Guard of Buddha Sasana

Guard of Buddha Sasana Guard of Buddha Sasana is a real organization, it is very important of buddha bhikkhu/monk.

হে ভিক্ষুগণ, অকুশল মূল তিন প্রকার। তিন প্রকার কী কী? লোভ অকুশল মূল, দোষ অকুশল মূল, মোহ অকুশল মূল। হে ভিক্ষুগণ, এই তিনটিই...
27/08/2020

হে ভিক্ষুগণ, অকুশল মূল তিন প্রকার। তিন প্রকার কী কী? লোভ অকুশল মূল, দোষ অকুশল মূল, মোহ অকুশল মূল। হে ভিক্ষুগণ, এই তিনটিই হইল মূল।”

লোভ, দোষ আর মোহ

মনসম্ভূত হয়ে

ধ্বংস করে অকুশলচিত্ত মানবে,

ফলসহ বংশবৃক্ষসম।

গৌতম বুদ্ধ।

অবিদ্যার প্রত্যয়ে (কারণে) সংস্কার; সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান; বিজ্ঞানের প্রত্যয়ে নামরূপ; নামরূপের প্রত্যয়ে ষড়ায়তন; ষড়ায়...
25/04/2019

অবিদ্যার প্রত্যয়ে (কারণে) সংস্কার; সংস্কারের প্রত্যয়ে বিজ্ঞান; বিজ্ঞানের প্রত্যয়ে নামরূপ; নামরূপের প্রত্যয়ে ষড়ায়তন; ষড়ায়তনের প্রত্যয়ে স্পর্শ; স্পর্শের প্রত্যয়ে বেদনা; বেদনার প্রত্যয়ে তৃষ্ণা; তৃষ্ণার প্রত্যয়ে উপাদান; উপাদানের প্রত্যয়ে ভব; ভবের প্রত্যয়ে জন্ম; জন্মের প্রত্যয়ে জরা-মরণ-শোক-পরিদেবন (বিলাপ)-দুঃখ-দৌর্মনস্য-উপায়াস (হতাশা) উৎপন্ন হয়। এভাবে সমগ্র দুঃখরাশি উৎপন্ন হয়।

দান,  শীল,  নৈষ্কর্ম,  প্রজ্ঞা,  বীর্য্য ক্ষান্তি, সত্য,  অধিষ্টান,  মৈত্রী ও উপেক্ষা।১। দান – লোভ, দ্বেষ ও মোহ মুক্ত শ্...
30/10/2018

দান, শীল, নৈষ্কর্ম, প্রজ্ঞা, বীর্য্য ক্ষান্তি, সত্য, অধিষ্টান, মৈত্রী ও উপেক্ষা।
১। দান – লোভ, দ্বেষ ও মোহ মুক্ত শ্রদ্ধা চিত্তে দেওয়া।
২। শীল – পঞ্চ, অষ্ট, দশ, প্রতিমোক্ষ সংবরণ, আজীব পরিশুদ্ধ ও প্রত্যয় সন্নিহিত শীল।
৩। নৈষ্কর্ম – বিষয়াদি কাম ভোগ বিরত হইয়া শুধু ভবদুঃখ মোচনে আত্ম নিয়োগ করা।
৪। প্রজ্ঞা – অবিদ্যা – মোহ – অজ্ঞানতাদি বিদূরিত হইয়া চতুরার্য্য সত্যে ও ত্রিলক্ষণে যথাভূত জ্ঞান বা বিদ্যা।
৫। বীর্য্য – ভবযন্ত্রণার অন্তঃসাধন কল্পে সত্য ও সরল পন্থানুসরণ করা এবং তাহাতে শৌর্য্য, সামর্থ্য ও উদ্যম সহকারে দৃঢ় চিত্ত হওয়া।
৬। ক্ষান্তি – কাম ক্রোধ – লোভ – মোহাদি নিবৃত্তি, এবং সামর্থ্য সত্ত্বেও শত্রুর অনিষ্ট সাধনে ক্ষমাশীলতা, কাম্য ও লোভনীয় বস্তু হাতে পাইয়াও তদপ্রতি অনাসক্ত ও সহিষ্ণুতা পরায়ন হওয়া।
৭। সত্য – পঞ্চস্কন্ধ সত্য, চতুরার্য্যসত্য এবং উৎপত্তি ও বিলয় সত্য ইত্যাদি সত্য ধর্ম অনুসরণ করা।
৮। অধিষ্ঠান – সৎকার্য্য ও সদ্ধর্মাচরণে এবং দুঃখ মুক্তির উপায় নির্দ্ধারনে দৃঢ় সংকল্প হইয়া কুশল ব্রতানুষ্ঠান করা।
৯। মৈত্রী – সর্বজীবে কল্যাণকামী হইয়া সৌম্য করুনা ও মৈত্রীভাব পোষন করা।
১০ উপেক্ষা – বিষয় ভোগ বাসনায় অনাসক্ত ও বিরাগ চিত্তে অবস্থান করা, জাগতিক লাভ – অলাভ, সুখ – দুঃখাদির ঘাত প্রতিঘাত ও শীত গ্রীষ্ম প্রভৃতি যাবতীয় উপদ্রবে স্থিরতা ও উদাসীনতা।
বিপদ সংকুল ভবসাগর উত্তীর্ণাভিলাষী মানবের এই দশবিধ পারমী পূর্ণ করিয়া বিপদমুক্ত ও সুশান্ত ধর্ম জীবন লাভের চেষ্টা করা সর্বতোভাবে কর্তব্য। উক্তবিধ সদগুন ও পারমিতা পূর্ণতা ব্যতিরেকে ইহ ও পরকালের কোনওও কুশল কার্য্যে কৃতকার্য হওয়া যায় না। সুতরাং ইহ পর উভয়কালে সুখকামী ব্যক্তি জীবনের এই সুযোগ হইতেই পারমীর পূর্ণতা কল্পে সচেষ্ট হওয়া অতীব প্রয়োজন।
শীল, পারমী, প্রজ্ঞা ও ভাবনাদ্বারা বৌদ্ধ ধর্মের সুবিস্তীর্ণ রাজ্যে বহু অমূল্য মণি – মাণিক্য আহরন করিয়া আত্মোন্নতি সাধনে ও পরোন্নতিকল্পে উপহার দিবার অশেষ উপকরন পড়িয়া রহিয়াছে। কেবল চক্ষুষ্মান সুধীজনই উহা সংগ্রহ করিয়া জীবন সংগ্রামে দুঃখ পরাভূত পরম শান্তিলাভে কৃতার্থ হইয়া থাকেন।

16/10/2018
কখন কোথায়,কত সালে সম্পুর্ন ত্রিচীবর ধারী ভিক্ষুনী প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় নিম্নে তা উল্লেখ করা হয়েছেঃ # # # # # # # # # #...
03/03/2016

