15/06/2026
মাইলের পর মাইল জুড়ে ধূলিঝড়, যেখানে মানুষ চোখ মেলতে ভয় পায়—সেখানে উট চোখের পাতা বন্ধ রেখেই সবকিছু পরিষ্কার দেখতে পায়! কীভাবে?
মরুভূমির জীবন কতটা কঠিন, তা আমরা এসি রুমে বসে কল্পনাও করতে পারব না। একদিকে মাথার ওপর আগুনের মতো তপ্ত সূর্য, পায়ের তলায় ফুটন্ত বালুর সমুদ্র। আর এর চেয়েও ভয়ংকর হলো মরুভূমির ‘ধূলিঝড়’। যখন এই ঝড় ওঠে, তখন বাতাসের সাথে কোটি কোটি ধারালো বালুর কণা বুলেটের গতিতে ধেয়ে আসে। মানুষের চামড়ায় লাগলে তা ছিলে যায়, আর চোখে এক ফোঁটা ঢুকলে অন্ধ হওয়ার জোগাড় হয়।
কিন্তু এই চরম প্রতিকূল পরিবেশেও একটি প্রাণি বছরের পর বছর ধরে বুক ফুলিয়ে রাজত্ব করে বেড়াচ্ছে। বিজ্ঞান তাকে বলে ‘মরুভূমির জাহাজ’—আমাদের অতি পরিচিত উট।
কখনো ভেবেছেন, মরুভূমির এই তীব্র বালিঝড়ের মধ্যে উট কীভাবে মাইলের পর মাইল হেঁটে চলে? তার চোখে কি বালি ঢোকে না? সে কি অন্ধ হয়ে যায় না?
এখানেই লুকিয়ে আছে প্রকৃতির আল্লহা তাআলার অলৌকিক নকশা, সৃষ্টির এক সুনিপুণ মেকানিজম।
উটের চোখকে এমনভাবে ডিজাইন করা হয়েছে, যা মানুষের তৈরি যেকোনো আধুনিক সেফটি চশমাকেও হার মানায়। মানুষের চোখে চোখের পাতা থাকে মাত্র দুটি। কিন্তু উটের চোখে স্পেশাল তিনটি চোখের পাতা (Three eyelids) দেওয়া হয়েছে!
এর মধ্যে দুটি পাতায় রয়েছে লম্বা ও ঘন পাপড়ি, যা জালের মতো কাজ করে বালুকে আটকে দেয়। আর তিন নম্বর পাতাটি হলো পরম বিস্ময়। এটি মূলত একটি পাতলা, স্বচ্ছ পর্দা (Nictitating membrane)।
যখন মরুভূমিতে তীব্র ঝড় শুরু হয়, উট তখন তার এই তিন নম্বর স্বচ্ছ পাতাটি বন্ধ করে দেয়। পর্দাটি কাচের মতো স্বচ্ছ হওয়ায় পাতা বন্ধ থাকা অবস্থাতেও উট সামনে সবকিছু পরিষ্কার দেখতে পায়! কিন্তু বাইরের একটি বালুর কণাও তার চোখের ভেতর ঢুকতে পারে না। ঝড়ের মধ্যেও সে অনায়াসে পথ চলে, যেন সে চোখে কোনো অদৃশ্য উইন্ডশিল্ড বা চশমা পরে আছে!
শুধু কি চোখ? উটের নাকের ফুটো দুটোও প্লাস্টিকের জিপলক ব্যাগের মতো। সে চাইলে নিজের ইচ্ছায় নাক পুরোপুরি লক বা বন্ধ করে দিতে পারে, যাতে শ্বাসের সাথে ফুসফুসে বালি না ঢোকে। আর তার পায়ের নিচে দেওয়া আছে চওড়া, নরম কুশনের মতো চামড়ার প্যাড, যা ফুটন্ত বালির তাপেও পুড়ে যায় না বা বালিতে দেবে যায় না।
পৃথিবীর কোনো শক্তি কি মরুভূমির ওই জনমানবহীন প্রান্তরে উটকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য এই নিখুঁত চশমা, এই বিশেষ জুতো আর এই অভিনব ফিল্টার তৈরি করে দিতে পারে? বা উট কি নিজেই এটা তৈরি করতে পারে? কখনোই না! এই মহাজাগতিক নিখুঁত ডিজাইন আমাদের মনে করিয়ে দেয়—মহাবিশ্বের প্রতিটি সৃষ্টির পেছনে রয়েছে পরম বুদ্ধিমত্তা ও সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা।
সৃষ্টির এই অবিশ্বাস্য ব্যাকরণ আর গভীর বিজ্ঞান আমাদের বারবার মনে করিয়ে দেয়—জ্ঞানার্জনের কোনো বিকল্প নেই। চারপাশের এই জটিল মেকানিজমকে জানতে হলে আগে পড়তে হবে, চোখ মেলে তাকাতে হবে।
জানার দিগন্তকে আরও প্রসারিত করতে এবং সৃষ্টির গভীরতম কোডগুলো উন্মোচন করতে আমাদের বিশেষ আয়োজন ‘পড়ো’ সিরিজ। বিজ্ঞান ও যুক্তির আলোয় চোখ মেলে চারপাশকে নতুন করে আবিষ্কার করতে, এবং বর্তমান সময়ের নানা সমস্যা ও তার কুরআনিক ব্যাখ্যা জানতে—আজই সংগ্রহ করুন সমকালীন প্রকাশনের ‘পড়ো’ সিরিজটি।