01/03/2026
বিস্মৃতির অতলে নয়, বিচারের কাঠগড়ায়: রক্তেভেজা বাংলাদেশের আর্তনাদ
একটি দেশের পতাকা কেবল একটি কাপড় নয়, এটি অর্জিত হয় লাখো শহীদের রক্ত আর অগণিত ত্যাগের বিনিময়ে। কিন্তু স্বাধীনতার পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের মানচিত্র বারবার রঞ্জিত হয়েছে নিজের ভাইয়ের রক্তে, মেধাবী সন্তানদের লাশে আর বিচারহীনতার অন্ধকারে। আজ সময় এসেছে সেই ক্ষতগুলোকে স্মরণ করার, কারণ বিস্মৃতি মানেই অপরাধীকে মুক্তি দেওয়া।
বিশ্বজিৎ ও আবরার-
যখন মেধাই হলো অভিশাপ
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেই দর্জি শ্রমিক বিশ্বজিৎ দাসকে কি ভোলা সম্ভব? ২০১২ সালের সেই দিনে প্রকাশ্য দিবালোকে শত শত মানুষের সামনে তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছিল। একইভাবে, বুয়েটের মেধাবী ছাত্র আবরার ফাহাদকে পিটিয়ে হত্যা করা হলো শুধু তার স্বাধীন মতপ্রকাশের কারণে। এই মৃত্যুগুলো কেবল দুটি প্রাণের অবসান ছিল না, এগুলো ছিল আমাদের বিচারব্যবস্থা এবং মানবিকতার ওপর চপেটাঘাত।
পিলখানা ও শাপলা চত্বর-
রাতের আঁধারে হারানো নক্ষত্র
২০০৯ সালের পিলখানা ট্র্যাজেডিতে আমরা হারিয়েছি আমাদের ৫৭ জন চৌকস সেনা কর্মকর্তাকে। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সেই নৃশংস হত্যাকাণ্ড আজও রহস্যের কুয়াশায় ঢাকা।
ঠিক একইভাবে, ২০১৩ সালের মে মাসে মতিঝিল শাপলা চত্বরের সেই বিভীষিকাময় রাত। শত শত আলেম-ওলামা ও ছাত্রদের রক্তে যখন রাজপথ রঞ্জিত হয়েছিল, তখন ক্ষমতার দম্ভে সেই লাশের মিছিলকে আড়াল করার চেষ্টা করা হয়েছিল। সেই কান্না আজও বাংলার আকাশে-বাতাসে প্রতিধ্বনিত হয়।
রাষ্ট্রযন্ত্রের আড়ালে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড-সিনহা ও ফেলানী
কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভে মেজর সিনহা মোঃ রাশেদ খানকে যেভাবে ঠান্ডা মাথায় হত্যা করা হলো, তা রাষ্ট্রযন্ত্রের ভেতরের পচনকে সামনে এনেছিল। অন্যদিকে, সীমান্তের কাঁটাতারে ঝুলে থাকা কিশোরী ফেলানীর নিথর দেহ আজও আমাদের সার্বভৌমত্বের এক বড় ক্ষত। সীমান্তে হত্যা আর বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের প্রতিটি রক্তবিন্দু আমাদের পতাকাকে কলঙ্কিত করছে।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান- মহাকাব্যের নতুন অধ্যায়
২০২৪-এর জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার যে অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান আমরা দেখলাম, তা ছিল দীর্ঘদিনের জমে থাকা ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। আবু সাঈদ, মুগ্ধসহ হাজারো শহীদের রক্ত আর পঙ্গুত্ব বরণ করা তরুণদের আত্মত্যাগ আমাদের এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখিয়েছে। এই মহানায়কদের রক্ত বৃথা যেতে দেওয়া মানেই দেশের সাথে বেইমানি করা।
আমাদের অঙ্গীকার
আমরা কাউকেই ভুলে যাব না। বিস্মৃতি মানেই অন্যায়কে প্রশ্রয় দেওয়া। প্রতিটি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত এই জাতির মুক্তি নেই। যদি আমরা এই রক্তের ঋণ শোধ করতে না পারি, তবে ইতিহাসের কাঠগড়ায় আমাদের দাঁড়াতে হবে। কলঙ্কমুক্ত পতাকার নিচে দাঁড়িয়ে আমরা আজ শপথ নিই—আমরা ভুলিনি, আমরা ভুলব না; আমরা সবার বিচার নিশ্চিত করবই।
শহীদদের রক্ত কথা বলবেই!
#বিচার_চাই #বিস্মৃতির_বিরুদ্ধে #রক্তের_ঋণ #কলঙ্কমুক্ত_বাংলাদেশ
#জুলাই_গণঅভ্যুত্থান #শহীদদের_স্মরণে
#ফ্যাসিবাদ_বিরোধী #ন্যায়বিচার_নিশ্চিত_করুন