কখন কোথায়,কত সালে সম্পুর্ন ত্রিচীবর ধারী ভিক্ষুনী প্রথা নিষিদ্ধ ঘোষিত হয় নিম্নে তা উল্লেখ করা হয়েছেঃ
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
বার্মার কাবায়ে ১৯৫৪-১৯৫৬ ইংরেজী সনে বিশ্বের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী বৎসর হিসেবে স্বীকৃত। মহামানব গৌতম বুদ্ধের ২৫০০ তম জন্মজয়ন্তী বর্ষ উপলক্ষে বার্মার রাজধানী রেঙ্গুনে ৬ষ্ঠ মহাসংগীতির আয়োজন করা হয়।তৎকালীন ধর্ম প্রান মহামান্য প্রধানমন্ত্রী উঃ নু তার পৃষ্ঠপোষকতা
বুদ্ধ ভাষিত সূত্র,বিনয়,অভিধর্ম পিটক সমূহ একত্রিত করে ত্রিপিটকের খুঁটিনাটি বিষয় আলোচনার মাধ্যমে বুদ্ধ বানীর বিশোধন বই আকারে প্রনয়ন ইত্যাদি বৃহৎ পরিকল্পনা হাতে নেয়া হয়।বৌদ্ধ দেশ সমূহের রাষ্ট্রপ্রধান থেরবাদী পন্ডিত ভিক্ষুদের মধ্যে আড়াই হাজার ভিক্ষুসংঘ নির্বাচন করে এক মহাসন্মেলনের আয়োজন করেন।যা সমগ্র ইতিহাসে ৬ষ্ঠ মহাসংগীতি নামে অভিহিত হয়।সে সময় ১৯৫৪ সালে ১৪ মে বুদ্ধ পূর্নিমা দিবসে রেঙ্গুনের সন্নিকটে শ্রীমঙ্গল পাষান গুহায় মনোরম পরিবেশে মহাসংগীতির কার্যক্রম শুরু হয়।
এই সভায় সভাপতিত্ব করেন বার্মার প্রখ্যাত ত্রিপিটক শাস্ত্রজ্ঞ অগগমহাপন্ডিত ভদন্ত উঃরেবত
মহাস্থবির।প্রশ্নকর্তার দায়িত্বে ছিলেন অরহত মহাচী উঃ শোভনা ছ্যায়াদ।সেই ৬ষ্ঠ মহাসংগীতিতে ভিক্ষুনী সংঘ বিলুপ্ত করা হয়।ঐ মহাসংগীতিতে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে শুধুমাত্র "তিলাসি ও মেসিলা" করা যাবে তাও ত্রিচীবরধারী নয়।ভিক্ষুনী আর হতে পারবে না,পারলেও সংগীতি আহ্বান করতে হবে।তাহলে বর্তমানে ভিক্ষুনী সংঘ যারা প্রতিষ্ঠা করেছে তারা সংগীতি কারক ভিক্ষুসংঘদের বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করে অবমাননা করার সামিল নয় কি? এটা কি ধর্মের পরিহানী নয়? বুদ্ধ শুরুতেই ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করতে চাননি।ভগবান বুদ্ধের মাসীমা মহাপ্রজাপতি গৌতমী এবং সেই সময়ের উচ্চ বংশের মহিলারা আনন্দকে মাধ্যম করে ভগবান বুদ্ধের সমীপে উপস্থিত হয়েছিলেন।তখন আনন্দ সেই উপাসিকাদের প্রবল ইচ্ছের কথা বুদ্ধকে প্রকাশ করেছিলেন।তখন ভগবান বুদ্ধ তাদের কথা শুনে আনন্দকে বলেছিলেন,হে আনন্দ, যেখানে আমার ধর্ম ১০,০০০ বৎসর পর্যন্ত স্থায়ী হওয়ার কথা সেখানে ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করা হলে ধর্মের পরম আয়ু ৫০০০ বৎসরের মধ্যে নেমে আসবে।তারপরেও মহিলাদের কষ্ট ও আগ্রহ দেখে ভগবান বুদ্ধ ধ্যান দিয়ে বোধি চিত্তে দেখলেন যে,অতীত অতীত সম্যক সম্বুদ্ধগন ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন কিনা? তখন তাঁর বোধি চিত্তের রাডারে ধরা পড়ল যে অতীত বুদ্ধেরাও ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।তাই তিনি ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করার মনস্থ করলেন।এভাবে বুদ্ধের জীবদ্দশায় ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা হয়েছিলেন যা ৫ম সংগীতি পর্যন্ত বিদ্যমান ছিল। ৬ষ্ঠ সংগীতিতে এসে বিরাজমান পরিবেশ পরিস্থিতির কথা বিবেচনা করে ত্রিচীবরধারী ভিক্ষুনী প্রথা সম্পূর্ণভাবে বিলুপ্ত করা হয়।সুতরাং বর্তমান সময়ে নতুন করে ভিক্ষুনী সংঘ প্রতিষ্ঠা করা বা পুনঃজাগ্রত করা মানেই "ধর্মের পরিহানী/ রেড এলার্ট সিগন্যাল বা অশনি সংকেত"।
বর্তমান সময়ে কেউ যদি ভিক্ষুনী সংঘ চালু করতে চায় তাহলে তাকে সপ্তম মহাসংগীতির আয়োজন করতে হবে।একা এই সিদ্ধান্ত কেউ গ্রহন করতে পারবেনা।বুদ্ধের জীবদ্দশায়ও ভিক্ষুনী সংঘরা অপদস্ত হয়েছিল,এখনো হবে,এতে কোন সন্দেহ নাই।তাই সংগীতিকারক ২৫০০ ভিক্ষু একত্রিত হয়ে সেই সময় ভিক্ষু প্রথা সম্পূর্ন নিষিদ্ধ ঘোষনা করেছিলেন।এখন যদি কেউ ধর্ম বিনয় আদেশ- নির্দেশকে বিসর্জন দিয়ে জোর খাঁটিয়ে গায়ের জোরে ক্ষমতা বলে করে সেটা অন্য কথা।বলার আর কিছুই নেই।কিন্তু যারা বর্তমানে শামনী সংঘ এবং ভিক্ষুনী সংঘ পতিষ্ঠা করে বুদ্ধের বিনয় ধর্ম
নিয়ে জুয়া খেলছেন তাদের ঘৃনা করা ছাড়া আর কি করব।বাংলাদেশের ভিক্ষুসংঘরা নীরব ভূমিকা
পালন করছেন।তাদের কি কোন দায়িত্ব নেই।তাই বৌদ্ধ সাধারনকে বলতে চাই বুদ্ধের বিনয় নিয়ে যারা ছিলিমিলি খেলছে তাদেরকে বিচার করুন।কারন বর্তমান সময়ে শ্রামনী সংঘ/ভিক্ষুনী সংঘ সম্পুর্ন রুপে নিষিদ্ধ।এ আইন কেউ ভঙ্গ করতে পারবে না।যদি কেউ করে তাদেরকে ভিক্ষুসংঘের মাধ্যমে ব্রম্মদন্ড দিয়ে সমাজ থেকে বহিস্কার করে দিন।

