27/12/2025
ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে, বদ নজর (কুদৃষ্টি) বা হাসাদের ভয় একটি বাস্তব বিষয় হিসেবে স্বীকৃত। রাসুল (সা.) বলেছেন, “বদ নজর সত্যি এবং যদি ভাগ্যের চেয়ে কোনো কিছু এগুতে পারত, তবে তা হতো বদ নজর।” (সহিহ মুসলিম)।
সুতরাং ফেসবুক বা অন্য কোনো মাধ্যমে সন্তানের অর্জন শেয়ার করার সময় সতর্কতা জরুরি।
ইসলামী নির্দেশনা: বদ নজর থেকে সুরক্ষার উপায়
১. আল্লাহর উপর ভরসা ও দু‘আ:
· যেকোনো ভালো কাজ বা অর্জন শেয়ার করার আগে আউযু বিল্লাহি মিনাশ শায়তানির রাজিম পড়ুন এবং বিসমিল্লাহ বলে শুরু করুন।
· শেয়ার করার সময় দু‘আ করুন: “মা শাআল্লাহু লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ” (আল্লাহ যা চেয়েছেন, আল্লাহ ছাড়া কোনো ক্ষমতা নেই)—এটি হাসাদ বা নজর থেকে হিফাজতের একটি সুন্নতী আমল।
· দৈনিক আয়াতুল কুরসি, সুরা ফালাক ও নাস পড়ে সন্তান ও পরিবারকে হিফাজতে রাখার অভ্যাস করুন।
২. শালীনতা ও সংযম:
· অতিরিক্ত বিশদ বিবরণ বা বাহবা না দেওয়া—শুধু প্রয়োজনীয় তথ্য শেয়ার করুন।
· ছবি শেয়ার করলে ইসলামী শালীনতা বজায় রাখুন (যদি শেয়ার করেন) এবং সম্ভব হলে সাধারণ বা কম এক্সপোজার দেওয়া ছবি বেছে নিন।
· শিশুর পূর্ণ নাম, বয়স, স্কুলের নাম ইত্যাদি সংবেদনশীল তথ্য প্রকাশে সতর্ক থাকুন।
৩. উদ্দেশ্য পরিশুদ্ধ রাখা:
· শেয়ার করার পেছনে লোক দেখানো বা গর্ব যেন না থাকে, বরং আল্লাহর শুকরিয়া ও অনকে উৎসাহ দেওয়ার নিয়্যত থাকুক।
· ইনশাআল্লাহ, আলহামদুলিল্লাহ শব্দ ব্যবহার করে আল্লাহর অনুগ্রহ স্বীকার করুন।
৪. প্রাইভেসি সেটিংস ব্যবহার:
· শুধুমাত্র বিশ্বস্ত আত্মীয়-বন্ধুদের (যাদের হাসাদ বা নজরের আশঙ্কা কম) কাছে সীমাবদ্ধ রাখতে Facebook-এর “Privacy Settings” ব্যবহার করুন।
· Public পোস্টের বদলে ক্লোজড গ্রুপ বা নির্দিষ্ট লোকের সাথে শেয়ার করা নিরাপদ।
৫. দো‘আ ও সুরা পাঠের মাধ্যমে সুরক্ষা:
· সন্তানের জন্য নিয়মিত দো‘আ ও মাসনুন দু‘আ (সকাল-সন্ধ্যার জিকির) পড়ুন।
· ঘরে প্রবেশ, খাওয়া শুরু, নতুন কাপড় পরার সময়ের দু‘আগুলো পালন করুন—এগুলোও নজর থেকে হিফাজতের উপায়।
বাস্তব উদাহরণ: ইসলামী আদব মেনে একটি পোস্ট
পোস্ট:
“আলহামদুলিল্লাহ, আজ আমার ছেলে তার স্কুলের বার্ষিক ইসলামিক ক্বিরাত প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছে। আল্লাহ তার মেহনত কবুল করুন এবং সব শিশুর জন্য উত্তম তাওফিক দিন। আমিন।”
(ছবি দিলেও মুখমণ্ডল বা সম্পূর্ণ শরীর না দেখানো যায়, শুধু পুরস্কার বা অনুষ্ঠানের সাধারণ দৃশ্য)
সামগ্রিক পরামর্শ:
· নজর/হাসাদের বিষয়কে অতিমাত্রায় ভয় না করে বরং আল্লাহর উপর তাওয়াক্কুল রাখুন এবং সুন্নতী আমলগুলো পালন করুন।
· শিশুর সাফল্যকে সমাজে ইসলামী মূল্যবোধ প্রচারের মাধ্যম বানানোর চেষ্টা করুন, যেমন: “কুরআন শিখার গুরুত্ব”, “সদাচরণ”, ইত্যাদি।
· অন্যের সন্তানের ব্যর্থতা বা তুলনা কখনই উল্লেখ করবেন না।
মনে রাখবেন: আল্লাহই সর্বোত্তম রক্ষক। শরীয়তের সীমার মধ্যে থেকে সতর্কতা অবলম্বন করুন, তবে ভয় বা আশঙ্কায় আল্লাহর নেয়ামত প্রকাশ থেকে বিরত না হয়ে বরং শুকরিয়ার সঠিক পদ্ধতি মেনে চলুন।