03/10/2024
সংস্কার কাজে গতি আনা জরুরি .
সালেক সুফী
সড়কে মহাসড়কে শৃঙ্খলা ফিরে আসে নি. কারণে অকারণে যানজটের কবলে নগরবাসী, শিল্পাঙ্গনে অস্থিরতা কাটে নি ,বাজারে আসে নি কাঙ্খিত স্বস্তি, জ্বালানি কোম্পানিগুলোতে ক্ষোভ বিরাজমান ,জ্বালানি সংকট অব্যাহত, ছাত্র জনতার আন্দোলন কালে আহত নিহতদের অনেকের পরিবার এখনো অসস্তিতে আছে। শিক্ষা। সাস্থ। দুর্নীতি দমন সংস্থা ,জেলা প্রশাসন ,পুলিশ প্রশাসনে গতি আসেনি ,ক্রীড়াঙ্গন অনেকটা স্থবির। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ৬০ দিন অতিবাহিত হয়েছে। জানি এবং মানি ১৫ বছরের ভেঙে পড়া সব কিছু গুছিয়ে গতি ফিরিয়ে আনার অনেক চ্যালেঞ্জ। আর্থিক ,ক্ষেত্র ,ব্যাঙ্ক ,বীমা ধীরে ধীরে ব্যাবসা বিনিয়োগ সহায়ক হয়ে উঠছে। কিন্তু শুল্ক ব্যাবস্থাপনা ,পোর্ট ফ্যাসিলিটিজ ,সড়ক,রেল পরিবহন, জ্বালানি নিরাপত্তা সৃষ্টির জন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার উদ্যোগ নানা প্রতিদ্বন্দ্বিকতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। সরকারের বিভিন্ন স্তরে পূর্ববর্তী সরকারের সুবিধাভোগীরা এখনো তবিয়তে আছে. পরিবর্তনের উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত করছে। একশ্রেণীর জনগোষ্ঠীর মনে ধারণা আন্দোলন করলেই সব কিছু আদায় হবে. তাই সরকারি কাজে গতিশীলতা ফিরে আসে নি. দেশি বিদেশী শিল্প উদ্যোক্তাদের মধ্যে হতাশা দেখেছি। ৬০ দিন হয়তো খুব বেশি সময় না. তবে একেবারে কম বলা যাবে না. পৃথিবী কিন্তু থিম নেই. আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে হলে শিল্প অঞ্চলে দ্রুত স্বস্তি ফিরিয়ে আনতে হবে. গাজীপুর ,আশুলিয়া এলাকায় শিপ্লগুলো এমনিতেই জ্বালানি বিদ্যুৎ সংকটে ভুগছে। এরই মাঝে যুক্ত হয়েছে শ্রমিক অসন্তোষ। আমি কর্মরত শ্রমিকদের সঙ্গে আলাপ করে দেখেছি অধিকাংশ জানাই না শ্রমিক অসন্তোষের কারণ। কিছু মানুষ অশুভ শক্তির ইন্ধনের কথা বলেছে। শ্রমিকদের অধিকাংশ দাবি মেনে নেয়ার পরেও কেন অসন্তোষ? এই ধারা অক্ষুন্ন থাকলে বাংলাদেশী পণ্য অনতিবিলম্বে আন্তর্জাতিক বাজরে প্রতিযোগিতার পরিবেশ হারাবে। জাতীয় স্বার্থেই সকল সংশ্লিষ্ট মহল দ্রুত পরিস্থিতি উন্নয়নে সহায়তা সেটি কামনা করি.
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে অনেক আলোচনা করেছি। দীর্ঘ দিন স্থগিত থাকার পর যেইনা সামিট এনার্জি মালিকানাধীন ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল চালু হলো স্পট মার্কেট থেকে এলএনজি ক্রয়ের প্রক্রিয়া কিছুটা বাধাগ্রস্ত হওয়ায় সঙ্কট কিছু দিনের জন্য বেড়েছিল। যাহোক সরকার দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে দুটি কার্গো ক্রয়ের সিদ্ধান্ত হয়েছে। অচিরেই ৫০০ মিলিয়ন আর এলএনজি যোগ হবে জাতীয় গ্যাস গ্রীডে। ৩০০০-৩১০০ এমএমসিএফডি গ্যাস সঞ্চালন হলে কিছুটা স্বস্তি আসবে বিদ্যুৎ উৎপাদনে ,শিল্পে। শুনছি এবং দেখেছি গভীর রাতে পেট্রল পাম্পগুলোতে সারি সারি কাভার্ড ভাণ দাঁড়িয়ে থেকে সিএনজি সংগ্রহ করছে। এগুলো জ্বালানি সংকটে থাকা শিল্প কারখানা গুলো ব্যবহার করে. সিএনজি চালিত গাড়ি চালকরা অভিযোগ করেছে তারা নির্ধারিত সময়েও সঠিক মোট সিএনজি পাচ্ছে না. এগুলো দেখার কেউ নেই. সরকার অপরিকল্পিত ভাবে ভোলা গ্যাস ক্ষেত্রে গ্যাস সিএনজি করে ঢাকায় আনার একটি প্রকল্প স্থগিত করেছে। গ্যাস উৎপাদনে বড় উৎকণ্ঠার কারণ ১০০০ এমএমসিএডি উৎপাদনকারী শেভ্রন পরিচালিত বিবিয়ানা গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদনে ক্রমহ্রাসমান ধারা দেখে। জাতীয় গ্যাস উৎপাদনে ৫০% র অধিক যোগানদানকারী এই গ্যাস ক্ষেত্রের