27/07/2018
“নাগরিক নানা সংকটে আজ এই শহরের ঐতিহ্য মানুষ ভুলতে বসেছে। যানজটের চাপে মানবিক আবেগগুলো অনেকখানি উপেক্ষিত। শহরবাসীকে ঢাকার ঐতিহ্যের কথা স্মরণ করিয়ে দিতে, মানুষের মধ্যে শিল্পবোধ ছড়িয়ে দিতে আয়োজন করা হয়েছে শিল্প শহর ঢাকা কর্মসূচি। প্রথমবারের মতো এশিয়ান আর্ট বিয়েনালের ১৮ তম আসরে সেপ্টেম্বরে মাসব্যাপী এ আয়োজন উপলক্ষে শিল্পকলা একাডেমি বাংলাদেশের তরুণ পারফরম্যান্স আর্ট শিল্পীদের নিয়ে আয়োজন করছে ‘শিল্পের শহর’ নামের নতুন এ উদ্যোগ।”
শিল্পের শহর ঢাকা এ উদ্যোগকে স্বাগত জানাই। তবুও এ উদ্যোগের পরিসর পুরনো ঢাকা থেকে শাহবাগ পর্যন্ত।ঢাকায় শিল্প ও সংস্কৃতি চর্চার দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো ঘনত্ব এবং বিস্তার সেগুনবাগিচা থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, শাহবাগ থেকে বাংলামটর পর্যন্ত। ধানমন্ডি ও লালমাটিয়ায় রয়েছে বিদেশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বেঙ্গল, ছায়ানট সহ বিভিন্ন আর্ট গ্যালারী ও যাদুঘর। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য ফার্মগেট থেকে সুদূর উত্তরা পর্যন্ত সমপর্যায়ের কোন দেশীয় বা বিদেশী সাংস্কৃতিক কেন্দ্র নেই, নেই উল্লেখযোগ্য কোন বইয়ের দোকান (বুক ওয়ার্ম মন্দের ভালো)। অথচ দেশের শীর্ষ আমলা, পেশাজীবি আর ধনীদের আবাস এই অঞ্চল গুলোতে। এই দীর্ঘ এলাকা জুড়ে ৪৭ বছরেও গড়ে ওঠেনি কোন স্হায়ী শিল্প সাহিত্য চর্চার প্রতিষ্ঠান। গড়ে ওঠেনি কোন কমিউনিটি space যেখানে নিয়মিত ভাবে অনুষ্ঠিত হতে পারে পাঠচক্র, আ্যপ্রিসিয়েশসন কোর্স, নিয়মিত পৃথিবীর সেরা চলচ্চিত্র গুলো দেখার সুযোগ। হতে পারে বিভিন্ন সমসাময়িক বিষয়ে বিতর্ক, আলোচনা অনুষ্ঠান। প্রায় অর্ধশতাধিক প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থাকলেও তাদের কার্যপরিধি ছাত্র ছাত্রী কেন্দ্রিক।ঢাকা উত্তর সিটি করপোশন এবং পৃথিবীর বৃহত্তম NGO র সদর দফতর এখানে থাকলেও তারাও ব্যস্ত আরও গুরুত্বপূর্ণ কাজ নিয়ে।
এ বাস্তবতায় উৎসাহী সমমনা মানুষদের সংগে নিয়ে মহাখালী থেকে গুলশান এলাকার মধ্যবর্তী কোন একটি জায়গায় একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্রগড়ে তোলার উদ্যোগে আপনাদের সক্রিয় সমর্থন চাই। আমাদের সম্মিলিত উদ্যোগে গড়ে উঠতে পারে একটি ছোট কিন্তু সক্রিয়, প্রানবন্ত, আভাঁগার্দ শিল্প-সংস্স্কৃতি ও জ্ঞান চর্চার কেন্দ্র।