26/01/2017
প্রধানমন্ত্রীর কাছে ছাত্রীদের খোলা চিঠি।
চট্টগ্রাম: এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ (মহিলা কলেজ, চট্টগ্রাম) কে সরকারিকরণ আন্দোলনের চতুর্থ দিনে এবার প্রধানমন্ত্রীকে খোলা চিঠি দিয়েছে ছাত্রীরা।
বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকালে নগরীর এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ মাঠে অবস্থান কর্মসূচির পর লিফলেট আকারে এ খোলা চিঠি দিয়েছে কলেজে অধ্যয়নরত শিক্ষার্থীরা।
এনায়েতবাজার মহিলা কলেজকে সরকারিকরণের দাবিতে সোমবার (২৩ জানুয়ারি) থেকে মানববন্ধন, অবস্থান কর্মসূচি, কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতিকে অধ্যক্ষের মাধ্যমে আবেদন, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ও চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসককে স্মারকলিপি প্রদান করেছে কলেজের ছাত্রী সংগ্রাম পরিষদের ব্যানারে ৫ শতাধিক শিক্ষার্থী।
এনায়েতবাজার মহিলা কলেজ ক্যাম্পাসে বৃহস্পতিবার (২৬ জানুয়ারি) সকাল ১০টা থেকে বেলা ১২টা পর্যন্ত আন্দোলনরত ও সাধারণ ছাত্রীরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। পরে কলেজের অধ্যক্ষ ও শিক্ষকবৃন্দ এসে ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরে যাওয়ার আহবান জানান।
কলেজের ছাত্রী সংগ্রাম পরিষদের সচিব নন্দিতা দাশ বাংলানিউজকে বলেন, কলেজ সরকারিকরণের দাবিতে চলমান আন্দোলন আমরা ১০ দিনের জন্য স্থগিত করেছি। কলেজের প্রিন্সিপাল আমাদের অবহিত করেছেন পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে বসে পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানাবেন। পরবর্তীতে কলেজ কর্তৃপক্ষের কাছে ফলপ্রসূ কোন কার্যক্রম পাওয়া না গেলে আবারও কলেজের ছাত্রীদের নিয়ে আন্দোলনে নামবো।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ তহুরীন সবুর ডালিয়া বাংলানিউজকে বলেন, কলেজ সরকারিকরণ হোক তা আমরাও চাই। তবে কলেজ সরকারিকরণের একটি প্রক্রিয়া রয়েছে। ছাত্রীরা আন্দোলন করছে, অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছে, স্মারকলিপি দিয়েছে সব ঠিক আছে। কিন্তু আন্দোলন করতে গেয়ে কোন সমস্যা হলে, তার দায়ভার আমাদেরও কলেজ কর্তৃপক্ষেরই আসবে। তাই ছাত্রীদের ক্লাসে ফিরে আসার আহবান জানানো হয়েছে। আমাদের কলেজ পরিচালনা কমিটির সভায় সভাপতি বিষয়টি নিয়ে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।
এনায়েতবাজার মহিলা কলেজের শিক্ষার্থী ইশরাত জাহান বাংলানিউজকে বলেন, শিক্ষার্থীদের প্রাণের দাবি এনায়েতবাজার মহিলা কলেজকে সরকারিকরণ করা। আমাদের ৪ দিনের আন্দোলনে আমরা অনেক অগ্রসর হয়েছি। কলেজ কর্তৃপক্ষ আমাদের আন্দোলনকারীদের ডেকে আন্দোলন স্থগিত করে ক্লাসে ফিরে যেতে বলেছেন। এ মহিলা কলেজ সরকারিকরণ হলে অনেক গরীব ও মধ্য পরিবারের ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষা চালিয়ে যেতে পারবে। না হলে অনেক ছাত্রীদের মাঝপথে লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাবে।
তবে, ১০ ফেব্রুয়ারির মধ্যে কলেজ সরকারিকরণে যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করা না হয় তাহলে পরবর্তীতে কঠোর আন্দোলন কর্মসূচি গ্রহণ করা হবে এবং আশা রাখি তিনি আমাদের নিরাশ করবেন না যেহেতু আমরা তাকে বিশ্বাস ও আস্তা রেখে ক্লাসে ফিরে যাচ্ছি জানিয়েছেন কলেজের ছাত্রী সংগ্রাম পরিষদের আহবায়ক সঞ্চিতা দাশ সৃষ্টি।
কলেজের প্রিন্সিপাল, আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সাথে বসেছেন। তিনি জানিয়েছেন, পরিচালনা কমিটির সভাপতির সাথে বসে এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। পরবর্তীতে আমরা শিক্ষার্থীদের আন্দোলন আপাতত স্থগিত করেছি।
এটা ছিল আজকের তথ্য।
-------আহবায়ক, ছাএী পরিষদ!