15/04/2015

অধিকারী হয়ে থাকেন।
মেষ (মার্চ ২১-এপ্রিল ১৯): মেষ রাশির পুরুষের মাঝে ধৈর্য্য
একটু কমই দেখা যায়। ব্যক্তিগত জীবন হোক আর কর্মজীবন
হোক, যে কোনও কাজের চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করতে পারেন
তারা। আর যে কোনও রকমের প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া
(এবং তাতে জয় পাওয়া) তার জন্য নিত্যদিনের ব্যাপার।
নিপাট নম্র-ভদ্র ভালোমানুষি করার মাঝে নেই তিনি।
নিজের বিবেচনা অনুযায়ী, নিজের মর্জি মতো চলতে তিনি
ভালবাসেন। তাকে ঘিরে একটা প্রচ্ছন্ন বিপদের আভা টের
পাওয়া যায়, যেটা অনেক নারীর কাছেই আকর্ষণীয়। ‘ব্যাড
বয়’ ভাবটা নিজের মাঝে ফুটিয়ে তুলতে সিদ্ধহস্ত তিনি! আর
এ কারণে নারীরা আকৃষ্ট হন তাঁর প্রতি।
বৃষ (এপ্রিল ২০- মে ২০): নিজের কথাই শেষ কথা এবং যে যাই
বলুক না কেন, নিজের সিদ্ধান্ত থেকে একচুল নড়তে রাজি নন
বৃষ। কাজের প্রতি তাদের মনোযোগ অনেক বেশি থাকে।
তিনি হয়ে থাকেন বিচক্ষণ এবং পুরনো ধাঁচের মানসিকতার।
তার জীবনের লক্ষ্য হলো সুখে ঘরসংসার করা। তার
দৈনন্দিন রুটিন হয়ে থাকে সাধারণ এবং গোছালো। ‘মাটির
মানুষ’ বলতে যা বোঝায়, সেটাই হলেন তিনি।
মিথুন (মে ২১- জুন ২১): চমৎকার কথার জাল বুনে আপনাকে তাক
লাগিয়ে দেবেন মিথুন রাশির পুরুষ। আর এই কথা কিন্তু অযথা
গালগপ্পো নয়। একটু মন দিয়ে শুনলেই তার মাঝে বুদ্ধির
ঝিলিক দেখতে পাবেন আপনি। সে কখনোই আপনাকে বোর
করবে না। তার মাঝে কখনো দেখতে পাবেন একেবারেই সহজ
সরল মনের প্রকাশ, কখনো আবার তার মাঝ থেকে উকি দেবে
খুব উঁচুদরের মানসিকতা। তিনি যে কোনও জিনিসের ভালো
খারাপ উভয় দিক দেখতে পারদর্শী। তিনি অনেক বিষয়
নিয়ে কথা বলতে পারেন বটে। তবে মুদ্রার ওপিঠে রয়েছে
একটু ভুলোমনা মানুষ, যে কিনা সহজে সিদ্ধান্ত নিতে
পারেন না। তার মেজাজও পরিবর্তন হয় খুব দ্রুতই। সামাজিক
এবং বহুরূপী এই পুরুষের রয়েছে যে কোনও সমস্যা সমাধানের
দুর্লভ বৈশিষ্ট্য।
কর্কট (জুন ২২- জুলাই ২২): একটু লাজুক এবং রহস্যময় কর্কট পুরুষ।
তার চরিত্র চাঁদের দ্বারা প্রভাবিত। প্রথম দেখায় খুব চুপচাপ
মনে হতে পারে তাকে। কিন্তু তার কাছাকাছি আসতে
পারলে তবেই নিজের খোলস থেকে বের হবেন তিনি এবং
আপনি অবাক হয়ে আবিষ্কার করবেন তিনি কত চমৎকার একজন
মানুষ। কিন্তু যতই নম্র হন না কেন, কর্কট পুরুষকে জোর করে
কোনও কিছু করানো যাবে না, হিতে বিপরীত হবে তাতে।
অনেক রকম অনুভূতি দেখা যায় তার মাঝে। তিনি মাঝে
মাঝে হয়ে উঠতে পারেন একটু মারমুখী, কিন্তু সেটা নিজের
আত্মরক্ষার জন্যই। কষ্ট পেলে নিজেকে গুটিয়ে নেন তিনি।
কিন্তু তার দেয়ালের পেছনে রয়েছে নিখাদ একজন ভদ্রলোক।
তারা পরিবারের প্রতি অনুগত হয়ে থাকেন এবং তাদের
লক্ষ্য থাকে পরিবারের সুখের প্রতি। অনেক সময় তাদের
মাঝে অন্যদের মন বুঝে ফেলার ক্ষমতা লক্ষ্য করা যায়।
সিংহ (জুলাই ২৩- অগাস্ট ২২): সিংহ রাশির কোনও পুরুষের
আগমন আগে থেকেই টের পেয়ে যাবেন আপনি। তারা
নিজেদের উপস্থিত জানান দিতে ভালোবাসে, সেটা
হাঁকডাকের মাধ্যমেই হোক বা অন্য কোনও উপায়েই হোক।
তাকে ঘিরে থাকে শক্তিশালী, উষ্ণ একটি আভা।
জন্মগতভাবেই তিনি নেতৃত্ব দিতে পারদর্শী। অন্যদের
সাথে মিলেমিশে কাজ করতে তিনি ভালবাসেন। তিনি
নিজের বন্ধুমহলে সুপরিচিত এবং বেশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকেন
বটে। তবে তিনি একটু একগুঁয়ে হয়ে থাকেন। অন্যদের পরামর্শ
না শুনে নিজেই ঠিক করে ফেলেন কি করা উচিৎ। সবার
মনোযোগের মধ্যমণি হয়ে থাকতে ভালবাসেন তিনি। তিনি
একটু মেজাজি হয়ে থাকেন বটে, তবে যত গর্জে তত বর্ষে না।
সবকিছুর নিচে সিংহ পুরুষ আসলে বেড়ালের মতোই আদুরে
এবং তার সাথে একটু মিষ্টি আচরণ করলে তিনিও থাকবেন
একেবারে খোশ মেজাজে।
কন্যা (অগাস্ট ২৩- সেপ্টেম্বর ২২): কন্যা রাশির নারী যেমন
একেবারে তুলতুলে নারী নয়, তেমনি এই রাশির পুরুষকে
মেয়েলি ভাবলেও ভুল করবেন। তিনি হয়ে থাকেন কঠোর
পরিশ্রমী এবং তার ওপরে দেওয়া কাজের শেষ দেখেই
ছাড়েন তিনি। যে কোনও কাজ নিখুঁত করে করতেও তার তুলনা
নেই। খুঁটিনাটি বিষয়েও তার পূর্ণ মনোযোগ থাকে। অন্যকে
সাহায্য করতেও তিনি সিদ্ধহস্ত। কন্যা রাশির পুরুষ হয়ে
থাকেন সুবিচারি এবং ন্যায়পরায়ন। ভদ্রতা এবং
নিষ্পাপতার মতো দুর্লভ গুণ দেখা যায় তার মাঝে। তবে
তিনি হয়ে থাকেন একটু ছটফটে। মাঝে মাঝে নিজের
আত্মবিশ্বাস হারিয়ে ফেলেন তিনি, কিন্তু তার কাজের
মধ্য দিয়েই আবার সেই আত্মবিশ্বাস ফিরে পান নতুন করে।
তুলা ( সেপ্টেম্বর ২৩- অক্টোবর ২২): শুধু নিজের জন্য নয়, বরং
অন্য সবার জন্য সবসময় চিন্তা করে থাকেন তুলা রাশির পুরুষ।
সবাইকেই খুশি রাখতে চান তিনি। তিনি হয়ে থাকেন
শান্তিপ্রিয় এবং সবার মাঝে সম্প্রীতি বজায় রাখতে
চেষ্টা করেন। সবদিক চিন্তা করার কারণে তিনি দ্রুত কোনও
সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না। কিন্তু যখন তিনি সিদ্ধাত
নিয়ে ফেলেন তবে সেটা মেনে চলাই উত্তম। যে কোনও
পরামর্শের জন্য তুলা রাশির বন্ধুটির সাহায্য নিতে পারেন
আপনি। তিনি কোনও রকমের পক্ষপাতিত্ব দেখাবেন না।
তুলা রাশির পুরুষের অন্যতম একটি বৈশিষ্ট্য হলো, তিনি
সৌন্দর্য পছন্দ করেন। সুন্দর কোনও বস্তু, ঝকঝকে নতুন একটি
গাড়ি বা নতুন মডেলের ফোন- এ সবই তার পছন্দ। সুন্দর মানুষও
তিনি ভালবাসেন। আরও ভালবাসেন সাহিত্য। সভ্য ও
রুচিশীল পুরুষের সব গুণই আপনি খুঁজে পাবেন তার মাঝে।
বৃশ্চিক (অক্টোবর ২৩- নভেম্বর ২১): বৃশ্চিক রাশির পুরুষকে তুচ্ছ
করে দেখবেন না কখনোই। অপ্রয়োজনীয় বিষয় নিয়ে
সাধারণত মাথা ঘামান না তিনি। ‘সিরিয়াস’ ধরণের এই
মানুষের দৃষ্টিতে পৃথিবীতে রয়েছে শুধুই ভালো এবং শুধুই
খারাপ, এই দুইয়ের মাঝামাঝি কিছু নেই। তিনি একা একা
থাকতে পছন্দ করেন। সোজাসাপ্টা প্রশ্ন করতে তার জুড়ি
নেই। আর এই প্রশ্নের উত্তর গ্রহণ করার ব্যাপারেও তিনি
সতর্ক।
বৃশ্চিক পুরুষ নিজের ভাগ্য নিজে গড়ে নেওয়ায় বিশ্বাসী।
তিনি নিজের জীবনটাও পরিচালনা করে চলেন নিজের
নিয়মে। যুদ্ধে একবার হেরে গেলেও তিনি চেষ্টা করে যান
বারবার। স্বাধীনচেতা, নির্ভীক, কঠোর পরিশ্রমী এবং
উচ্চাকাঙ্ক্ষী এই পুরুষ সহজেই জীবনে এগিয়ে যেতে পারেন।
নিজের জীবনের ব্যাপারে অন্য কাউকে জানাতে পছন্দ
করেন না তিনি, পছন্দ করেন প্রাইভেসি। খুব দ্রুত তার
কাছের মানুষ হয়ে যাবার আশা বা চেষ্টা কোনটাই করবেন
না। তিনি এমন এক পুরুষ যাকে পোষ মানানো যায় না। বেশ
মেজাজি হয়ে থাকেন তারা, কষ্ট পেলে তার স্মৃতি মনে
রাখেন বহুদিন। কিন্তু সময় নিয়ে তাকে জানার চেষ্টা করলে
দেখতে পাবেন, আপনার জীবনের সবচাইতে স্পর্শকাতর এবং
জ্ঞানী মানুষটি সম্ভবত তিনিই।
ধনু (নভেম্বর ২২ থেকে ডিসেম্বর ২১): জীবনের পথে কখনই
স্থির হয়ে থাকে না ধনু পুরুষ, তারা সর্বদাই ভ্রমণরত। কিন্তু
তার মানে এই নয় যে তারা পথভোলা। সত্য, সৌন্দর্য এবং
জ্ঞানের অন্বেষণেই তাদের এই ভ্রমণ। এ কারণে ব্যক্তি
হিসেবে তাদেরকে অনেকটা ছাড় দিতে হয়। সম্পর্কের
শৃঙ্খলে বেঁধে রাখতে গেলে তারা নিজেদের বন্দি মনে
করেন এবং শৃঙ্খল ভেঙে চলে যান। কিছুটা দার্শনিক
মনোভাবের ধনু সবকিছু চিন্তা করেন গভীরভাবে। তিনি
অন্যের কথা মন দিয়ে শুনতে পছন্দ করেন। মাঝে মাঝে তারা
সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন খুব বেশি দ্রুত। কিন্তু যে কোনও
পরিস্থিতিতে তারা থাকতে পারেন আশাবাদী।
মকর ( ডিসেম্বর ২২- জানুয়ারি ১৯): মকর পুরুষকে দেখে যতই
শান্তশিষ্ট এবং চুপচাপ মনে হোক, এই বাহ্যিক রূপ দেখে ভুল
করবেন না মোটেও। তার চিন্তাভাবনা চলছে ঝড়ের গতিতে।
জীবনে যতই বাধা আসুক, ধীরস্থিরভাবে তা ভেঙে ফেলেন
মকর পুরুষ। এ কারণে তাকে হতে দেখা যায় বদ্ধপরিকর এবং
একই সাথে কঠোর পরিশ্রমী। অধ্যাবসায় হলো তার
সবচাইতে বড় গুণ। বেশিরভাগ সময় সাফল্য অর্জনের দিকে মন
থাকে এই পুরুষের। এ কারণে তার ব্যক্তিত্বে দেখা যায়
প্রচ্ছন্ন পরিপক্কতা। তিনি ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না,
ঝামেলা থেকে দূরে থাকতে পছন্দ করেন।
কুম্ভ (জানুয়ারি ২০- ফেব্রুয়ারি ১৮): প্রথম দেখায় আন্তরিক
মনে হবে কুম্ভ রাশির পুরুষকে। কিন্তু তাতে মনে করবেন না
তিনি একেবারেই নরম-সরম। তার হাসিখুশি মুখের পেছনে
কাজ করছে প্রখর বুদ্ধিমত্তা। নিজের পক্ষে যতটা সম্ভব,
পৃথিবীতে ততটাই ভালো কাজ করে রেখে যেতে চান তিনি,
আর সেটা করেনও সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে। অদ্ভুত কিছু
অভ্যাস থাকতে পারে তাদের। জলের মতোই পরিবর্তনশীল
তাদের প্রকৃতি। কখনো হয়ে থাকেন অসম্ভব রকমের একগুঁয়ে।
কুম্ভ পুরুষের অনেক বন্ধু থাকতে পারে। কিন্তু তার মানে এই
নয় যে তিনি খুব খোলামেলা। বেশিরভাগ সময়েই বন্ধুরা
ঠিক জানেন না তিনি আসলে কেমন। তার অনুভূতি হতে
পারে লুকানো, তার প্রতিক্রিয়া জটিল। তার একেবারে
কাছের মানুষ হয়ে ওঠা খুবই কঠিন, এবং তা করতে পারলে
নিজেকে ভাগ্যবান মনে করে নেবেন।
মীন (ফেব্রুয়ারি ১৯- মার্চ ২০): মীন রাশির পুরুষের মাঝে
অন্যান্য রাশির বৈশিষ্ট্যের মিশ্রণ দেখা যায়। পৃথিবীর
দিকে খুব বেশি নজর থাকে না তার। তার মানে এই যে,
তিনি সবকিছুর অন্তর্নিহিত দিকের প্রতি বেশি খেয়াল
করেন। আত্মিক চিন্তাভাবনা করে থাকেন প্রায়শই। মীন
পুরুষের সাথে কথা বলার সময় আপনার মনে হতে পারে আপনি
দুইজন আলাদা মানুষের সাথে কথা বলছেন। অথবা এমন একজন
আছে আপনার সামনে যার মন পড়ে আছে দুইটি আলাদা
জগতে। মুহূর্তেই গোল্ডফিশ আবার মুহূর্তেই হাঙ্গর হয়ে উঠতে
পারেন তিনি! বাইরে থেকে তাকে শান্ত মনে হলেও ঠিক
সেই মুহূর্তে হয়তো তার মাঝে চলছে তীব্র অনুভুতির খেলা।
তাকে মনে হতে পারে রহস্যময়, কারণ তার মনে কী চলছে
সেটা অনেক সময়েই অন্যদের জন্য, এমনকি তার নিজের
জন্যেও দুর্বোধ্য। সাধারণত নিজেদের এই বিচিত্র সব অনুভূতি
তারা প্রকাশ করে থাকেন শিল্প-সাহিত্যের মাধ্যমে এবং
সৃজনশীলতার ক্ষেত্রে অন্যান্য রাশির চাইতে মীন পুরুষ
বেশি সফল হয়ে থাকেন।

