13/09/2025
ডাকসু নির্বাচন বিএনপির জন্য একটি ম্যাসেজ !!
- টি এ সেলিম :
বিএনপি নাকি বিএমপি সঠিক শব্দটি উচ্চারণও অনেকেই জানেন না!! অথবা বি এন পি অর্থ কি??? বাংলাদেশ ন্যাশনাল পার্টি ( বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল) হয়তো ততটা না জেনেই তিনিই আজকে এলাকার বড় নেতা!! আমি কোন রাজনীতির সাথে জড়িত নয় বা কখনো রাজনীতির সাথে জড়ানোর আমার ইচ্ছে নেই।
৯০ দশকের পর যখন খুব ছোট ছিলাম তখন নবগ্রাম প্রাইমারি স্কুলে পড়তাম আর আশেপাশের বাড়ির সমবয়সী দের কে নিয়ে নান্দিয়াপাড়া বাজার মিছিল নিয়ে আসতাম। মিছিলে নেতৃত্ব দিতাম আমি। মিছিলে যে শব্দগুলো ব্যবহার করতাম "আমরা সবাই জিয়ার সেনা ভয় করিনা বুলেট বোমা। সারা বাংলার ধানের শীষে শহীদ জিয়া আছে মিশে। ভোট দিন ভোট দিন ধানের শীষে ভোট দিন।
মিছিল নিয়ে আমরা যখন নান্দিয়াপাড়া বাজারে পৌঁছতাম তখন সেখানে শামসুল হক ( হেন্জা নেতা) উনাকে দেখতাম, তখন উনাকে উদ্দেশ্য করে আমরা স্লোগান দিতাম "স্লোগানে আমরা এইটাই বলতাম.. যে "সামনে আছে নেতা ভাই আমরা কিছু খেতে চাই"। যেহেতু আমরা অনেক ছোট ছিলাম তখন তিনি আমাদেরকে কিছু বিস্কুট কিনে দিতেন আমরা বিস্কুট খেতে খেতে বাড়ি চলে যেতাম। আজ আর সেই শামসুল হক (হেন্জা নেতা) জীবিত নেই!! বড় হওয়ার পর খুব কাছ থেকে ওনাকে দেখেছি, দেওটি ইউনিয়ন বিএনপির যখন যেখানে মিছিল, মিটিং, সমাবেশ হতো তিনি সশরীরে হেঁটে চলে যেতেন। কতদিন হয়তো শামসুল হক (হেন্জা নেতা) চা বিস্কুট খেয়ে দুপুরের সময়টাকে কাটিয়ে দিয়েছেন!! টাকার অভাবে!! বিএনপি দলের জন্য অনেক খেটেছেন কিন্তু শেষে তিনি কি পেয়েছেন??
চিকিৎসার অভাবে এক সময় তিনি মারা গেছেন!! একবার তিনি শামসুল হক (হেন্জা নেতা) যখন (বেগমগঞ্জ- সোনাইমুড়ী) ১ আসন ছিল তখন বরকত উল্লাহ বুলু সংসদ সদস্য প্রার্থী ছিলেন নান্দিয়াপাড়া বাজারে আমাকে দিয়ে বরকত উল্লাহ বুলু, বেগম খালেদা জিয়া, জিয়াউর রহমান ও তারেক জিয়ার ছবি আর্ট করাই ছিলেন। ছবিটি এখনো নান্দিয়াপাড়া পশ্চিম বাজারে আছে। কিন্তু তিনি আমাকে ততটা টাকা দিতে পারেননি ।
তখনও তো বিএনপির প্রবাসী ডোনার ছিলেন কতটা ডোনেশন করেছিলেন উনাকে?? বা আজ কতোটা খবর রাখছেন উনার পরিবারের??
বিএনপি'র দল ভাঙ্গিয়ে এলাকার হয়তোবা কেউ কেউ এখন বড় নেতা!! তিনি এখন সালিশ বাণিজ্য করেন!! সি এস খতিয়ান, এস এ খতিয়ান সেটেলমেন্ট জরিপ ( পর্ষা) খতিয়ান, নামজারি খতিয়ান, সাবেক দাগ, হাল দাগ, হিস্যা কতটা তিনি বুঝেন?? শুধুমাত্র পাঁচজন লাঠিয়ালি সাথে নিয়েই গিয়েই সামনের চেয়ারে বসলেই হলো!!!
যদি না-বুঝেন তিনি কতোটা সমাধান দিতেন পারবেন!! না এখানে আপনার পেশি শক্তিতে কোন কাজ হবে না!! এখন ইন্টারনেটের যুগ। আপনি নিজেকে এলাকার বড় নেতা দাবী করেন যদি আপনার মাধ্যমে সাধারণ মানুষ ন্যায় বিচার না পায় তাহলে এর দায় ভার আপনাকেই নিতে হবে।!! আপনি একজনকে হুমকি দমকি দিলেন তিনি ন্যায়বিচার পেলেন না!! আপনি অন্য পক্ষ থেকে সাময়িক কিছু টাকা পেলেন কিন্তু আপনি বিএনপির তো বড় ক্ষতি করলেন!! যিনি ন্যায় বিচার পেলেন না!! ঠিক তিনি হয়তোবা বিএনপিকে ভালোবাসতেন ভোটের সময়ে বিএনপিকে ভোট নাও দিতে পারেন!!
