13/07/2017
ওসমানীয় সালতানাতের শেষ শাহজাদী-
শাহজাদী ফাতেমা নেসলিসাহ, ওসমানীয় (অটোম্যান সম্রাজে্যর) সালতানাতের শেষ শাহজাদী। তিনি একই সাথে শেষ সম্রাট সুলতান বাহদেত্ত্বীন এবং মুসলিম বিশ্বের শেষ খলিফা আব্দুল মেসীদ-২ এর নাতনী। ফাতেমা নেসলিসাহ-এর স্বামীর নাম যুবরাজ মোঃ আব্দুল মোনায়েম। যিনি ছিলেন মিসর রিজেন্সীর প্রধান। মুহাম্দ নাগীব ও গামাল আব্দুল নাসেরের নেতৃত্বে বিদ্রোহের পর তিনি ক্ষমতাচু্যত হন।
শাহজাদী ফাতেমা নেসলিসাহ, ১৯২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের ৪ তারিখে পরিবারে জন্মগ্রহন করেন। তিনি ছিলেন অটোম্যান রাজ পরিবারেরর সর্বশেষ শিশু যার নাম পারিবারিক ভাবে লিপিবদ্ধ করা হয়।
ওসমানীয় পরিবার ৬০০ বছর ধরে তুরস্ক, মধ্যপ্রাচ্য, মধ্যএশিয়া, উত্তর আফ্রিকাসহ সমগ্র পশ্বিম ইউরোপ শাসন করে আসছে। কামাল আতাতুর্কের মডার্ন তুরস্ক তৈরির মধ্য দিয়ে যার পরিসমাপ্তি ঘটে। যার মধ্য দিয়ে ওসমানীয় রাজপরিবার ও বিলুপ্ত হয়ে যায়। শাহজাদী ফাতেমা নেসলিসাহ ১৯৪০ সনে মিসরের যুবরাজকে বিবাহ করেন। এবং তুরস্ক ছেড়ে মিসরে বসবাস করেন। গামাল আব্দুল নাসেরের নেতৃত্বে মিসরে বিদ্রোহের পর ফাতেমা নেসলিসাহ ও তার স্বামী পি্রন্স মুহাম্মদ আব্দুল মোনায়েমকে অ্যারেস্ট করা হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মিসর ত্যাগে বাধ্য করা হয়। মিসর ত্যাগের পর ফাতেমা নেসলিসাহ ও তার স্বামী আব্দুল মোনায়েম ফ্রান্সে আশ্রয় নেন। একই সাথে তুরস্কে ফেরত যাওয়ার প্রচেষ্টা চালান। কিন্তু মডার্ন তুরস্ক ওসমানীয় রাজপরিবারের সদস্যদের ফেরত নিতে অস্বীকার করে। পরবর্তীতে ১৯৫২ সালে তুরস্ক সরকার ওসমানীয় রাজপরিবারের মহিলা সদস্যদের দেশে ফেরত আসার অনুমতি প্রদান করে।
১৯৫৭ সালে ফাতেমা নেসলিসাহ তার স্বামী আব্দুল মোনায়েম সহকারে তুরস্বে ফেরত আসে ও ওসমানীয় সম্রাজে্যর সাবেক রাজধানী ইস্তাম্বুলে বসবাস শুরু করেন। ২০০৯ সনে তিনি সাবেক ওসমানীয় রাজপরিবারের বায়োজৈষ্ঠ্য সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পান। এবং ২০১২ সনে ৫ এপি্রল ৯১ বছর বয়সে তিনি মৃতু্যবরণ করেন। তিনি ছিলেন ওসমানীয় রাজপরিবারের শেষ নথিভুক্ত সদস্য। যার নাম ওসমানীয় সম্্রাজ্য থাকাকালীন সময়ে পারিবারিক নথিতে লিপিবদ্ধ হয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি এক ছেলে সন্তান ও এক কন্যা সন্তানের জননী।
-সূত্র : উইকিনিউস.অর্গ