তথাগত কেন ছোট্ট সংকিচ্চ শ্রামণকে অরণ্যে নিয়ে যেতে বলেছিলেন? # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #শ্রাবস্তীর এক মহাধনী ...
07/01/2015

তথাগত কেন ছোট্ট সংকিচ্চ শ্রামণকে অরণ্যে নিয়ে যেতে বলেছিলেন?
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
শ্রাবস্তীর এক মহাধনী ব্রাহ্মণ-পরিবারের সন্তান সংকিচ্চ শ্রামণ। অতীত জন্মের শক্তিশালী পুন্যপারমীর প্রভাবে বুদ্ধের সময়কালীন সপ্তবর্ষ বয়ঃক্রমকালে ধর্মসেনাপতি শারীপুত্রের নিকট তিনি প্রব্রজিত হন এবং কেশচ্ছেদনের সময় প্রতিসম্ভিদাসহ অর্হত্ত্ব সাক্ষাৎ করেন। একসময় ত্রিশজন ভিক্ষু বুদ্ধ হতে কর্মস্থান গ্রহণ করে ভাবনার জন্য অরণ্যে যাচ্ছিলেন। ভগবান জানতেন অরণ্যে তাঁদের বিপদ হবে। তাই ছোট শ্রামণ সংকিচ্চকে সঙ্গে নিতে বলেন। ভিক্ষুগণ প্রথমে অনিচ্ছুক হলেও বুদ্ধ পুনঃ পুনঃ বলায় সেই শ্রামণকে সঙ্গে নেন। শ্রাবস্তী হতে অনেক দূরে এক পার্বত্য গ্রামকে অবলম্বন করে তাঁরা সাধনা করবেন এই উদ্দেশ্যে অরণ্যে ছোট ছোট পর্ণকুটির নির্মাণ করিয়ে তাঁরা ভাবনায় নিরত হন। কিছুদিন পর সেই পর্বতবাসী ডাকাতদের নায়ক সেখানে উপস্থিত হয়ে তাঁদের নিকটে এক ব্যক্তিকে প্রার্থনা করে। কেন এক ব্যক্তিকে প্রয়োজন তার কারণ জানতে চাইলে দলপতি বলে যে তাদের মানস অনুসারে নরবলি দিয়ে বনদেবীর পূজা দিতে হবে। সে বিপদে সংঘপ্রধান হতে প্রত্যেকে অন্যদের রেখে দস্যুপতির সঙ্গে যেতে ইচ্ছা প্রকাশ করেন। সর্বশেষে সংকিচ্চ বলেন- আপনারা অপ্রমত্ত হয়ে ভাবনা কারুন, আমিই যাব। ভিক্ষুরা কেউ তাতে সম্মত না হওয়ায় তিনি সবাইকে বুঝায়ে বলেন- তথাগত মহাকারুণিক আমাদের গুরুদেব এ বিপদের বিষয় জেনেই আমাকে পাঠিয়েছেন। আপনারা দৃঢ়তার সহিত ভাবনা করুন। আমিই যাব। সঙ্গী ভিক্ষুগণ অত্যন্ত শোকাকুল হয়ে শ্রামণকে বিদায় দেন।
ডাকাতদের দলপতি পূজার সমস্ত আয়োজন সম্পন্ন করে শ্রামণকে বধ্যভূমিতে নিয়ে যায়। শ্রামণ যুপকাষ্ঠের সম্মুখে বসে ধ্যানস্থ হন। দলপতি তার সুতীক্ষè অসি দিয়ে শ্রামণের গ্রীবাদেশে আঘাত করে। শ্রামণের শরীর স্পর্শ না করে অসি বাঁকা হয়ে যায়। তা সোজা করে পুনঃ আঘাত করে। তাতে অসি দুই টুকরা হয়ে যায়। এই ছোট সন্ন্যাসীর এমন অদ্ভুত শক্তি দেখে দলপতি তাঁর পায়ে লুটিয়ে পড়ে এবং অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করে। সেই শ্রামণের ধর্মদেশনা শুনে সেই পাঁচশত ডাকাত তাঁর নিকট প্রব্রজিত হয়।
শ্রামণের জন্য চিন্তায় সেই ত্রিশজন ভিক্ষুর চিত্ত এমন ব্যাকুল হয়েছিল যে তাঁদের কেউ ভাবনায় অগ্রসর হতে পারেন নি। শ্রামণ যখন পাঁচশত শিষ্য নিয়ে ফিরে আসেন তাঁরা অত্যন্ত আনন্দিত হন। তাঁরা তখন হতে অপ্রমত্তভাবে ভাবনা করে বর্ষাবাসের মধ্যেই সবাই অর্হত্ত্ব মার্গফলে প্রতিষ্ঠিত হন। বর্ষাশেষে শ্রামণ পাঁচশত শিষ্যসহ শ্রাবস্তীতে বুদ্ধের নিকট গমন করেন। বুদ্ধের ধর্মদেশনা শুনে তাঁরা সকলেই প্রতিসম্ভিদা সহ অর্হত্ত্ব সাক্ষাৎ করেন।
পরশমণির সংস্পর্শে লৌহের সোনা হওয়ার ন্যায় পন্ডিত-শ্রামণের সংসর্গ লাভে ডাকাতদল সর্বদুঃখ হতে মুক্তি লাভ করে। তাই বলা হয়, ছোট হলেও অবজ্ঞা করতে নেই। ছোট সংকিচ্চ শ্রামণের ধর্মগুণের দ্বারা সবাই জয়ী হলো এবং দুঃখমুক্তির পথ নির্বাণ মার্গে উপনীত হলো।