একবার ২০০৮/৯ সালের সংসদ নির্বাচনে ভোট দিতে গিয়ে আমি পড়লাম খুব চিন্তা ভাবনায়!!! কারণ তিনজন প্রার্থীই ছিলেন আমার খুব কাছের মানুষ। তার মধ্যে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই ( ধানের শীষ) তিনি আমার সবচেয়ে বড় গ্রাহক তখনকার। সেই সময় এখনকার মতো কোন ডিজিটাল প্রিন্ট ছিল না যার কারণে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাইয়ের ছবি আমি বিভিন্ন জায়গায় হাতে আর্ট করেছিলাম। তখন ( বেগমগঞ্জ- সোনাইমুড়ী) এক আসন ছিলো। সোনাইমুড়ী রেললাইন সংলগ্ন তোফায়েল শপিং কমপ্লেক্স বিল্ডিং এর পাশে বিশাল বড় একটি ছবি আর্ট করার সময় পড়লাম বিপদে!! যেহেতু ছবিটি অনেক বড় করে আর্ট করলাম। তাই অনেকগুলা বাঁশ আমাদের রশি দিয়ে উপরে বাঁনতে হয়েছিল। তখন দিপু ভাইদের বাড়ি থেকে বাঁশ আনতে গিয়ে রেল লাইনের পাশে এক ব্যক্তি ডিম বিক্রি করছেন উনার ডিমের খাঁচায় বাঁশ পড়ে সব ডিম ভেঙে গেছে!! ডিম ওলা লোকটি করলেন গ্যাঞ্জাম!! পড়লাম বিপদে!! পরিশেষে
ছবিটি শেষ পর্যন্ত আর্ট করা সম্পূর্ণ করলাম। এবং সোনাইমুড়ী, জয়াগ, আমিশাপাড়া সহ চৌমুহনী চৌরাস্তার পাশে অনেক ছবি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাইয়ের আমি আর্ট করেছিলাম। ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই যখন এলাকা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিতেন তখন আমাকে মোবাইল করে বলতেন সেলিম তুমি ছাতারপাইয়া চৌরাস্তায় আসো তোমার সাথে দেখা করে কিছু টাকা দিয়ে লোকেশন দেখাই দিয়ে আমি ঢাকা চলে যাবো। আমি উনার সাথে দেখা করতাম এবং উনার দেখানো লোকেশন মত ছবি আর্ট করতাম।
একবার আমার চারুঅংকন আর্ট স্কুলের প্রতিষ্ঠাতা বার্ষিকী ১২ বছর পূর্তি উদযাপনে আমি মাইজদী মোশারেফ গ্রামার স্কুলে একটি প্রোগ্রাম করেছিলাম। তখন তখনকার নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র হারুনুর রশিদ আজাদ ভাইকে বিশেষ অতিথি হিসেবে দাওয়াত দিতে গেলাম এবং বললাম প্রধান অতিথি ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই, তখন হারুনুর রশিদ আজাদ ভাই বারবার আমাকে প্রশ্ন করলেন ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই কি সত্যি প্রোগ্রামে আসবেন?? কিন্তু ঠিক সময়ে ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই আমার প্রোগ্রামে উপস্থিত হইলেন এবং উনার পিএস ইকবাল হোসেন রুবেল ভাই ফোন করেই হারুনুর রশিদ আজাদ আনলেন। যাই হোক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন ভাই ও আমার খুব কাছের মানুষ। আরেক জন কাজী মোঃ রফিক উল্লাহ ( দৈনিক জাতীয় নিশান এর সম্পাদক ও প্রকাশক) মার্কা ( দোয়াত কলম) যে পত্রিকায় আমার সাংবাদিকতা শুরু। কাজী মোঃ রফিক উল্লাহ স্যার ও আমার কাছের মানুষ। অন্যজন হারুনুর রশিদ বাসার। মার্কা (লাঙ্গল) তিনি আমার এলাকার গর্ব নান্দিয়াপাড়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা। বর্তমান বীরশ্রেষ্ঠ রুহুল আমিন ডিগ্রী কলেজ। তিনিও আমার কাছের মানুষ। যাইহোক ভোটটি যেহেতু গোপন কক্ষে দিয়েছি গোপনই থাক।
অনেকে আছেন যারা প্রবাসে থাকেন বিশেষ করে আমেরিকা এবং লন্ডনে যারা বিএনপিকে অনেক ভালবাসেন। তারা এলাকার কিছু নেতাকে ডোনেশন করেন। আমার প্রশ্ন এখানে আপনারা ডোনেশন করবেন ঠিক আছে কিন্তু আপনার ডোনেশন করা টাকা দিয়ে এলাকার নেতা কি করে আপনি কি জানেন?? এলাকার কিছু নেতা আছেন যারা ৫-১০ টা বাইক নিয়ে মহড়া দেয়, আর নামকরা হোটেল গিয়ে পরোটা এবং পোড়া মুরগির রান খান। আপনি কি খবর নিয়েছেন আপনার নেতাদের দ্বারা এলাকার সাধারণ মানুষের কতটা উপকার আসছে?? হয়তোবা আপনার কোনো কোনে কম বয়সী নেতা সাধারণ মানুষের সামনে বসে দামী নাম করা সিগারেট টানছে!! আপনার নেতা যদি তার এলাকার মুরুব্বীদেরকে সম্মান না করেন!! আপনার নেতার করণে যদি সাধারণ মানুষের কোনো উপকার না আসে! তাহলে আপনি কি ঠিক করেছেন?? আমার প্রশ্ন প্রবাসী ভাইয়ের কাছে?? জোরজবরদস্তির, বলপ্রয়োগ নয়, সম্মান ভালোবাসায় জয়হোক মানবতার।
( চলবে)
টি এ সেলিম
দপ্তর সম্পাদক
সোনাইমুড়ী প্রেসক্লাব।