04/08/2020
সামনের দিনগুলোতে কবে কখন সব ঠিক হবে সেটা আমরা কেউ জানি নাহ। কিন্তু এর মধ্যেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে করোনা পরবর্তী পৃথিবীর জন্য।
Nice content Md Hasibul Hasan
করোনা মহামারির কারনে পুরো পৃথিবীটাই থমকে আছে। সামনের দিনগুলোতে কবে কখন সব ঠিক হবে সেটা আমরা কেউ জানি নাহ। কিন্তু এর মধ্যেই আমাদের প্রস্তুতি নিতে হবে করোনা পরবর্তী পৃথিবীর জন্য।
আমরা আপনাদের জন্য নিয়ে এসেছি এমন কয়েকটি চাকরির খবর যেগুলো করোনা মহামারির কারনে ইন-ডিমান্ড হয়েছে আর সামনে এর চাহিদা আরো বেশি বাড়তেই থাকবে। সুতরাং এই মহামারির সময়ে নিচে তালিকাভুক্ত এর যে কোনো জবের জন্য আপনি নিজেকে প্রস্তুত করে, অন্যদের থেকে এগিয়ে থাকতে পারেন।
উল্লেখ্য যে, শুধুমাত্র মহামারির প্রভাবে যে সব চাকরির চাহিদা বেড়েছে সেগুলো বিস্তারিত তুলে ধরা হয়েছে এই পোস্ট এ। এর বাইরে ইন-ডিমান্ড রেগুলার চাকরির জন্য প্রস্তুতি নিতে ভুলবেন না।
১। #উচ্চ_মাধ্যমিক_বিদ্যালয়ের_শিক্ষকঃ
করোনা পরবর্তী পৃথিবীতে অন্যতম ডিমান্ডিং চাকরি হবে উচ্চ-মাধ্যমিক শ্রেনীর শিক্ষক পজিশনের জন্য। মহামারির কারনে ডিজিটালাইজেশনের প্রয়োজনীতা ঠিক কতটা সেটা সবাই বুঝতে পেরেছে।
ধারণা করা হচ্ছে, মহামারি শেষ হলে সব কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় গুলো অধিক মাত্রায় ডিজিটালাইজড হওয়া শুরু করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা এই ডিজিটালাইজেশনে দ্রুত এডাপ্ট করতে পারলেও উচ্চ-মাধ্যমিক পর্যায়ের অনেক শিক্ষকের পক্ষে এটা সম্ভব হবে না।
এর জন্য, একটি বড় অংশের শিক্ষকদের তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। শুন্য পদের কারনে চাকরির সুযোগ বাড়বে।
২। #ওয়েব_ডেভেলপারঃ
করোনা মহামারির সময়ে বিভিন্ন দেশে সম্পুর্ন বা আংশিক লকডাউন চালু করার ফলে সবচেয়ে বেশি ডিমান্ড বেড়েছে ওয়েব ডেভেলমেন্ট সংক্রান্ত চাকরির। বেশির ভাগ প্রতিষ্ঠান নতুন সাইট শুরু করছে বা পুরোন সাইট হালনাগাদ করছে।
অনেকেই নতুন করে ইকমার্স ওয়েব সাইট এর মাধ্যমে ব্যাবসা শুরু করেছে। কোরবানির গরু থেকে শুরু থেকে শুরু করে যাবতীয় জিনিসপত্র বর্তমানে অনলাইন এ বিক্রি হচ্ছে।
এ কারনেই ফ্রন্ট এন্ড, ব্যাক-এন্ড ডেভেলপার, ফুল-স্টক ডেভেলপার এর চাহিদা আকাশ সমান হয়েছে। এর সাথে সাথে ওয়েব এপ্লিকেশন, সফটওয়্যার ডেভেলপমেন্ট এর চাহিদাও বেড়েছে অনেকটাই।
৩। #আইটি_কনসাল্টেন্টঃ
মহামারির কারনে অনেক ফিজিক্যাল অফিস বন্ধ হয়ে গেছে। যাদের বড় অংশ আর রি-অপেন করা হবে না। আবার অনেক অফিস আংশিক বা সম্পূর্ণ রিমোট হয়ে যাবে। এতে করে প্রচুর কাস্টম সফটওয়্যার তৈরি হবে।
বড় বড় কোম্পানি গুলো যে কোন প্রজেক্ট হাতে নেয়ার আগে কন্সাল্টেন্সি করিয়ে নেয়। আর রিমোট অফিস আইডিয়াটা যেহেতু তেমন জনপ্রিয় নয়, তাই স্বাভাবিক ভাবেই আইটি কন্সাল্টেন্সি এর চাহিদা ভবিষ্যতে অনেকটাই বেড়ে যাবে।
৪। #ডিজিটাল_মার্কেটিংঃ
যেহেতু সব কিছু এখন অনলাইন ভিত্তিক হয়ে যাচ্ছে আর এই ধারা চলতেই থাকবে। এমনকি মহামারি শেষ হয়ে গেলেও ডিজিটালাইজেশন থামবে না তাই মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ডিজিটাল মার্কেটিং এর চাহিদা অনেক বেড়ে যাবে। যারা যত ডিজিটাল প্লাটফর্ম গুলোতে দক্ষ হতে পারবে তাদের চাকরি নিয়ে সমস্যা ততই বেশি হ্রাস পাবে ।