"ধ্যান-সমাধি # # # # # # # # # #প্রশ্নঃ- ধ্যান-সমাধি বা ভাবনা কি?উত্তরঃ ধ্যান-সমাধি বা ভাবনা হলো, মনের কার্যকলাপউন্নয়নের...
07/01/2015

"ধ্যান-সমাধি
# # # # # # # # # #
প্রশ্নঃ- ধ্যান-সমাধি বা ভাবনা কি?

উত্তরঃ ধ্যান-সমাধি বা ভাবনা হলো, মনের কার্যকলাপ
উন্নয়নের সচেতন প্রচেষ্টা। পালি ভাষায় ভাবনা অর্থ
হলো গড়ে তোলা। বা বৃদ্ধি করা।

প্রশ্নঃ- ধ্যানের তাৎপর্য কি?

উত্তরঃ ধ্যান বা ভাবনার গুরুত্ব অপরিসীম। আমরা যতই ভালো হতে চাই না কেন, তা সম্ভব হবে না, যদি আমাদের মনে সৎ হবার সদা সচেতন প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা না হয়। উদাহারণ স্বরুপ বলা যায়, নিজ স্ত্রীর প্রতি অসহনশীল স্বামী প্রতিজ্ঞা করলেন, এখন থেকে তিনি স্ত্রীর প্রতিসহনশীল হবেন। কিন্তু পরমুহুর্তে স্ত্রীর সঙ্গে চেঁচামেচি শুরু করলেন। এর কারণ তার কার্যকলাপ সম্পর্কে তিনি মনকে প্রহরীর মত সদাসচেতন রাখেননি। ফলে তাঁর অজ্ঞাতেই তিনি ধৈয্য হারিয়ে ফেলেছেন। ভাবনা বা ধ্যান-সমাধি নিজের মনের উপর প্রহরীর মত সদা সচেতন থাকার শক্তি ও অভ্যাস গড়ে তুলতে সাহায্য করে।

প্রশ্নঃ- আমি শুনেছি, ধ্যান কখনো কখনো বিপদজ্জনক
হতে পারে; তা কি সত্য?

উত্তরঃ এর উত্তর এভাবে দেয়া যায়। বাঁচার জন্য আমাদের লবনের প্রয়োজন। কিন্ত আপনি যদি একসঙ্গে ১ কিলোগ্রাম লবন খেয়ে ফেলেন, তাহলে আপনার মৃত্যু ঘটবে। আধুনিক জীবন যাপনের জন্য গাড়ী প্রয়োজন। কিন্তু আপনি যদি ট্রাফিক আইন না মেনে গাড়ী চালান, তাহলে আপনার বিপদ হবে।
ধ্যান-সমাধি বা ভাবনাও তদ্রুপ। আমাদের ধ্যান অনুশীলন প্রকৃত সুখ-শান্তির জন্য অপরিহায্য, কিন্তু
সঠিকভাবে চর্চা না করলে সমস্য দেখা দিবে। অনেকের ভুল ধারণা হলো মানসিক চাপ, অমূলক
ভীতি এবং স্কিজোপ্রেনিয়ার মতো অসুখ ধ্যান
অভ্যাসে নিরাময় হয়। এই জাতীয় অসুখে প্রথমে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের চিকিৎসা নেয়া উচিত। কিছুটা সুস্থ হবার পর ধ্যান অভ্যাস শুরু করতে হয়। শুরুতে অনেকক্ষণ ধ্যান করলে ক্লান্তি আসে। ক্যাঙারু ধ্যান আরও ক্ষতিকর। এই পদ্ধতিতে প্রশিক্ষণের ভিন্ন ভিন্ন পদ্ধতিতে, কখনও নিজে বই পড়া পদ্ধতিতে ক্যঙারুর মতো লাফিয়ে লাফিয়ে ঘন ঘন পদ্ধতি পরিবর্তন করে ধ্যান চর্চা করলে ক্ষতি হয়। কোন জটিল মানসিক রোগ না থাকলে ধ্যান সমাধি বা ভাবনা মানসিক
উৎকর্ষ সাধনে অশেষ উপকার সাধন করে, এ বিষয়ে কোনও সন্দেহ নেই। আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের মতে অনেক শারিরীক রোগ মানসিক কারণে সৃষ্টি হয়।

প্রশ্নঃ- কত প্রকার ধ্যান পদ্ধতি আছে?

উত্তরঃ বুদ্ধ বিভিন্ন পদ্ধতির ধ্যান শিক্ষা দিয়েছেন। এক
পদ্ধতি এক রকম মানসিক সমস্যার সমাধান ও মানসিক উৎকর্ষ সাধনে সাহায্য করে থাকে। তবে দু’প্রকারের ধ্যান পদ্ধতি সব চাইতে বেশী উপকারী। এর একটি হলো সচেতন শ্বাস-প্রশ্বাস ভিত্তিক অর্থাৎ আনাপানা স্মৃতি, অন্যটি হলো মৈত্রী ভাবনা বা মেত্তা স্মৃতি।

প্রশ্নঃ- “আনাপানা” পদ্ধতি কিভাবে করতে হয়?

