22/09/2023
আমরা অধিকাংশ মুসলিম ওজু ভাঙ্গার কারণ জানি কিন্তু ঈমান ভঙ্গের কারণ জানিনা! অথচ কী কী কারনে ঈমান ভঙ্গ হয় তা জানা একজন ইমানদারের জন্য অতীব জরুরী। অনেকেই সারাজীবন ইবাদত করেও অজ্ঞতাবশত নিজের অজান্তে ঈমান হারিয়ে অমুসলিম অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। কী দুঃখজনক ব্যপার!
আমাদের উচিৎ এটি নিজের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে সবাইকে জানানোর নিয়তে অনেক বেশি প্রচার করা।
ঈমান ভঙ্গের ১০ টি কারণ পয়েন্ট আকারে সংক্ষেপে লেখা হলো:
১.
শিরকে আকবর/বড় শিরক করা।
অর্থাৎ, আল্লাহর সাথে কাউকে শরিক করা/তুলনা করা। কোনকিছুকে আল্লাহর সমান মনে করা।
২.
আল্লাহ ও বান্দার মাঝে কোনো মাধ্যম তৈরি করা।
অর্থাৎ, এটা মনে করা যে আল্লাহকে পেতে হলে বা উনার কাছে কিছু চাইতে হলে মূর্তি, ব্যক্তি বা কোনো কিছুর মাধ্যমে চাইতে হবে। সরাসরি আল্লাহর নিকট কিছু চাওয়া/পাওয়া যাবে না, এমনটি মনে করা।
৩.
অমুসলিম/মুশরিক/কাফেরদের কাফের মনে না করা। তাদের ধর্মীয় বিশ্বাস, কুফুরিকে সঠিক মনে করা।
৪.
রাসূল সা. এর আদর্শের চেয়ে অন্যকারো আদর্শকে উত্তম মনে করা।
৫.
রাসূল সা. আনীত ইসলামের কোনো বিধানকে অস্বীকার/অপছন্দ করা।
অর্থাৎ, ইসলামের সকল বিধিবিধানে বিশ্বাস না রাখা। এর কোনো একটি বিধানকে অপছন্দ, ঘৃণা, অস্বীকার করা ঈমান ভঙ্গের অন্যতম কারণ।
৬.
শরিয়তের কোনো বিষয় নিয়ে ঠাট্টা/তামাশা/ব্যঙ্গ করা।
অর্থাৎ, কেউ যদি ফরজ/সুন্নাত এর মত বিষয় (যেমন; নামাজ, রোজা, পর্দা, দাড়ি, বাবরী) নিয়ে ঠাট্টা, তামাশা করে তাহলে তার ঈমান ভেঙ্গে যাবে।
৭.
ইসলামের শত্রুদের সহযোগিতা করা।
৮.
কোনো ব্যক্তিকে ইসলামের বিধিবিধানের ঊর্ধ্বে মনে করা।
অর্থাৎ, কেউ যদি মনে করে কোনো ব্যক্তির জন্য আল্লাহর ইবাদত/নামাজ-রোজার প্রয়োজন নেই তাহলে সে ঈমান হারা হবে।
৯.
কালো জাদু/Black Magic করা।
এককথায়, কেউ যদি জাদুতে লিপ্ত হয়/কালো জাদুর আশ্রয় নেয়, কুফরি করে তাহলে তার ঈমান ভেঙ্গে যাবে।
১০.
দ্বীনের ব্যপারে/ধর্মের ব্যপারে একেবারে উদাসী থাকা।
অর্থাৎ, কখনোই নামাজ না পড়া, দ্বীনের কিছুই নিজের মধ্যে না রাখা, ধর্মের কোনো কিছুই না জানা, না মানা। নামমাত্র মুসলিম এমন ব্যক্তি ঈমান হারা।
আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতাআ'লা আমাদের সবাইকে জানার এবং মানার তৌফিক দান করুন। আল্লাহুম্মা আমিন। 🌸
قمر الحسن