম বড় কোম্পানি ছিল। বর্তমানে কোম্পানিটি এর ‘প্রেডিক্স’ নামের সফটওয়্যার প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে শিল্প ও আইওটি খাতে প্রতিযোগিতা করছে।
# ১৮৯২ - Kapsch
অস্ট্রিয়ান কোম্পানি ‘ক্যাপশ’ এর আদি নাম ছিল ‘টেলেফোন উন্ড লিগ্রাফেন-ফ্যাব্রিকস-আক্টিএঙ্গেজেলশাফট ক্যাপশ উন্ড জোনে ইন ভিন’ (টেলিফোন এবং টেলিগ্রাফ প্রস্ততকারক স্টক কোম্পানি ক্যাপশ অ্যান্ড সন্স, ভিয়েনা)।
কোম্পানিটি টেলিগ্রাফ সামগ্রী, কন্ডাকটর এবং টেলিফোন সামগ্রী তৈরিতে বিশেষভাবে দক্ষ ছিল।
বর্তমানে তারা টেলিযোগাযোগ, টেলিম্যাটিক্স এবং শিল্পে ব্যবহৃত বিভিন্ন ইলেকট্রনিক পণ্য ও সেবা প্রদান করে থাকে।
# ১৮৭৬ - Ericsson
লারস ম্যাগনাস এরিকসন যখন এই কোম্পানিটি শুরু করেন, তখন এটি ছিল স্টকহোমের একটি টেলিগ্রাফ মেরামত করার দোকান। বর্তমানে এই সুইডিশ জায়ান্ট কোম্পানির মূল্য কয়েক বিলিয়ন ডলার। এবং এর প্রায় ১,০০,০০০ কর্মী পুরো বিশ্বজুড়ে নেটওয়ার্ক অবকাঠামোর কাজে দরকারি যন্ত্রাংশ এবং টেলিকম বিষয়ক সেবা প্রদান করে যাচ্ছে।
# ১৮৮৫ - AT&T
১৮৮৫ সালে ‘আমেরিকান টেলিফোন অ্যান্ড টেলিগ্রাফ কোম্পানি’ নামে যাত্রা শুরু করে AT&T। তবে এর এক দশক আগে প্রতিষ্ঠিত অ্যালেকজান্ডার গ্রাহাম বেল এর ‘বেল টেলিফোন কোম্পানি’র সাথে এর ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল।
‘এটিঅ্যান্ডটি’ বিশ শতকের শুরু থেকে মাঝামাঝি পর্যন্ত বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ টেলিফোন কোম্পানি হিসেবে ব্যবসা করে গেছে।
ওয়্যারলেস পণ্যের বাজারে এখনও কোম্পানিটির অনেক বড় শেয়ার রয়েছে। তবে এই সময়ের মধ্যে কোম্পানিটি একাধিকবার ভেঙেছে আর একীভূত হয়েছে অন্য কোম্পানির সাথে। অতীতে কোম্পানিটির মালিকানায় থাকা ‘বেল ল্যাব’ এখন নকিয়ার অধীনে রয়েছে।
এই বেল ল্যাব প্রযুক্তি ইতিহাসের অনেক মাইলফলক অর্জনের সাথে যুক্ত। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হল: ট্রানজিস্টর এর উন্নয়ন, প্রোগ্রামিং ভাষা ‘সি ল্যাংগুয়েজ’ এবং ইউনিক্স অপারেটিং সিস্টেম।
# ১৮৮৫ - Ferranti
মূলত ইলেকট্রিক প্রযুক্তি এবং পণ্য নিয়ে কাজ করার জন্য বিখ্যাত যুক্তরাজ্য ভিত্তিক এই কোম্পানিটি ১৯৪০ এর দশকে কম্পিউটার এর জগতে ব্যবসা শুরু করে, প্রতিষ্ঠার প্রায় ৫৫ বছর পরে।
ফেরানটি কোম্পানির তৈরি ‘মার্ক ওয়ান’ নামের কম্পিউটারকে এখন বাণিজ্যিকভাবে সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য বাজারে ছাড়া বিশ্বের প্রথম ইলেকট্রনিক কম্পিউটার হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
ফেরানটি নামের কোম্পানিটি ১৯৯৩ সালে গুটিয়ে যায়। তবে নেদারল্যান্ড ভিত্তিক নাইকার্ক গ্রুপের অংশ হিসেবে ‘ফেরানটি কম্পিউটার সিস্টেমস’ নামে এখনও কাজ করে যাচ্ছে কোম্পানিটি। তারা মূলত আইটি অবকাঠামো নিয়ে কাজ করে থাকে।
# ১৮৮৭ - Océ
নেদারল্যান্ডে শুরু হওয়া ‘অসে’ কোম্পানিটি প্রথমে মাখন ও মার্জারিন রঙ করার জন্য মেশিন তৈরি করত। আরো উন্নত ব্লু-প্রিন্ট কাগজ তৈরি করার জন্য কোম্পানিটি ১৯১০ এর দশকে মুদ্রণ ও প্রকাশনা বাজারে প্রবেশ করে।
বর্তমানে ‘অসে’ ক্যানন এর একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হিসেবে ব্যবসা করছে, যারা প্রিন্টিং এবং ডিজিটাল ওয়ার্কফ্লো সমাধান প্রদান করে থাকে।
# ১৮৮৮ - Kodak
কোডাক নামের মার্কিন এই ইমেজিং কোম্পানি হচ্ছে ইতিহাসের প্রথম দিকের ফটোগ্রাফি কোম্পানি, যারা মূলত ক্যামেরা, ফিল্ম এবং ডেভেলপিং এর জন্যে প্রয়োজনীয় রাসায়নিক পদার্থ বিক্রি করত।