উত্তরঃ আপনি ‘পি’ অক্ষর দিয়ে শুরু চার শব্দের চারটি সহজ।ধাপে ধ্যান করতে পারেন। যেমন, প্রথম ধাপে প্লেস বা স্থান নির্বাচন; এমন স্থানে বসে ধ্যান করতে হবে, যেখানে কোন গোলমাল নেই। দ্বিতীয় ধাপে পজিশন বা শরীরের অবস্থান- আরামদায়ক স্থানে হতে হবে। হাটু ভাঁজ করে আরামে কোলের উপরে বাম হাতের তালুর উপর ডান হাতের তালু রেখে, শির
দাড়া (মেরুদন্ড) সোজা রেখে চোখ বন্ধ করে আসন নিন। এর বিকল্প অবস্থান হতে পারে চেয়ারে শিরদাড়া সোজা রেখে বসা। পা থেকে মাথার তালু পযর্ন্ত, নীচ থেকে উপরের দিকে পয্যায়ক্রমে প্রত্যক গিট, মাংসপেশী শিথিল করে আসন নিতে হবে। তৃতীয় ধাপে প্রাকটিস বা আসল ধ্যানানুশীলন- এতে নিশ্বাস-প্রশ্বাসের সময় শ্বাস ছাড়া(বিলয়) এবং শ্বাস নেয়া (উদয়) এর মধ্যে মনঃসংযোগ করা। শ্বাস-প্রশ্বাসের সঙ্গে নাভির ওঠানামার মধ্য অথবা শ্বাস-প্রশ্বাসের মধ্যে মনঃসংযোগ রাখতে পারেন। চতুর্থ ধাপে পোবলেম বা ধ্যানের সময় মনঃসংযোগে কিছু সমস্যা দেখা দিতে পারে। যেমন- শরীরের বিভিন্ন জায়গায় চুলকানী অনুভব, হাটুতে ব্যাথা দেখা দিতে পারে। এতে নড়াচড়া না করে, অস্থির না হয়ে, যে জায়গায় চুলকাচ্ছে বা ব্যাথা করছে সেই হাটু বা স্থান শীথিলভাবে রাখার অনুভুতি আনতে হবে। কোথাও চুলকানো অপরিহায্য হলে মনঃসংযোগ সহকারে হাত
তোলা, নেয়া, চুলকানো, আবার হাত যথাস্থানে ফিরিয়ে আনা, সবই মনঃসংযোগ সহকারে করতে হবে এবং যথাশীঘ্র পুনরায় নাভি ওঠানামার মধ্যে মনঃসংযোগ ফিরিয়ে আনতে হবে। এছাড়া অস্থির মন
বিক্ষিপ্তভাবে এখানে-সেখানে, এবিষয়
ওবিষয়ে ছোটাছুটি করে। তখন ধৈয্যের
সাথে তড়াহুড়া না করে, মনঃসংযোগ যথাশীঘ্র নাভির
ওঠনামার মধ্যে বারবার ফিরিয়ে আনতে হবে।
এভাবে অনুশীলন করতে করতে, অনুশীলন অব্যাহত
রাখলে ক্রমান্বয়ে অস্থির-বিক্ষিপ্ত চিত্ত
বা ছোটাছুটি করা মন স্থির হয়ে আসবে, মনঃসংযোগ
শক্তিশালী হয়ে ওঠবে এবং মনের গভীরে প্রশান্ত মুহুর্ত
গুলোর উদয় হবে। এক কথায় আপাদমস্তক দেহ প্রশান্ত
শীথিলতায় উপবিষ্ট আসনে অথবা শয্যায় সমর্পিত
করে মনকে দেহের মধ্যে সংযুক্ত করে। দেহ মনের এ
গতিবিধি পয্যবেক্ষণের নাম ধ্যান, ভাবনা বা সমাধি।
প্রশ্নঃ- কতক্ষণ ধ্যান করা উচিত?
উত্তরঃ প্রথম সপ্তাহে প্রতিদিন ১৫ মিনিট। তারপর
প্র্রতি সপ্তাহে ৫ মিনিট করে বাড়াতে থাকুন।
এভাবে প্রতি দিন ৪৫ মিনিট করে ধ্যান্ভ্যাস এবং নিয়মিত ধ্যানানুশীলন করলে অনুভব করবেন আপনার মনসংযোগের সময়সীমা বৃদ্ধিলাভে মনের বিক্ষিপ্ত ছোটাছুটি, অস্থিরতা হ্রাস পাচ্ছে, ক্রমান্বয়ে আপনি মনের ও শরীরের শিথিল, প্রশান্ত অনুভূতিপূর্ণ মুহুর্তের সন্ধান পাচ্ছেন।

প্রশ্নঃ- “মেত্তাভাবনা” ধ্যান কিভাবে করতে হয়?

উত্তরঃ আনাপানা পদ্ধতির ধ্যানাভ্যাস রপ্ত হবার পর
মেত্তাভাবনা পদ্ধতির ধ্যান শুরু করতে হয়।
আনাপানা পদ্ধতিতে ধ্যান করার পর মেত্তভাবনা পদ্ধতি শুরু করবেন। এটি সপ্তাহে ২/৩বার করতে পারেন। এই পদ্ধতি হলো- প্রথমে নিজের উদ্দেশ্যে মনে মনে বলুন, “আমি যেন ভালো থাকি, সুস্থ থাকি, ধীর-স্থির থাকি, বিপদমুক্ত, রোগমুক্ত ও শত্রুমুক্ত হই; আমার মন দ্বেষমুক্ত হোক, অন্তর মৈত্রী-করুণাময় হোক”। এরপর অনুরুপ মঙ্গল কামনা প্রথমে আপনার প্রিয়(বাবা-মা, শিক্ষাগুরু, ভাই-বোন, আত্মীয়-স্বজন,বন্ধু-বান্ধব, সহকর্মী) ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে, তারপর নিরপেক্ষ (আপনার প্রিয়ও নয় অপ্রিয়ও নয়) ব্যক্তিদের উদ্দেশ্যে, সবশেষে আপনার পছন্দ নয় এমন ব্যক্তিদের
উদ্দেশ্যে করুন। মনে মনে বলুন, এরা সবাই যেন নিজের মতো সুখে-শান্তিতে বসবাস করেন।

প্রশ্নঃ- মেত্তভাবনার উপকারীতা কি?

উত্তরঃ আপনি আন্তরিক অনুভূতি নিয়ে সবার মঙ্গল
কামনা করলে, নিজের মধ্যে প্রশান্তিময় এক শুভ চেতনা অনুভব করবেন। দেখতে পাবেন, আপনি সবার
কাছে ক্রমশঃ গ্রহণযোগ্য, ক্ষমাশীল হয়ে উঠেছেন, আপনার প্রিয় ব্যক্তিদের প্রতি আপনার ভালবাসা বৃদ্ধি পাচ্ছে। যাদের প্রতি আপনি উদাসীন ছিলেন, আপনার ক্ষোভ ও বৈরীভাব ছিল, তাদের প্রতি অকুশল ভাব হ্রাস পেয়ে করুণা- উপেক্ষা-মৈত্রী ভাবের উদয় হচ্ছে। এসনকি গভীর মনোসংযোগের ধ্যানে কোন রোগীকে অন্তঃর্ভূক্ত করলে রোগীর অবস্থার উন্নতি ঘটবে।

প্রশ্নঃ- ঐ ব্যাপারটি কিভাবে সম্ভব হয়?

উত্তরঃ মনকে সম্যকভাবে ধ্যানের একাগ্রতায় সংগঠিত
করতে সফল হলে, মন এক শক্তিশালী যন্ত্রের মত শক্তি সঞ্চয় করে। মনের ঐ শক্তিকে অন্যের প্রতি যথার্থভাবে প্রয়োগ করতে সফল কাম হলে তা কায্যকরী হয়ে উঠে। আপনার এমন অভিজ্ঞতাও থাকতে পারে, অনেক লোকের ভীড়ের মধ্যে আপনি অনুভব করছেন, কেউ আপনাকে লক্ষ্য করছেন। এর কারণ, আপনার মননশক্তি ঐ ব্যক্তির গ্রাহক যন্ত্র হিসেবে কাজ করছে। এটি মেত্তাভাবনার প্রভাব যা ভাবনাকারী পয্যবেক্ষণ করবেন।

প্রশ্নঃ- ধ্যান শিক্ষার জন্য কি কোনও শিক্ষকের প্রয়োজন?

উত্তরঃ শিক্ষক অপরিহায্য নয়। তবে অভিজ্ঞ ব্যক্তির নির্দেশ অবশ্যই সাহায্য করে। দুর্ভাগ্য বশতঃ অভিজ্ঞ শিক্ষক পাওয়া যায় না। ভালভাবে অনুসন্ধান করে প্রশিক্ষক নির্বাচন। করা উচিত। তা না হলে বিপরীত ফল হতে পারে।

প্রশ্নঃ- শোনা যায় মনস্তত্ববিদ কিংবা মানসিক রোগ
বিশেষজ্ঞরা সম্প্রতি তাদের কাজে ধ্যান পদ্ধতি ব্যবহার করছেন; একথা কি সত্য?