উৎপাদন দ্রুত কমে গেলে মহা সংকট হতে পারে। অন্নান্ন গ্যাস ক্ষেত্র বা সর্বোচ্চ পরিমান এলএনজি আমদানি করেও সেই মহাসংকট সামাল দেয়া যাবে না. সরকার গৃহীত ৪৮ কূপ অথবা ১০০ গ্যাস কূপ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে পেট্রোবাংলা সফল হবে বলে নিশ্চয়তা নেই. পেট্রোবাংলার ব্যাবস্থাপনার সঙ্গে কয়েকটি কোম্পানির কর্মকর্তাদের সঙ্গে সুসম্পর্ক বিনষ্ট হয়েছে। অচিরেই শীর্ষ ব্যাবস্থাপনা পর্যায়ে পরিবর্তন প্রয়োজন। প্রয়োজনের খাতিরে কিছু প্রকল্প যেমন মহেশখালীর তৃতীয় ভাসমান টার্মিনাল , ভোলা থেকে জাতীয় গ্রীডে গ্যাস সঞ্চালন পাইপ লাইন নির্মাণ , মহেশখালী থেকে তৃতীয় সমান্তরাল পাইপলাইন নির্মাণ ,মাতারবাড়িতে ভূমি ভিত্তিক এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণ বিষয়ে সিদ্ধান্ত প্রয়োজন। পেট্রোবাংলা এবং কোম্পানীসমূহে বিরাজমান বৈষম্যগুলো দ্রুত দূর করা প্রয়োজন। সরকার কাজ করছে কিন্তু সেখানেও গতিহীনতা. জ্বালানি নিশ্চয়তা বিষয়ে দ্রুত সিদ্ধান্ত গ্রহণ জরুরি। নভেম্বর থেকে জানুয়ারী বিদ্যুৎ চাহিদা অপেক্ষাকৃত কম থাকবে। এই সময়ে জ্বালানি বিদ্যুৎ ব্যাবহারে কৃচ্ছতা পরিকল্পনা করে বাস্তবায়ন শুরু হতে পারে। খুঁজতে হবে সাগর থেকে নির্মিত এসপিএম প্রকল্প কেন পুরোমাত্রায় ব্যাবহৃত হচ্ছে না? কি অবস্থা চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা পর্যন্ত নির্মাণাধীন তরল জ্বালানি বহনকারী পাইপ লাইন নির্মাণ প্রকল্পের। অনেকের ধারণা সেনাবাহিনীর সহায়তায় নির্মাণাধীন প্রকল্পে অনেক দুর্নীতি হয়েছে। যাহোক জ্বালানি বিদ্যুৎ খাতের কর্মকান্ড নিয়ে একটি কমিটি কাজ করছে। অচিরেই কিছু ব্যবস্থা গৃহীত হবে বলে আশা করা যেতে পারে।
সরকারকে মেট্রো রেল চলাচল দ্রুত স্বাভাবিক করার জন্য সাধুবাদ দিবো। স্বল্প খরচে ক্ষতিগ্রস্থ স্টেশনগুলো দ্রুত কার্যক্ষম করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ প্রশংসার দাবিদার। আমি নিজে মেট্রো ব্যবহার করি. সরকার দ্রুত মেট্রো সুবিধা সম্প্রসারিত করলে জনগণ উপকৃত হবে. আরো অন্তত দুই জোড়া মেট্রো রেল যোগ করা যায় কিনা ভেবে যেতে পারে। একই সঙ্গে এলিভেটেড এক্সপ্রেসের অবশিষ্ট কাজ কিভাবে দ্রুত শেষ করা যায় বিবেচনা করতে হবে. গাজিপুর থেকে মদনপুর পর্যন্ত নির্মাণাধীন ঢাকা বাইপাসের কাজ ,আশুলিয়া -টাঙ্গাইল রোড এলেভেটেড এক্সপ্রেস হাইওয়ে নির্মাণ কাজ দ্রুত শেষ হয় প্রয়োজন। দেখলাম যমুনা রেল সেতু এবং গ্যাস পাইপলাইন নির্মাণ কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে, ডিসেম্বর ২০২৪ নাগাদ গ্যাস পাইপলাইন সহ রেল সেতু চালু হলে জাতীয় অর্থনীতিতে ব্যাপক অবদান রাখবে.সেদিন সিরাজগঞ্জে চালু এনডব্লিউপিজিসিএলের গ্যাস ভিত্তিক চারটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিদর্শন করলাম। কেন্দ্রগুলো গ্যাস সংকটে ভুগছে। অত্যাধুনিক এই কেন্দ্রগুলোকে চাহিদা মাফিক কিভাবে গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করা যায় সেটি বিবেচনা করার আহবান জানাচ্ছি।
জানি অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কার বিষয়ে অনেক আন্তরিক। সকল ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় ন্যূনতম সংস্কার সম্পাদনের জন্য সরকার প্রশাসনে নির্মোহ থেকে কিছু কঠিন সিদ্ধান্ত দ্রুত নিতে হবে. পূর্ববর্তী সময়ে সুবিধাভোগী কর্মরতদের বহাল রেখে রেখে সেই কাজ গুলো করা সহজ হবে না. পরিকল্পিত ভাবে কাজগুলো দ্রুত করা প্রয়োজন। এই ক্ষেত্রে আগ্রহী প্রবাসী বিশেষজ্ঞদের সহায়তা কামনা করা যেতে পারে। কিন্তু সেই ক্ষেত্রেও সতর্কতা প্রয়োজন।