ডিজিটাল ফটোগ্রাফির যুগে এসেও কোম্পানিটি বেঁচে আছে। তারা এখন মনোযোগ দিয়েছে স্মার্টফোনের দিকে। এছাড়া ট্যাবলেট, ডিজিটাল স্ক্যানার এমনকি ক্রিপ্টোকারেন্সি মাইন করার মেশিন নিয়েও তারা কাজ করে থাকে।
# ১৮৮৯ - Nintendo
গেমিং এর জগতে নিনটেন্ডো একটা বড় নাম, যারা গেমবয় এবং ‘নিনটেন্ডো সুইচ’ এর মত প্রোডাক্ট বাজারে এনেছিল। ১৮৯৯ সালে কোম্পানিটি জাপানের কিওটোতে হাতে বানানো প্লেয়িং কার্ড তৈরি করত।
# ১৮৯১ - Philips
ডাচ নাগরিক ফ্রেডেরিক ফিলিপস তার সন্তান জেরার্ড ফিলিপসকে নিয়ে ফিলিপস কোম্পানি শুরু করেছিলেন। শুরুতে তারা ল্যাম্প বা বৈদ্যুতিক বাতি তৈরি করত।
বর্তমানে কোম্পানিটি কেবল লাইট এবং টিভি বানানোতে সীমাবদ্ধ নেই, বরং স্মার্টফোন এবং আইওটি জগতেও তাদের ব্যবসা রয়েছে।
# ১৮৯৫ - ÅF
১৮৯৫ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে সুইডেনের মালমো’তে যাত্রা শুরু করে কোম্পানিটি। তখন এর নাম ছিল ‘সাউদার্ন সুইডিশ স্টিম জেনারেটর অ্যাসোসিয়েশন’। এবং এর কাজ ছিল বাষ্প ইঞ্জিনের নিরাপত্তা পরীক্ষা করা।
বর্তমানে ‘ওউএফ’ (ÅF) জ্বালানী, শিল্প এবং অবকাঠামো খাতে পরামর্শক সেবা প্রদান করে থাকে। এর উদ্দেশ্য হল বিভিন্ন শিল্পে নতুন প্রযুক্তি কাজে লাগানোর মাধ্যমে কী সুবিধা পাওয়া যেতে পারে তা নির্ণয় করা।
# ১৮৯৫ - Anritsu
জাপানি কোম্পানি ‘সেকিসান-শা’ (Sekisan-sha) এর জন্ম হয় ১৮৯৫ সালে। ১৯০৩ সালে এর নতুন নাম হয় ‘আনরিতসু’ (Anritsu)। তখন তারা বাজারে বেতার যোগাযোগ ব্যবস্থার জন্য প্রয়োজনীয় ট্রান্সমিটার নিয়ে আসে।
বর্তমানে কোম্পানিটি টেলিকম অ্যানালাইজার, টেস্টিং যন্ত্র এবং অপটিক্যাল যন্ত্র তৈরি করে থাকে।
# ১৮৯৮ - KUKA
জার্মান রোবট প্রস্ততকারক কোম্পানি কুকা (KUKA) ১৮৯৯ সালে জার্মানির অউগসবর্গ-এ তাদের যাত্রা শুরু করে। শুরুতে তাদের নাম ছিল ‘অ্যাসেটিলিনভ্যার্ক ফুর বেলয়েচটুঙ্গেন’ (Acetylenwerk für Beleuchtungen)।
সে সময় তারা বাড়ি এবং রাস্তা কম খরচে আলোকিত করার প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করত। সেই অবস্থা থেকে কোম্পানিটি ১৯৫০ সালে ‘স্বয়ংক্রিয় ওয়েলডিং সিস্টেম’ তৈরি করে।
পরে ১৯৭০ এর দিকে তারা ‘ফামুলুস’ (FAMULLUS) নামের শিল্পে ব্যবহারের জন্য রোবট তৈরি করে। বর্তমানে তারা এমন বাহু বিশিষ্ট রোবট তৈরি করে থাকে, যা বিভিন্ন দিকে প্রয়োজন অনুসারে নড়তে পারে। তাদের তৈরি বিভিন্ন ধরনের রোবট দিয়ে সকল ধরনের উৎপাদন কারখানায় কাজ করা যায়।
# ১৮৯৯ - NEC
জাপানের কংগ্লোমারেট প্রতিষ্ঠান ‘নিপ্পন ইলেকট্রিক কোম্পানি’ এখন ‘এনইসি’ নামে পরিচিত। এর গোড়াপত্তন হয় ১৮৯৯ সালে।
এই তালিকায় থাকা অনেক কোম্পানির মত তারাও শুরুতে টেলিফোন নিয়ে কাজ করত, এবং সুইচ তৈরি করত। বর্তমানে তারা বিভিন্ন ধরনের ইলেকট্রনিক পণ্য ও যন্ত্র তৈরি করে থাকে। এছাড়া নেটওয়ার্ক ও টেলিকম সেবার জন্য সকল ধরনের সহায়তা দিয়ে থাকে।
# ১৯০০ - NEP
‘নর্থ-ইস্টার্ন পেনসিলভেনিয়া টেলিফোন কোম্পানি’ (এনইপি) এর সদর দপ্তর আমেরিকার পেনসিলভেনিয়া রাজ্যের ফরেস্ট সিটিতে অবস্থিত।
১৯০০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভের পর থেকে এখনো কোম্পানিটি শুধুমাত্র পেনসিলভেনিয়া রাজ্যেই ব্যবসা করে যাচ্ছে। তাদের সেবার মধ্যে আছে ইন্টারনেট প্যাকেজ বা ফোন সার্ভিসের মত অনেক কিছু।