উত্তরঃ কথাটি সত্য। সম্প্রতি রোগ চিকিৎসায় ধ্যান-
পদ্ধতি ব্যবহার করা হয়। বিশেষতঃ আত্মসচেতনতা সৃষ্টি, অমূলক ভীতি দূরীকরণ কিংবা দুচিন্তাগ্রস্থ রোগীর
প্রশান্তি প্রদানের জন্য। বুদ্ধের আবিষ্কৃত বিশ্লেষনধর্মী মনের তথ্য অদ্যাবধি মানুষকে অজ্ঞানজনিত দুঃখ থেকে মুক্তি দিয়ে অপ্রমেয় শান্তি প্রদান করে যাচ্ছে।
যে ব্যক্তি অন্যকে সৎ শিক্ষার উপদেশ দেন এবং অকুশল কর্ম থেকে বিরত রাখেন তিনি সৎ লোকের প্রিয় ও অসৎ লোকের বিরাগভাজন হন।

“নমো তসস্” বন্দনার ব্যাখ্যাঃ- # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #সিদ্ধার্থ গৌতম দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর তপস্যার পর সুজাতার ...
07/01/2015

“নমো তসস্” বন্দনার ব্যাখ্যাঃ-
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
সিদ্ধার্থ গৌতম দীর্ঘ ৬ বছর কঠোর তপস্যার পর সুজাতার দেওয়া পায়েসান্ন ৪৯ গ্রাসে গ্রহণ করে নৈরঞ্জনা নদী পার হয়ে উরুবেলা বনে তৃণাসনে বসে মনে মনে কঠিন শপথ গ্রহণ করে বলেছিলেন, আমার অস্থি, চামড়া, মাংস শুকিয়ে যাক, গুড়িহয়ে যাক, পৃথিবী প্রলয় হয়ে যাক তথাপি দুর্লভ বুদ্ধত্ব লাভ
না করা অবধি এই আসন ত্যাগ করব না। এইভাবে তিনি দুপুর ১২টা থেকে সূর্য ডুবন্ত পর্যন্ত মারকে পরাজিত করেন। শুরু হলো মূল অভিযান। শেষ রাত্রে পৃথিবী কম্পিত করে তিনি সর্বজ্ঞতা লাভ করে হলেন সম্যক সম্বুদ্ধ। তাই দেবগন সর্বপ্রথম বুদ্ধকে বন্দনা করলেন এইভাবে- “সাতগিরী যক্ষ নামে,
“নমো” নাম ধরেঅসুরেন্দ্র “তসস্” বলি, নমষ্কার করেচারি লোকপাল নমে, “ভগবতো” আরনমিলো
“অরহতো” বলি, ইন্দ্র গুনধার “সম্যক সম্বুদ্ধসস্” নমে মহাব্রহ্মা পরে, অষ্টজনে পঞ্চভাবে নমষ্কার করে,
দেব হতে নমষ্কার হলো প্রচার, আমি শ্রী বুদ্ধ পদে করি নমষ্কার”। আক্ষরিক অনুবাদঃগিরীরাজ যক্ষ বুদ্ধকে “নমো” বলে বন্দনা করেছিলেন। “ন” শব্দের অর্থ নরক। লোকভূমির দেব মনুষ্যদেরকে ধর্ম দেশনা প্রদান করে নরকের হাত থেকে মোক্ষের দিকে অথবা মুক্তির দিকে নিয়ে যাবে বলে এই অর্থে “মো”। অসুর ভূমির রাজা অসুররাজ বুদ্ধকে “তসস্” বলে বন্দনা করেছিলেন। কারন অতীত বতর্মান ভবিষ্যতের
সমস্ত তৃঞ্চাকে ধ্বংস করেছেন এই অর্থে “ত”। শীলের উপর অথবা সত্যের উপর অধিষ্ঠান করে অপ্রিয় সত্য
বলতে গিয়ে কয়েক হাজার বার জীবনাবসান হয় তথাপি সত্যত্যাগ করেননি এই অর্থে “স”। চার লোকপাল দেবতা- ধৃতরাষ্ট্র, বিরুঢ়ক, বিরুপাক্ষ এবং কুবের। নামক এই চারজন প্রভাবশালী লোকপাল
দেবতা বুদ্ধকে “ভগবতো” বলে প্রণাম করেছিলেন। “ভ” শব্দের অর্থ ভবচক্র। একত্রিশ লোকভূমি নিয়ে একটা ভব। কামভব, রুপভব, অরূপভবএইভাবে অনেক ভব আছে। বুদ্ধ এই ভব কে ভেঙ্গেছেন তথা জন্মচক্র, জ্বরা-মরন চক্র, অবিদ্যা চক্র, ব্যুচক্র এই চক্রের খাঁচাকে ভেঙ্গেছেন এই অর্থে “ভ”। “গ”শব্দের অর্থ গতি বা স্রোত। সাধারনত ভবের গতি তির্যক লোকে, প্রেত লোকে, অসুর লোকে, নরকে কিংবা নিম্নদিকে নিয়ে যায়। এই গতি বা স্রোতকে রুদ্ধ বা স্তব্ধ করতে সক্ষম হয়েছেন এই অর্থে “গ”। জগতে মাতার বন্ধন, পিতার বন্ধন, স্ত্রীর বন্ধন, পুত্রের বন্ধন, আত্মীয় স্বজনের বন্ধন, ধন সম্পদের বন্ধন, রোগের বন্ধন এইভাবে দশটি বন্ধনের শিকল থেকে মুক্ত হয়েছেন বা ভবের
বন্ধন খুলে ফেলেছেন সেই অর্থে “বান”। স্বর্গের ইন্দ্ররাজ বুদ্ধকে “অরহতো” বলে বন্দনা করেছিলেন।
“অ” শব্দের অর্থ অরি বা শত্রু। বাহিরের শত্রু নয় নিজের দেহের শত্রু যা কোটি কল্পকাল ধরে জগদ্দল পাথরের মত ঘাপ্টি ধরে বসে আছে। এই মহাশত্রুর নাম হচ্ছে: লোভ-দ্বেষ- মোহ। বির্দশন জ্ঞান বা প্রজ্ঞার পবিত্র তেজে সমস্ত পাপ ক্লেশকে ধ্বংস কিংবা হত নিহত করেছেন বলেই “অরহত”। মহাব্রহ্মা এসে বুদ্ধকে “সম্মা সম্বুদ্ধসস্” বলে বন্দনা করেছিলেন। এই সম্যক সম্বুদ্ধের অর্থ খুবই ব্যাপক। স্বয়ংভু জ্ঞানে অর্থ্যাৎ নিজ জ্ঞানে কোন শিক্ষক অথবা আচার্য প্রচার্য্য ছাড়া জন

জীবক বুদ্ধকে কি প্রশ্ন করেছিলেন? # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #বুদ্ধ যখন আম্রবনে বাস করছিলেন তখন একদিন মহ...
07/01/2015