উল্লেখ্য, যে সব চাকরির চাহিদা সব সময়েই অনেক বেশি থাকে তার মধ্যে মার্কেটিং অন্যতম। আপনি যদি আমাদের Internship and Jobs in Bangladesh (IJBD) গ্রুপ ভিজিট করেন তাহলেই বাস্তবতা বুঝতে পারবেন। একজন গ্রান্ড মার্কেটার একজন সফল উদ্যোক্তার থেকেও বেশি ইনকামের সুযোগ পায়।
৫। #স্ট্র্যাটেজি_ম্যানেজারঃ
লক-ডাউন এর কারনে যে সব ব্যবসা কয়েকশ গুন বেশি হয়েছে তার মধ্য অনলাইন ই-কমার্স ব্যবসা অন্যতম। যেহেতু প্রচুর সাইট ব্যবসা শুরু করে দিয়েছে আর নতুন অনেক সাইট আসছে তাই ই-কমার্স ম্যানেজার এর চাহিদা অনেক বৃদ্ধি পাবে স্বাভাবিক ভাবেই।
ই-কমার্স ম্যানেজার এর পাশাপাশি স্ট্র্যাটেজিক সব সেক্টরেই চাহিদা বাড়বে। কারন ব্যবসার ইনভেস্ট করা বা একটা সাইট বানিয়ে উদ্যোগ নেয়া যত সহজ, সেটা সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া ততটাই বেশি কঠিন। আর ই-কমার্স হচ্ছে স্কেলিং এর ব্যবসা। যে যত বড় স্কেলিং করতে পারবে তার তত লাভ হবে। আর তাই স্টোর ম্যানেজার, পার্টনার, অপারেটিং অফিসার এর চাহিদাটাও অনেক বাড়বে বলে ধারনা করা হচ্ছে ।
৬। #কন্টেন্ট_রাইটারঃ
ওয়েব এ সার্চ ইঞ্জিন এ র্যাংক করার জন্য চাই প্রচুর কোয়ালিটি কন্টেন্ট। বিজ্ঞাপনের জন্য, খবরের জন্য বা ডিজিটাল যে কোন নোটিশ এর জন্য চাই কন্টেন্ট। ওয়েব সাইট, ওয়েব এপ বা মোবাইল এপ, কোনটাই ফুল ফিল হয় না কন্টেন্ট ছাড়া।
ডিজিটাল মার্কেটিং সহ যে কোন ধরনের কাজের প্রচারে প্রচুর কন্টেন্ট এর প্রয়োজন হয় । যেহেতু সব কিছু ডিজিটালাইজ হচ্ছে, তাই সামনের দিন গুলোতে কন্টেন্ট রাইটারের ডিমান্ড বাড়বে এটাই স্বাভাবিক।
৭। #কাস্টমার_সাপোর্টঃ
যত ডিজিটাল প্লাটফর্ম বাড়বে তত কাস্টমার সাপোর্ট বেশি দরকার হবে। ই-কমার্স সাইট, এডুকেশন, লার্নিং সহ যত সাইট আছে, সব গুলোর জন্যই সাপোর্ট লাগবে। পেমেন্ট গেটওয়ে তে সাপোর্ট লাগবে। ডিজিটাল বট এর মাধ্যমে কিছুটা সাপোর্ট দেয়া গেলেও আদতে চাহিদার তুলনায় সেটা কিছুই নয়। সামনের দিন গুলোতে তাই কাস্টমার সাপোর্ট এর চাহিদা সময়ের সাথে সাথে দ্রুত বাড়বে।
৮। #কম্পিউটার_সাপোর্ট_স্পেশালিস্টঃ
ভিডিও কনফারেন্স এ ক্লাস বা মিটিং, ইকমার্স এর মাধ্যমে ব্যবসা বা ডিজিটাল এপ্স এ খাবার অর্ডার। সব কিছুতেই কিন্তু কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইস লাগবে। যেহেতু সব কিছুই কম্পিউটার বেইজড তাই কম্পিউটার সাপোর্ট এ প্রচুর চাহিদা বাড়বে।
তাই এইটাই সঠিক সময় নিজেকে পরবর্তী সময়ের জন্য একজন এক্সপার্ট হিসেবে গড়ে তোলার। আপনার ভবিষ্যতটি নির্ভর করবে আপনি আপনার বর্তমানের অতিব মূল্যবান সময়টা কিভাবে কাটাচ্ছেন তার উপর।
আমরা ক্যাটাগরি গুলোর সাথে সাথে কারন গুলো ব্যাখ্যা করেছি। এতে করে আর কোন সন্দেহ থাকার কথা নয়। সুতরাং সময় নষ্ট না করে একটু চিন্তা করুন উপরের তালিকা ভুক্ত কেন সেক্টরটির জন্য আপনি নিজেকে গড়ে তুলতে চান।
Md Hasibul Hasan
Co-Founder and Chief Operating Officer,
কপিরাইটঃ ক্যারিয়ার পোর্টাল ২০২০
এই লেখার আংশিক বা সম্পুর্ন অংশ কোন প্রকার পরিবর্তন, পরিবর্ধন করে বা রিপ্রডাকশন করা সম্পুর্ন নিষেধ। তবে সম্পুর্ন পোস্টটি পেজ থেকে নিজের টাইমলাইন এ শেয়ার করে রেখে দিতে পারেন।