24/02/2026
হঠাৎ করেই গাড়িটি স্লো হয়ে গেল। একটি ফোন এলো সামনের সিটে বসা অফিসারের ফোনে। সে বলতে লাগল, ‘হ্যাঁ স্যার, তাকে নিয়ে এসেছি। স্পটে চলে এসেছি আমরা। আপনি চলে আসেন।’
ধীরে ধীরে থেমে গেল গাড়িটি। কিছুক্ষণ পরেই আরেকটি গাড়ির আওয়াজ পেলাম। আগন্তুক গাড়িটি আমাকে বহনকারী গাড়ির পাশে এসে থামল বলে আন্দাজ করলাম। চোখ বাঁধার পর আমার কান যেন অধিক সচকিত হয়ে উঠেছে। চোখের কাজসহ করতে চাচ্ছে কান। প্রতিটি শব্দ সে শুনতে চাচ্ছে গভীর মনোযোগ দিয়ে।
পাশে থামা গাড়িটির শব্দ শুনে বুঝলাম, খুবই ভারী কোনো গাড়ি এসে থেমেছে। পাজেরো অথবা বড়ো কোনো গাড়ির ইঞ্জিনের শব্দ এমন হয়ে থাকে সচরাচর। এরপর সেই গাড়ির দরজা খোলার শব্দ হলো এবং কেউ একজন নেমে এলো গাড়ি থেকে। পাশেই ফিসফিস করে কথা বলছিল তারা। এরপর ড্রাইভারকে নির্দেশ দিলো, ‘তোমরা সেকেন্ড স্টপে চলে যাও।’
গাড়ি আবার চলতে শুরু করল। আনুমানিক ৩০-৪০ মিনিট টানা এভাবে চলল গাড়িটি। এরপর আবার একটি ফোন এলো সেই অফিসারের ফোনে।
আবার গাড়ি চলতে চলতে এসে আরেকটি জায়গায় থামল। ওই অবস্থায় আরেকটি ফোন এলো সেই অফিসারের ফোনে। তাকে আবারও একই কথা বলতে শোনা গেল। কিছুক্ষণের মধ্যেই কয়েকজন লোকের ফিসফিস আওয়াজ শুনতে পেলাম। পূর্বের মতো এবারও আমাকে বহনকারী গাড়ির ড্রাইভারকে নির্দেশ দেওয়া হলো, ‘তুমি এখন থার্ড স্পটে চলে যাও।’
গাড়ি আবার চলতে শুরু করল এবং প্রায় ২০-২৫ মিনিট পর গাড়িটি আরেকটি স্পটে এসে থামল। ড্রাইভার কাউকে ফোন করে বলল, ‘আমরা থার্ড স্পটের দিকে যাচ্ছি। আপনারা ওখানে আসেন।’
এভাবে বেশ কয়েকবার গাড়ি চলল এবং থামল। প্রত্যেকটি স্পটে আসার পরই কেউ না কেউ আমাকে দেখছে এবং ফিসফিস করে কথা বলছে নিজেদের মধ্যে। মনে হলো, আমাকে তুলে আনার এই অপারেশনটা খুবই উচ্চপদস্থ কোথাও থেকে মনিটর করা হচ্ছে এবং তারা বিভিন্ন জায়গায় এই তথ্য দিয়ে যাচ্ছে যে, আমাকে ঠিকঠাক উঠিয়ে আনা হয়েছে। উচ্চপদস্থ লোকজন স্বচক্ষে এসে আমাকে দেখে যাচ্ছে এবং তারা বারবার কনফার্ম করছে যে, আমি সঠিক লোক।
খুব সম্ভব তৃতীয় স্পটের উদ্দেশে গাড়ি চলছিল। একটি জায়গায় এসে গাড়িটি খুব স্লো হয়ে গেল এবং ঘুরে ঘুরে কোথাও ঢুকতে লাগল। আমার ধারণা হলো, সম্ভবত কোনো একটি কম্পাউন্ডের মধ্যে ঢুকছে গাড়িটি। আমি একমনে দুআ-দরুদ পড়ছিলাম এবং মনে মনে বলছিলাম, ‘হে আল্লাহ, আমাকে তুমি রক্ষা করো।’
আমার শরীর থেকে দরদর করে ঘাম ঝরছিল। তারা যদিও আমাকে চোখ বেঁধে বিভিন্ন জায়গায় নিয়ে যাচ্ছ