জীবক বুদ্ধকে কি প্রশ্ন করেছিলেন?
# # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
বুদ্ধ যখন আম্রবনে বাস করছিলেন তখন একদিন মহাভিষক জীবক বুদ্ধের সংগে সাক্ষাৎ করতে গেলেন এবং বুদ্ধকে বন্দনা করত: একপার্শ্বে উপবেশন করে বুদ্ধকে জিজ্ঞেস করলেন----ভদন্ত, শোনা যায়, আপনার দায়ক-দায়িকাগণ নাকি আপনার উদ্দেশ্যে প্রাণী হত্যা করেন এবং আপনি জেনে শুনে সে মাংস আহার করেন। তা কি সত্যি? নাকি আপনার নামে মিথ্যা অপবাদ এবং আপনাকে অপদস্থ করার জন্য এসব বলেন? তখন তথাগত বললেন, হে জীবক---আমাদের উদ্দেশ্যে জীব হত্যা করে মাংস দেয়া হলে জানলে, দেখলে অথবা সন্দেহ হলে সে মাংস আমাদের গ্রহণীয় নয়। অন্যথা মাংস আহার্য.বলে শিষ্যদের বলি।
হে জীবক, ধরো কোন ভিক্ষু গ্রাম বা নগরে ভিক্ষান্ন সংগ্রহ.করে বাস করে। উক্ত ভিক্ষু আপনার মৈত্রী-পূর্ণ চিত্ত.প্রসারিত করে সর্বজগতের মঙ্গল চিন্তায় রত হয়। এই ভিক্ষুকে যদি কোন গৃহে নিমন্ত্রণ করে, সুস্বাদু আহার্য দান করে, তখন তার মনে এরকম চিন্তার উদয় হয় না। এই দায়ক আমাকে সুস্বাদু আহার দান করেছে, ভবিষ্যতে ও যেন এরকম সুস্বাদু খাবার খেতে পারি। এরকম চিন্তায় তার মন আচ্ছন্ন.থাকে না। কারণ সে অলুব্ধ, অমূর্ছিত, অনাসক্ত হয়ে আধ্যাত্ম চিন্তায় মগ্ন হয়ে আহার গ্রহণ করে। হে জীবক, সে ভিক্ষু কি তখন নিজের বা পরের নিপীড়নের কথা চিন্তা করে?
জীবক-না ভন্তে। বুদ্ধ – সে ভিক্ষু কি তখন অনবদ্য আহার গ্রহণ করে না? জীবক – হা ভদন্ত। তখন তিনি অনবদ্য আহারই গ্রহণ করেন। বুদ্ধ- হে জীবক, যে রাগ, দ্বেষ, মোহগ্রস্থ, হিংসুক হয়, সে রাগ, দ্বেষ, মোহ তথাগতের ত্যক্ত, উম্মুলিত, উৎখাত, বিধ্বস্ত। যদি এজন্য মাংসাহারের প্রসংগ উত্থাপন করে থাক
তবে এটিই উত্তর। বুদ্ধ বললেন, যে ব্যক্তি তথাগত বা তথাগত-শিষ্যের উদ্দেশ্যে প্রাণী হত্যা করে, সে পাঁচ কারণে অনেক অপুণ্য সঞ্চয় করে। সে যে বলে, “যাও, অমুক প্রাণী নিয়ে আস।“ এটি অপুণ্য সঞ্চয়ের প্রথম কারণ। গলায় বেধে টেনে আনার সময় প্রাণীটি যখন দু:খ পায় তখন অপুণ্য সঞ্চয়ের দ্বিতীয় কারণ। যখন হুকুম দেয় “এ প্রাণীটিকে হত্যা কর।“ এটি অপুণ্য সঞ্চয়ের তৃতীয় কারণ। হত্যার সময় প্রাণীটি যখন দু:খ, লাঞ্চনা ভোগ করে, তখন এটি অপুণ্য সঞ্চয়ের চতুর্থ কারণ। সে যে তথাগত বা তথাগত শিষ্যদের অননুকুল বস্তু দিয়ে বিরক্ত করে তাতে পঞ্চম কারণে অপুণ্য সঞ্চয় হয়। বুদ্ধের কথা শুনে জীবক উচ্ছসিত হয়ে বলে উঠলেন, ভদন্ত, ভিক্ষুগণ একান্তই অনুকুল অনবদ্য আহারই গ্রহণ করেন।

মহাউপাসিকা বিশাখা কিরকম মহাশক্তিধর ছিলেন? # # # # # # #$ #$ # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #মহাউপাসিকা বিশাখা...
07/01/2015

মহাউপাসিকা বিশাখা কিরকম মহাশক্তিধর ছিলেন?
# # # # # # #$ #$ # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # # #
মহাউপাসিকা বিশাখার অনেক গুণের কথা আমরা জানি। বিশাখা কিরকম শারীরিক শক্তির অধিকারী ছিলেন? বিশাখা অতীত জন্মে পঞ্চ গোরসাদি প্রচুর পুষ্টিকর খাদ্য দান করেছিলেন। খাদ্য ভোজ্য দানের প্রভাবে দাতা আয়ু-বর্ণ- সুখ-বল-প্রজ্ঞা এই পাচটি সম্পদ লাভ করে। দানের ফল এমনিই মহান। বিশাখা পঞ্চ হস্তীর বল ধারণ করতেন। যারা পুষ্টিকর খাদ্য দান করেন তারা মহাশক্তির অধিকারী হন। একদিন
কোশলরাজ বিশাখার শারীরিক শক্তির কথা জানতে পেরে বিশাখাকে পরীক্ষা করার মানসে একদিন
বিশাখা যখন পঞ্চশত সখীসহ বিহার থেকে গৃহে প্রত্যাবর্তন করছিলেন, তখন রাজা একটি মদমত্ত হস্তী ছেড়ে দিলেন। শুন্ড ঘুরায়ে হস্তী বিশাখার দিকেই ধাবিত হলো। সখীরা প্রাণভয়ে চিৎকার.করে পালাতে লাগলো এবং বিশাখাকে পালানোর জন্য অনুরোধ করলো। বিশাখা মৃদু হেসে বললেন, তোমরা ভয়
পেয়ো না, নীরবে আমার পিছনে দাড়িয়ে থাকো।
একথা বলতে না বলতেই হস্তীটি বিশাখারর সম্মুখে এসে পড়লো। বিশাখা হস্তীর শুড় দুই আংগুলে ধরায় হস্তী তাহা সহ্য করতে না পেরে চিৎ হয়ে পড়ে গেলো। এ দৃশ্য দেখার জন্য বহুলোক সমাগত হয়েছিল। সকলেই.পুণ্যবতী বিশাখার অসাধারণ শক্তি দেখে আশ্চর্য্যান্বিত হয়ে গেলেন। আসলেই দানের ফল অচিন্তনীয়। আমরা যদি ইচ্ছা করি জন্ম-জন্মান্তরে এরকম পুণ্যশক্তির অধিকারী অনায়াসে হতে পারি। তজ্জন্য প্রয়োজন আমাদের উদার দানচিত্ত।

মাতৃ জাতির প্রতি ভিক্ষুদের কর্তব্য*******************************অন্তিম শয্যায় শায়িত অস্তগামী তথাগতকে তাঁরই সুযোগ্য বিচক...
07/01/2015

মাতৃ জাতির প্রতি ভিক্ষুদের কর্তব্য
*******************************
অন্তিম শয্যায় শায়িত অস্তগামী তথাগতকে তাঁরই সুযোগ্য বিচক্ষণ সেবক আনন্দ জিজ্ঞেসা করেন, প্রভু, মাতৃজাতির প্রতি আমাদের কিরুপ ব্যবহার করা কর্তব্য? তখন ভগবান বুদ্ধ বলেন, আনন্দ, নারী জাতির প্রতি দৃষ্টিপাত না করা উচিত। তখন আনন্দ ভান্তে আবার জিজ্ঞেসা করেন, ভন্তে যদি নয়ন গোচর হয় তখন কিরুপ ব্যবস্থা অবলম্বন করা কর্তব্য? বুদ্ধ প্রতিত্তোরে বলেন, আলাপ করবেন না। আলাপ করলে চিত্ত চঞ্চল হয়ে কামভাব উৎপন্ন হলে শীল ভঙ্গের আশঙ্কা রয়েছে। আনন্দ পুনরায় জিজ্ঞেসা করেন, যদি ওরা আলাপ করে তবে তখন কি করা কর্তব্য? বুদ্ধ বলেন, আনন্দ, স্বীয় মাতা বা ভগ্নি বা মেয়ের সাথে যেন আলাপ করছো, এরুপই চিত্ত উৎপাদন করা কর্তব্য। বুদ্ধ আরও বলেন, শিরচ্ছেদে উদ্যত অসি - হস্ত ব্যক্তির সাথে কথা বলবে, রক্ত মাংস ভক্ষণোদ্যত পিশাচের সাথে কথা বলবে, এবং যে সর্প দংশন করলে জীবন নাশ হয় তেমন বিষাক্ত সর্পের সামনে দাড়াবে কিন্ত একাকী মাতৃ জাতির সাথে দাঁড়াবে না এবং আলাপও করবে না। কিন্তু এদের দ্বারা মৃত্যু হলে নারকীয় দুঃখ যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে না কিন্তু শীল ভঙ্গের মৃত্যুর পর ঘোরতর নরকে পতর অনিবার্য। আনন্দ শাস্তার অনুশাসন নতশিরে মেরে নিলেন।

Address

Cox's Bazar

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Guard of Buddha Sasana posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share