18/08/2026
আসসালামু আলাইকুম।
ইজমা ফার্নিচার—অনলাইনে আমাদের দীর্ঘ পথচলার কিছু কথা ও বর্তমান বাস্তবতা।
২০১০ সাল থেকে ফেসবুক পেজের মাধ্যমে ইজমা ফার্নিচার-এর অনলাইন পথচলা শুরু। এরপর ২০১২ সালে বিক্রয়.কম চালু হওয়ার পর সেখানে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়ার মাধ্যমে অনলাইনে ইজমা ফার্নিচারের পরিচিতি আরও বাড়তে থাকে।
তখন চট্টগ্রামে বিক্রয়.কমের কোনো অফিস ছিল না। বলিরহাট এলাকায় অনলাইন ব্যবসার ক্ষেত্রে ইজমা ফার্নিচারের একটা ভালো পরিচিতি ও সুনাম তৈরি হয়েছিল।
২০১২ সালে বিক্রয়.কমে প্রথম দিকে সম্পূর্ণ ফ্রিতে ইচ্ছেমতো বিজ্ঞাপন দেওয়া যেত। তখন আমার কোনো রেডিমেড পণ্য ছিল না। বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার প্রচুর বিজ্ঞাপন দিতাম। আলহামদুলিল্লাহ, প্রতি সপ্তাহে ২/৩ জন কাস্টমার সরাসরি যোগাযোগ করতেন। পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে অর্ডার করতেন এবং অনেকেই সরাসরি কারখানায় এসে অর্ডার দিয়ে যেতেন।
পরবর্তীতে ২০১৩/২০১৪ সালের দিকে চট্টগ্রামে বিক্রয়.কমের কার্যক্রম শুরু হয়। এরপরও মেম্বারশিপ নিয়ে নিয়মিত অনলাইন ব্যবসা চালিয়ে যাই।
২০১৬ সালের দিকে ফ্রিতে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ বন্ধ করে মেম্বারশিপ চালু করা হয়। মাসে প্রায় ১,৮০০ টাকা দিয়ে প্রায় ৩০টি বিজ্ঞাপন দেওয়া যেত। সপ্তাহে নিয়মিত বিজ্ঞাপন দেওয়ার পাশাপাশি কিছু ফ্রি বাম্পআপও পাওয়া যেত, যার মাধ্যমে বিজ্ঞাপন উপরে রাখা সম্ভব হতো।
এভাবেই দীর্ঘদিন বিক্রয়.কমের মাধ্যমে ব্যবসা করেছি।
কিন্তু ২০২১/২০২২ সালের দিকে বিক্রয়.কমে চ্যাট অপশন চালু হওয়ার পর পরিস্থিতি ধীরে ধীরে পরিবর্তন হতে শুরু করে।
এর আগে কোনো বিজ্ঞাপন অনুমোদন হওয়ার পর কাস্টমার সাধারণত ফোন করতেন। পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতেন, দাম ও মান সম্পর্কে কথা বলতেন এবং সন্তুষ্ট হলে সরাসরি কারখানায় এসে অর্ডার করতেন। আবার অনেক সময় আমাদের লোকজন সরাসরি গিয়ে অর্ডার নিয়ে আসত।
চট্টগ্রামের বাইরে হলে কাস্টমাররা ফোনে বিস্তারিত আলোচনা করে কুরিয়ার চার্জ বা অর্ডারের একটি অংশ—প্রায় ২৫%/৫০% পর্যন্ত—অগ্রিম দিয়ে অর্ডার করতেন।
কিন্তু চ্যাট অপশন চালু হওয়ার পর ধীরে ধীরে ফোন কল কমতে থাকে। অনেকেই পণ্য সম্পর্কে বিস্তারিত না জেনেই শুধু পোস্টের দাম দেখে চ্যাটে অস্বাভাবিক কম দাম বলতে শুরু করেন।
ধরুন, কোনো পণ্যের দাম ৫০ হাজার টাকা। অথচ চ্যাটে কেউ বলছেন—“৫ হাজারে হবে?” “১০ হাজারে দেবেন?”
পণ্যটি কী দিয়ে তৈরি, এর মান কেমন, সাইজ কত, কেন দাম এমন—এসব জানার বা বোঝার আগেই শুধু দাম নিয়ে মন্তব্য করা শুরু হয়।
এক পর্যায়ে তাই বিক্রয়.কমে বিজ্ঞাপন দেওয়া বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই।
বর্তমানে ফেসবুক পেজ ও বিভিন্ন ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট করে কোনোভাবে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছি।
কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, অনলাইনে প্রতারণার ঘটনা এত বেশি বেড়েছে যে প্রকৃত ব্যবসায়ীদেরও এর খেসারত দিতে হচ্ছে।
আগে অগ্রিম টাকা চাইলে তেমন প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হতো না। কিন্তু এখন কোনো পণ্য তৈরি বা ডেলিভারির জন্য সামান্য অগ্রিম চাইলেই অনেকেই সন্দেহ করেন—“চোর”, “চিটিং”, “প্রতারক” ইত্যাদি।
আমরা কাস্টমারের টাকা নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার ব্যবসা করি না। আমরা অর্ডার অনুযায়ী ফার্নিচার তৈরি করি।
বাস্তবতা হলো, অল্প অগ্রিম ছাড়া কাস্টমাইজড ফার্নিচার তৈরি করা অনেক সময় সম্ভব হয় না। কারণ কাঠ, বোর্ড, ফোম, কাপড়, হার্ডওয়্যার, শ্রমিকের মজুরি—সবকিছুতেই খরচ হয়।
আর ক্যাশ অন ডেলিভারিতে যদি কাস্টমার পণ্য গ্রহণ না করেন, তাহলে একটি পণ্য ফেরত আনতেই আমাদের ১০ হাজার টাকারও বেশি লোকসান হতে পারে।
তাই অগ্রিম নেওয়া মানেই প্রতারণা নয়। আবার কাস্টমারেরও যাচাই ছাড়া কাউকে অগ্রিম টাকা দেওয়া উচিত নয়।
তাই আমাদের অনুরোধ—অনলাইনে পণ্য কেনার আগে নিজেও সতর্ক থাকুন।
কোনো প্রতিষ্ঠান থেকে পণ্য অর্ডার করার আগে—
✅ সম্ভব হলে ভিডিও কলে কথা বলুন।
✅ প্রতিষ্ঠানের বাস্তব ঠিকানা যাচাই করুন।
✅ ট্রেড লাইসেন্স আছে কি না জেনে নিন।
✅ প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্ট আছে কি না দেখুন।
✅ প্রয়োজন হলে প্রতিষ্ঠানের কাগজপত্র সম্পর্কে তথ্য নিন।
✅ পণ্যের ছবি, ভিডিও ও বাস্তব অবস্থা ভালোভাবে যাচাই করুন।
✅ সম্ভব হলে সরাসরি শোরুম/কারখানা পরিদর্শন করুন।
✅ অর্ডার, অগ্রিম ও ডেলিভারির শর্তগুলো পরিষ্কারভাবে জেনে নিন।
আমরা চাই অনলাইনে প্রতারণা কমুক এবং প্রকৃত ব্যবসায়ীদের প্রতি মানুষের বিশ্বাস ফিরে আসুক।
কারণ অনলাইন ব্যবসা টিকে থাকে শুধু পণ্য দিয়ে নয়—বিশ্বাস, সততা ও দীর্ঘদিনের সুনামের ওপর।
২০১০ সাল থেকে আজ পর্যন্ত যারা ইজমা ফার্নিচার-এর ওপর আস্থা রেখেছেন, যারা আমাদের কাছ থেকে পণ্য নিয়েছেন এবং ভালো-মন্দ অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন—সবার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা।
আমরা বিশ্বাস করি,
“একজন কাস্টমার শুধু একজন ক্রেতা নন—তিনি আমাদের দীর্ঘদিনের পরিচিতি ও সুনামের অংশ।”
ইনশাআল্লাহ, প্রতারণার এই সময়ে আমরা সততা ও বিশ্বাসকে সঙ্গে নিয়েই এগিয়ে যেতে চাই।
ইজমা ফার্নিচার
বিশ্বাসে গড়া একটি নাম
চট্টগ্রাম